শরীয়তপুর শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ইং, ১২ মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

আংগারিয়া নদীর তীর থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটা কিছুতেই থামছে না

বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২০ | ৭:১১ পূর্বাহ্ণ | 164 বার

আংগারিয়া নদীর তীর থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটা কিছুতেই থামছে না

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের নদীর তীর থেকে রাতের আধারে মাটিকাটা কিছুতেই থামছে না। ইতোমধ্যে জরিমানার আওতায় আনার পরেও প্রতিদিন রাতের আঁধারে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী মাটি কেটে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে। ঝুঁকিতে পড়ছে নদীর তীর ঘেষে থাকা বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নদীর উপরে নির্মিত সেতু।
আংগারিয়া ইউনিয়নের দাদপুর, দক্ষিন, পশ্চিম ও উত্তর ভাষানচর এলাকায় কীর্তিনাশা নদীর পারের মাটি রাতের আধারে কেটে ট্রলার যোগে মাদারীপুরের ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি কাটার অপরাধে গত ১৫ ডিসেম্বর আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু মন্ডল অভিযান চালিয়ে মাটি বহনকারী তিনটি ট্রলার জব্দ করে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ট্রলার মালিকদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তার পর থেকে সেই ট্রলার মালিকগণ বেপরোয়া ভাবে আবারও মাটি কাটা শুরু করেছে।
স্থানীয় আব্দুল জব্বার সরদার, জলিল মোল্যা, নাছির উদ্দিন মোড়ল, মো. শাহাবুদ্দিন ঢালী, স্কুল ছাত্র তরিকুল ইসলাম সহ ভুক্তভোগীরা জনায়, আংগারিয়া বাজার সহ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কীর্তিনাশা নদী পারের বেরীবাঁধ রাস্তা ও নদীর উপরের নব নির্মিত সেতু হুমকিতে পড়ছে। উত্তর ভাষানচর এলাকায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার মাটি কাটা বন্ধ করা না গেলে নদীর তীর রক্ষা করা সম্ভব না।
বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক আবুল বাশার ফকির বলেন, গত কয়েকদিন পূর্বে আংগারিয়া ফাড়ির পুলিশ তিনটি মাটিকাটার ট্রলার জব্দ করে। পরে ট্রলার মালিকদের ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করে। আমি আদালতের সেই আদেশের সাক্ষি হিসেবে স্বাক্ষর করেছি। কয়েকদিনের ব্যবধানে সেই ট্রলার মালিকগণ পুনরায় নদীর তীর থেকে রাতের আধারে মাটি কাটছে।
নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সেই বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কাছে নদীর তীর রক্ষার জন্য লিখিত আবেদনও করেছেন আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অথচ তার এলাকার লোকজন নদীর তীর থেকে রাতের আধারে মাটি কাটছে তা প্রতিহত করছেন না।
আংগারিয়া পুলিশ ফাড়ির পরিদর্শক মিন্টু মন্ডল বলেন, গভীর রাতে নদীর তীর থেকে মাটি কাটা অবস্থায় তিনটি ট্রলার জব্দ করি। তখন মাটি কাটার শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। এখন আবার নাকি মাটি কাটা শুরু করেছে। আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

:: শেয়ার করুন ::

Comments

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা

error: কপি করা নিষেধ!!