• ব্রেকিং নিউজ

    চোর ডাকাত গণধোলাইতে মারা গেলে মামলা হবে না: ওসি পালং

    রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক

    প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৮ সময়: ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ 464 বার

    চোর ডাকাত গণধোলাইতে মারা গেলে মামলা হবে না: ওসি পালং

    পালং ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের আয়োজনে আইন শৃঙ্খলা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পালং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চোর ডাকাত হাতেনাতে ধারা পর উত্তেজিত জনতার গণধোলাইতে মারাগেলে কোন মামলা হবে না।
    তিনি বলেন, চারটি ধারনার উপর কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম সৃষ্টি হয়েছে। কমিউনিটির জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে ভালো লোকদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম গঠন হয়। যেমন-প্রো-একটিভ পুলিশিং, কমিউনিটি বেজ পুলিশিং, প্রোবলেম সলভিং পুলিশিং ও রিএ্যাকটিভ পুলিশিং। প্রো-একটিভ পুলিশিং এর কজ হলো অপরাধ ঘটতেই দেয়া যাবে না। কমিউনিটি বেজ পুলিশিং কমিউনিটির লোকদের নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাশ্রম সংগঠন। প্রবলেম সলভিং পুলিশিং অপরাধে কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহন করে। রিএ্যাকটিভ পুলিশিং হলো অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পরে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
    তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, জাসদ-সর্বহারা-গণবাহিনীর ভয়ে আপনারা মুখ খুলছেন না। এখন সেই সময়ের পরিবর্তণ হয়েছে। আগে সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে যেতো। এখন জনবান্ধব পুলিশ আপনাদের কাছে আসে। আমার এলাকায় একটা ঘটনা ঘটলে চোখ বন্ধকরে বলতে পারি এর সাথে কে জড়িত। আপনারাও বলতে পারেন আপনার এলাকায় সংগঠিত ডাকাতির সাথে কে জড়িত। কে চুরি করে, কে ইভটিজিং করে, কে মাদক বিক্রি করে। আপনারা ভয় পেলে গোপনে পুলিশকে জানাবেন।
    আপনারা যখন জমিতে আবাদ করেন তখন আগাছা কেটে ফেলেন। আগাছা মরে যায়। আপনারা কি সমাজ থেকে আগাছা কেটে ফেলতে পারবেন? তাহলে আগাছা মরে যাবে। আমি আরও পরিস্কার করছি। চুরি বা ডাকাতি করতে গিয়ে যদি কেউ হাতেনাতে ধরা পরে আমাকে খবর দিবেন। আমি ইচ্ছা করে ১ ঘন্টা পরে আসব। চোর ডাকাতের মাথায় সাবল দিয়ে বারি মারবেন। চুন-ছোডা চোখের মধ্যে ঢেলে দিবেন। আমি হাসপাতালে নিয়ে যাব। ডাক্তার ইনজেকশন দেয়ার আগেই চোর ডাকাত মারা যাবে। আমি সুরতহাল রিপোর্ট করব। চোর-ডাকাত হাতেনাতে ধরতে হবে শত্রুতামূলক না। রুদ্রকরের উত্তর চররোসুন্দি গ্রামে ৪ কসাই ডাকাত ধরে মেরে ফেলছে। আমি জানি কে মেরেছে। আমি ফাইনাল রিপর্ট দিয়েছি। উত্তেজিত জনতা ডাকাত ধরে মেরে ফেললে কিছু হবে না।
    ১ রমজান থেকে মাদকের অভিযান শুরু হয়েছে। দেশে নামে বে-নামে, অনামে-কুনামে কয়েক হাজার লোক নাই হয়ে গেছে। এখন মাদকের প্রসার খুব কম। আমি গত মাসে পালং থানার সকল এলাকা ঘুরেও একটা মাদকের মামলা দিতে পারিনি। কানার বাজার এলাকায় যে মাদকের প্রভাব ছিল তাও এখন নাই।
    তিনি পুলিশের উদ্দেশ্যে বলেন, একসময় মাদকের ব্যবসা পুলিশ করিয়েছে। ১৯৯৭ সন থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত পুলিশ মাদক ব্যবসায়ীদের বলত ব্যবসা কর। পুলিশ টাকা পয়সা নিত। এখন মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সবচাইতে বেশী তৎপর। মাদকের সাথে পুলিশ জড়িত থাকলে আমাকে জানাবেন। আমি কঠিন ব্যবস্থা গ্রহন করব। আমাকে ফোনে সংবাদ দিবেন। আমি পরিচয় গোপন রেখে কাজ করব।
    জুয়ারির উদ্দেশ্যে বলেন, জুয়াারিরা খুব তৎপর থাকে। জুয়ায় বসার আগে চারপাশে গার্ড বসায়। পুলিশ আসার সংবাদ পেলে তারা পালিয়ে যায়। আমার পুলিশকে নির্দেশ দেয়া আছে জুয়ারি ধরতে না পারলে শর্টগান দিয়ে গুরি করে দিবে। তাহলে ওই এলাকায় আর জুয়া বসবে না।
    এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, পালং থানার ওসির ফোন নম্বর মোবাইলের ডায়াল তালিকায় রাখবেন। চোর ডাকাতের আলাপ পেলেই ফোন করবেন। আপনার আত্মিয়ের চাইতে পালং থানার ওসি আপনার আপন। ওসির ফোন নম্বরে রাত ৩টার সময় ফোন করলেও সাড়া পাবেন। কিন্তু আপনার আত্মিয়ের নম্বরে একাধিক ফোন করে সাড়া নাও পেতে পারেন। পুলিশকে ভয় পাবার কিছুই নাই। পুলিশই আপনাদের প্রকৃত বন্ধু।
    অফিসার ইনচার্জ (অপারেসন্স ও কমিউনিটি পুলিশিং) আশরাফুল ইসলাম বলেন, আপনাদের আশপাশে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আপনাদের এলাকা হয়তো বাদ বড়েছে। ৩ জন ডাকাত চিহ্নিত হয়েছে। এরা আপনাদেরই সন্তান। এ ছাড়াও আটং মোড় থেকে ৬গাঁও রোডে কিছু ছোটখাট ঘটনা ঘটেছে। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনতে পারিনি। তবে নিরাশ হওয়ার কিছুই নাই। খুব শীঘ্রই অপরাধীরা ধরা পরবে। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করতে আপনাদের সহায়তা কামনা করছি। এ ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৭ থেকে ১০ জনের টিম করে এলাকায় পুলিশের সাথে সহায়তা করবেন। তাহলে অপরাধ ও অপরাধী উভয়ই সচেতন হবে এবং এলাকা অপরাধ মুক্ত হবে।
    শনিবার সন্ধ্যায় কানার বাজারে অনুষ্ঠিত কমিউনিট পুলিশিং সভায় সভাপত্বি করেন পালং ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি খন্দকার নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অফিসার ইনচাজং (অপারেসন্স ও কমিউনিটি পুলিশিং) আশরাফুল ইসলাম, শরীয়তপুর পৌরসভা কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি এমএ মজলিস খান, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার সেলিম আকন, পালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হোসেন দেওয়ান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সুলতান মুন্সী। এলাকাবাসীর মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাজ্জাদ হোসেন লাভলু শাহ, আব্দুর রহমান, সেলিম সিকদার, মজিদ সিকদার, শিবু খলিফা প্রমূখ। সভায় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর সিদ্দিক চোকদার, মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন শাহ, সাংবাদিক মানিক মোল্যা প্রমূখ।

    :: শেয়ার করুন ::

    Comments

    comments

    সংবাদটি ফেইসবুকে শেয়ার করুন

    দৈনিক রুদ্রবার্তা/শরীয়তপুর/০৬ নভেম্বর ২০১৮/


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে দৈনিক রুদ্রবার্তা

  • error: নিউজ কপি করা নিষেধ!!