• ব্রেকিং নিউজ

    জাজিরায় সরকারি স্কুল ভবন পদ্মায় বিলীন, টিনের ঘরে চলছে পাঠ দান

    রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক

    প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৮ সময়: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ 619 বার

    জাজিরায় সরকারি স্কুল ভবন পদ্মায় বিলীন, টিনের ঘরে চলছে পাঠ দান

    জাজিরার উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে তিন তলা বিশিষ্ট সরকারি স্কুল ভবন বিলীন হওয়ার পর নতুন নির্মিত ৪ কক্ষ বিশিষ্ট টিন সেটে চলছে পাঠ দান। ছবি- দৈনিক রুদ্রবার্তা

    শরীয়তপুর জেলার জাজিরার উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে তিন তলা বিশিষ্ট সরকারি স্কুল ভবন বিলীন হওয়ার পর নতুন নির্মিত ৪ কক্ষ বিশিষ্ট টিন সেটে চলছে পাঠ দান। বিদ্যালয়টি পাঠদানের যথা উপযোগী করার দাবী শিক্ষার্থীদের।
    গত বছরের সেপ্টম্বর মাসে জাজিরা উপজেলার ১৩ নং কুন্ডেরচর কালু বেপারী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা বিশিষ্ট ভবন পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এরপর বিদ্যায়টির অস্থায়ী কার্যক্রম বিলাপুর ইউনিয়নের পাচুখার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে যৌথভাবে চলে। সেখানে ৩ মাস যৌথভাবে স্কুল চালানোর পর চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে পাচুখার কান্দির দক্ষিন প্রান্তে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট টিনসেট ভবন করে ১৩ নং কুন্ডেরচর কালু বেপারী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হয়। এরপর থেকে সেখানেই চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান।
    ৪ কক্ষ বিশিষ্ট টিনসেট স্কুল ভবন নির্মাণ করা হলেও এখন পর্যন্ত স্কুলটির ভিতরে মাটি ফেলা হয়নি। এমন অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। সামান্য বৃষ্টি এলেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান কক্ষ। বিড়াল-কুকুর, ছাগল অনায়েশে বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করতে পারে। হাস-মুরগী শ্রেণী কক্ষের চেয়ার-টেবিল ও বেঞ্চের উপর মল ত্যাগ করে। নানা সমস্যায় জর্জরিত স্কুলটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীগণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
    পদ্মার ভাঙনে বিলিন হওয়ার পূর্বে বিদ্যালয়টি জাজিরা উপজেলার সনামধন্য কতিপয় বিদ্যালয়ের তালিকায় ছিল। শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ২৫০ জনেরও বেশী। বিভিন্ন সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় একশত শিক্ষার্থী কমে বর্তমানে শিক্ষার্থী দাড়িয়েছে ১৬৫ জনে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার নিতান্ত গরীব শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের একমাত্র বিদ্যাপিঠ ১৩ নং কালু বেপারীর কান্দি সরকারি পাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে না আনলে অচিরেই বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী শূণ্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শত কষ্টের মধ্যেও তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের এখন একটাই দাবি যাতে মাটি দিয়ে বিদ্যালয়টির মেঝে ভরাট করে দেন। তাহলেও কোন রকমে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
    স্কুলের শিক্ষাথী মেহেদী হাসান, মীম, রাবেয়া, আবির বলেন, শ্রেণী কক্ষ রাস্তার চাইতে নিচু তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই মেঝেতে পানি জমে কাঁদা হয়ে যায়। শ্রেণী কক্ষের বেড়া মাটি থেকে প্রায় দেড়ফুট উপরে থাকায় কুকুর-বিড়াল, চাগল, হাস-মুরগী সহজেই শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিল ও বেঞ্চের উপর ওঠে। পায়খানা প্র¯্রাব করে একাকার করে ফেলে। এখন সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই শ্রেণী কক্ষ কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে যায়। শীতের সময় বেড়ার নিচ দিয়ে হুঁহুঁ করে শ্রেণী কক্ষে হীমেল বাতাস প্রবেশ করে। তখন আর পড়াশুনার পরিবেশ থাকে না। আমরা নদী ভাঙ্গন এলাকায় বসবাস করি। এ বিদ্যালয় ছাড়া আমাদের পড়াশুনার আর বিকল্প ব্যবস্থা নাই। বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষ সমস্যা সমাধান না করা হলে আমরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হব।
    প্রধান শিক্ষিকা তাহমিনা লাভলী বলেন, ১৩ নং কুন্ডেরচর কালু বেপারী কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আগে ছিলো ৩ তলা বিশিষ্ট পাকা ভবন। সেখানে কোন কিছুর অভাব ছিলো না। গত বছর পদ্মার ভাঙনে স্কুলটি বিলিন হয়ে গেলে আমাদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ৩ মাস একটি স্কুলের সাথে শেয়ার করে আমাদের কার্যক্রম চালিয়েছি। ৩ মাস পর আমরা টিন ও কাঠ দিয়ে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট একটি স্কুলঘর নির্মাণ করেছি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে শ্রেনীকক্ষে মাটি ফেলা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ঝাড় বৃষ্টি হলেই বৃষ্টি ঝাপটা এসে আমাদের সক কিছু ভিজিয়ে দেয়। কক্ষের ভিতরে কাঁদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। আমার বসত ঘরে স্কুলের অফিসিয়াল কাজকর্ম চালাচ্ছি। এ অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের ধরে রাখা খুই কষ্টকর। এখন যদি শুধু শ্রেণীকক্ষে মাটি ফেলানোর ব্যবস্থা করা যেতো তাহলে কোনমতে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যেতো।
    এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ হাফিজুর রহমান বলেন, একটা ভাড়া জমিতে টিন শেট ঘর নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কেউ জমি দিলে স্থায়ী পাঁকা ভবন নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে এত বড় সমস্যার মধ্য দিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদন করে তা আমাকে কেউ জানায়নি। আমি কাল খোঁজ নিয়ে দেখব এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

    :: শেয়ার করুন ::

    Comments

    comments

    সংবাদটি ফেইসবুকে শেয়ার করুন

    দৈনিক রুদ্রবার্তা/শরীয়তপুর/১২ জুলাই ২০১৮/


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে দৈনিক রুদ্রবার্তা

  • error: নিউজ কপি করা নিষেধ!!