শরীয়তপুর রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, ১০ ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
আজ রবিবার | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং

শরীয়তপুর জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত হয়েছেন রনজিৎ কুমার দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৮:৩০ অপরাহ্ণ | 181 বার

শরীয়তপুর জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত হয়েছেন রনজিৎ কুমার দাস

শরীয়তপুর জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত হয়েছেন শরীয়তপুর শহরে অবস্থিত শরীয়তপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন ৫৭নং ধানুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস। গত ৩রা ডিসেম্বর মঙ্গলবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা আবুল কালাম আজাদের সাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ৫৭নং ধানুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস কে অবহিত করা হয় যে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত হয়েছেন। ইতিপূর্বে তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত হয়েছিলেন। শরীয়তপুর সদর উপজেলা সহ শরীয়তপুর জেলায় আরো বাকি যে ৫ টি উপজেলা রয়েছে সেই উপজেলা গুলোতে যে সকল প্রধান শিক্ষক স্ব স্ব উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে থেকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত হয়েছেন রনজিৎ কুমার দাস।
শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত রনজিৎ কুমার দাস অত্যন্ত ন¤্র, ভদ্র, শিক্ষানুরাগী, বিনয়ী আচরণের একজন সাদামাটা মানুষ। রনজিৎ কুমার দাস ১৯৭১ সালে ২১শে নভেম্বর শরীয়তপুর সদর উপজেলার ধানুকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম কালিপদ দাস এবং মাতার নাম খেলা রানী দাস। শিক্ষা জীবনে তিনি সুনামের সহিত ঐতিহ্যবাহী পালং তুলাসার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক এবং শরীয়তপুর সরকারি কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপরে তিনি ঢাকায় অবস্থিত ঢাকা মেট্রোপলিটন টিচার্স ট্রেনিং কলেজ হতে অত্যন্ত সুনামের সহিত বি এড ডিগ্রী অর্জন করেন।
রনজিৎ কুমার দাস ২০০৩ সালের ১৭ই আগস্ট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি চাকরির শুরুতে নড়িয়া উপজেলার চরনড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এরপরে তার চাকুরীর দ্বিতীয় কর্মস্থল পশ্চিম চররোসুন্দী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বেশ কয়েক বছর পূর্ববর্তী দুটি বিদ্যালয়ে অত্যন্ত সুনামের সহিত দায়িত্ব পালনের পরে ২০১৬ সালের ৩১শে মার্চ যোগদান করেন ৫৭নং ধানুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত এবং তার স্ত্রী শিখা রানী দাসও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকা। তিনি ৬৯নং চরসোনামুখী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা।
শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত রনজিৎ কুমার দাস বলেন, আমাকে শরীয়তপুর জেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক মনোনীত করায় প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি সদা সর্বদা চেষ্টা করি যাতে ৫৭নং ধানুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শরীয়তপুর জেলার মধ্যে অন্যতম আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে। বর্তমানে এ স্কুলে শিশু শ্রেনী হতে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত ৭০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে ১৪ জন। আমাদের বিদ্যালয়ে প্রতিবছর ৫ম শ্রেনীর সমাপনী পরীক্ষায় ২০ থেকে ২৫ টি জিপিএ ৫ অর্থাৎ এ+ পায় এবং ট্যালেন্টফুল, সাধারণ মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়। এ সফলতার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে প্রতিনিয়ত শ্রেনীর পাঠদান কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত পাঠদান করা। ইতিপূর্বে বিদ্যালয়ের মূল ভবন ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় আমরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে তাদের ক্লাস নিতে খুবই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। এরপরে সরকারী কিছু অনুদান, আমার নিজের অর্থায়ন, সহকারী শিক্ষকদের এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে ১০টি শ্রেনীকক্ষ তৈরি করে শ্রেনীর পাঠদান কার্যক্রম চলমান রাখি। বিদ্যালয়ের মূল ভবন ঝুঁকিপূর্ন হওয়ার কারনে যখন পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। তখনও একদিনের জন্য ও শ্রেনীর পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হতে দেই নি।

:: শেয়ার করুন ::

Comments

comments


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  
ফেইসবুক পাতা

error: কপি করা নিষেধ!!