• ব্রেকিং নিউজ

    শরীয়তপুরে অগ্নিকান্ডে নিহত কলেজ ছাত্র বিশ্বজিত পার্টটাইম চাকুরি করতো

    রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক

    প্রকাশিত: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮ সময়: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ 10 বার

    শরীয়তপুরে অগ্নিকান্ডে নিহত কলেজ ছাত্র বিশ্বজিত পার্টটাইম চাকুরি করতো

    হতদরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহনের পর ভাগ্যের সাথে নিয়মিত যুদ্ধ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চেয়েছিল ১৭ বছরের তরুণ কিশোর বিশ্বজিৎ সরকার। পরিবারের অস্বচ্ছলতা ও দারিদ্রতা দমিয়ে রাখতে পারেনি উদ্যোমী এ কিশোরকে। সে নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখতো। শত কষ্টের মাঝেও পড়ালেখা থেকে ছিটকে পড়েনি বিশ্বজিৎ। অবশেষে নির্মম নিয়তি তার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই আগুনে পুড়িয়ে বিশ্বজিতকে কাছে টেনে নিল।
    মাদারীপুর জেলার বাহাদুরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মানবিক বিভাগ থেকে এ মাইনাস (৩.৬৯ গ্রেড) পেয়ে কৃতিত্বের সাথে পাশ করে বিশ্বজিৎ। এইচএসসি তে এ.বি.সি.কে সৈয়দ আবুল হোসেন মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হয় সে। এ বছর বিশ্বজিত দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
    মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের হতদরিদ্র রবি সরকারের ৩ সন্তানের মধ্যে বিশ্বজিৎ ছোট। রবি সরকার একজন কির্ত্তণ (হরে কৃষ্ণ) সংগীত শিল্পী। তিনি বায়না পেলে বিভিন্ন জেলায় কির্ত্তণ করে বেড়ায়। দারিদ্রতা ঘোচাতে তার সাথে বড় মেয়ে শিল্পী সরকারকে কির্ত্তণের শিল্পী হিসেবে রাখেন। অপর ছেলে কৃষ্ণ সরকার সরকারি মাহমুদ কলেজে সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্র। বছরের কয়েক দিন কির্ত্তণ করে যে আয় হয় তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলে রবি সরকারের। দারিদ্রতার কারনে একমাত্র মেয়েকে পড়ালেখা করাতে পারেনি রবি সরকার। এখন মেয়ে শিল্পীও একজন হরেকৃষ্ণ কির্ত্তণ শিল্পী হিসেবে পিতার কাজে সহায়তা করে।
    পরিবারে অভাব অনটন দেখে বিশ্বজিৎ পড়ালেখার পাশাপশি সময় সুযোগ মতো পার্টাইম হিসেবে কাজ করতো। যে পারিশ্রমিক পেতো তা দিয়েই নিজের পড়াশুনা চালিয়ে যেতো। কলেজ বন্ধ পড়লে শরীয়তপুর জেলার পালং বাজারের গোপাল ঘোষ সুইটমিট এ এসে পার্টটাইম কাজ করতো। গোপাল ঘোষের সাথে বিশ্বজিতের সুসম্পর্ক সৃষ্টি হওয়ায় কলেজের বড় কোন বন্ধ পেলেই গোপাল ঘোষের মিষ্টির দোকানে এসে পার্টটাইম কাজ শুরু করতো বিশ্বজিত। কলেজ খোলা পড়লে আবার চলে যায়। গত ১৫ দিন পূর্বে বিশ্বজিৎ এসে গোপাল ঘোষ সুইটমিটে যোগদান করে। শুক্রবার রাতে গোপাল ঘোষের মিষ্টির দোকান আগুনে পুড়ে যায়। সেই সাথে বিশ্বজিৎ ও তার সহকর্মী পলাশ বৈরাগী পুড়ে মারা যায়। একই সাথে পুড়ে যায় বিশ্বজিতের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন। বিশ্বজিৎ এখন দারিদ্রতা থেকে অনেক দূরে। দারিদ্রতা আর বিশ্বজিতকে ছুঁতে পারবে না।
    বিশ্বজিতের বড় ভাই অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র কৃষ্ণ সরকার অশ্রু বিজড়িত কন্ঠে বলে, তাদের আত্মীয় একই গ্রামের সুকচান বৈরাগীর ছেলে পলাশ বৈরাগী গোপাল ঘোষের দোকানে ১ যুগ ধরে কাজ করে। পলাশের হাত ধরেই বিশ্বজিৎ গোপাল ঘোষের মিষ্টির দোকানে কাজে আসে। ভাগ্যের নির্মম পরিস্থিতি আজ এ অবস্থায় তাদের দু’জনকেই কেড়ে নিয়েছে। আমার বাবা রবি সরকার ও বোন শিল্পী এখন হরে কৃষ্ণ কির্ত্তণ করতে সিলেটে অবস্থান করছে। ভাইয়ের লাশ নিতে শরীয়তপুরে এসেছি। শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ আমাকে অনেক সহায়তা করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। ভাইয়ের মরদেহ নিয়ে আমাদের বাড়িতে শেষ কৃত্তি করবো। দোকান মালিক গোপাল ঘোষের কাছ থেকেও অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। আমার ভাইকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছি তাকে আরতো পাবো না। দারিদ্রতা থেকে আমার ভাই অনেক দূরে। দারিদ্রতা আর আমার ভাইয়ের পিছু নিতে পারবে না। বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে কৃষ্ণ সরকার।

    :: শেয়ার করুন ::

    Comments

    comments

    সংবাদটি ফেইসবুকে শেয়ার করুন

    দৈনিক রুদ্রবার্তা/শরীয়তপুর/০৩ ডিসেম্বর ২০১৮/


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক রুদ্রবার্তা

  • error: নিউজ কপি করা নিষেধ!!