• ব্রেকিং নিউজ

    জাজিরার মিরাশার চাষী বাজারটি ধ্বংস করার পায়তারা

    রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক

    প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০১৮ সময়: ১:১৮ অপরাহ্ণ 1232 বার

    জাজিরার মিরাশার চাষী বাজারটি ধ্বংস করার পায়তারা

    জাজিরার মিরাশার চাষী বাজারটি যখন সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে তখন বাজারটি ২০০৮ সালে কৃষিপণ্যের ন্যায্যদাম নিশ্চিত করতে ৩২ শতক জমির ওপর জাজিরার মিরাশার চাষি বাজারটি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এর আয়তন ৬৬ শতক। নয় বছরের ব্যবধানে মিরাশার চাষি বাজারটি এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় কৃষি বাজারে পরিণত হয়েছে। দিন দিন মিরাশার চাষি বাজারের প্রসার বাড়ছে। মিরাশার চাষি বাজারটি যখন সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে তখন বাজারটি ধ্বংস করার পায়তারা করছে কিছু অসাধু লোক। জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আহমেদ তথা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ২০০৮ সালে প্রান্তিক কৃষকদের সার্বিক উন্নয়ন এবং উন্নতির কথা চিন্তা করে হাজারো কৃষকদের উপস্থিতিতে মিরাষার চাষি বাজার সমবায় সমিতি লিমিটেড উদ্বোধন করেন। লক্ষ্য ছিল অসহায় গরীব, অবহেলিত কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়ন, শ্লোগান ছিল বাঁচাও কৃষক বাঁচাও দেশ, বাঁচবে কৃষক বাচবে দেশ লক্ষ্যকে নিয়ে অধ্যবদি বাজারের কার্যক্রম চলে আসছে। তৎকালীন সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কৃষকদের উৎপাদিত পন্য সামগ্রী ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করার জন্য ওই বাজারে দুটি ট্রাক্টর ও নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। মিরাষার চাষি বাজার সমবায় সমিতি লিমিটেড সমবায় অধিদফতর কর্তৃক নিবন্ধিত। যার নিবন্ধন নম্বর ০০০০৫-২০০৮। এ বাজারে কৃষক ও ক্রেতার নিকট হতে কোন খাজনা ও টোল আদায় করা হয় না। ফলে ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে লাউ, বেগুন, করল্লা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন পন্য কাটা সবজি, তরি তরকারি ক্রয় বিক্রয় করতে পারে। মিরাষার চাষি বাজার সমবায় সমিতি লিমিটেড এর দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার দুরে অবস্থিত ডুবিসায়বর বন্দর (কাজির হাট) যেখানে সপ্তাহে দুইদিন হাট বসে। ওই এলাকায় যে ফসল ফলে তা দুইদিনে ক্রয়-বিক্রি করা সম্ভব নয়। দুইদিন হাট বসায় উৎপাদিত কাটা সবজি, তরি তরকারি পচে কৃষকদের ক্ষতির সম্মূক্ষিন হতে হয়। শুধু তাই নয় ডুবিসায়বর বন্দর (কাজির হাটে) কৃষক ও ক্রেতার নিকট হতে খাজনা ও টোল আদায় করা হয়। আর মিরাষার চাষি বাজারে প্রতিদিন হাট বসার ফলে কৃষকদের উৎপাদিত কাটা সবজি, তরি তরকারি সঠিকভাবে ক্রয় বিক্রি হচ্ছে। যার ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। ফসলও বেশি ফলাচ্ছে। মিরাশার চাষী বাজারটি যখন সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাজারটি ধ্বংস করার পায়তারা করছে ডুবিসায়বর বন্দর (কাজির হাটের) ইজারাদার মোকলেছুর রহমান মাদবর, সহযোগী সিরাজ ফকির, জিয়া মেম্বারগংরা। মিরাষার চাষি বাজার সমবায় সমিতি লিমিটেড বিরুদ্ধে মোকলেছুর রহমানগং বাদী হয়ে জাজিরা সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা করেছে। যাতে মিরাষার চাষি বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। কৃষকদের লুটে পুটে খেতে পারে। বর্তমানে মিরাষার চাষি বাজার সমবায় সমিতি লিমিটেডের কিছু ক্রেতাদেরকে ভয়ভিতি দেখিয়ে মোকলেছুর রহমানগংরা ডুবিসায়বর বন্দর (কাজির হাট) বাজারে নিতে বাধ্য করেছে। কাজিরহাট বাজারে সপ্তাহে রোববার ও বৃহস্পতিবার হাট বসার কথা। কিন্তু মোকলেছুর রহমানগংরা প্রতিদিন কৃষকদের উৎপাদিত পন্য ক্রয় বিক্রয় করছে এবং খাজনা ও টোল আদায় করছে। যা আইন পরিপন্থি। মিরাষার চাষি বাজারের কৃষকরা জানান, মিরাষার চাষি বাজারে আমরা পন্য বিক্রি করতে চাই। কারণ এখানে আমাদের কাছ থেকে কোন টোল ও খাজনা নেয়া হয় না। তাই পন্য বিক্রি করে আমরা লাভবান হই। মিরাষার চাষি বাজার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. রতন কাজী বলেন, আমাদের বাজারের ক্রেতা ইসমাইল মোল্লা, জলিল মাদবর, লুৎফর খান তারা প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার কাজির হাটে আড়তদারী করে। আর প্রতিদিন মিরাষার চাষি বাজারে তারা ক্রয়-বিক্রয় করে। মিরাষার চাষি বাজারে প্রতিদিন তারা ক্রয়-বিক্রয় করে বলে, কাজীরহাট বাজারের আড়তদার মোকলেছুর রহমান মাদবরগংরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা মেরে দিয়েছে। তারা বলেছে কাজীরহাট বাজারে আড়তদারী করতে আসতে পারবানা। আমরা এর তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি আইনের সহযোগীতা চাচ্ছি। ডুবিসায়বর বন্দর (কাজির হাটের) ইজারাদার মোকলেছুর রহমান মাদবরের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি।

    :: শেয়ার করুন ::

    Comments

    comments

    সংবাদটি ফেইসবুকে শেয়ার করুন

    দৈনিক রুদ্রবার্তা/শরীয়তপুর/০৬ জুন ২০১৮/


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে দৈনিক রুদ্রবার্তা

  • error: নিউজ কপি করা নিষেধ!!