• ব্রেকিং নিউজ

    জাজিরায় একই ছাদের নিচে বসবাস করেও স্ত্রী অপহরণ মামলার আসামী স্বামী

    রুদ্রবার্তা প্রতিবেদক

    প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সময়: ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ 40 বার

    মুসলিম আইন অনুসারে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একই ছাদের নিচে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছে নবদম্পতি। তবুও স্ত্রীকে অপহরণের দায়ে মামলার আসামী হয়েছেন স্বামী। এই ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ছোট গোপালপুর গ্রামে।
    জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের ফজু মছাদ মাদবর কান্দি গ্রামের মৃত জয়নাল মাদবরের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার শান্তা একই উপজেলার ছোট গোপালপুর গ্রামের হামেদ মাদবরের ছেলে লিটন মাদবরের সাথে প্রেমের টানে বাড়ি ছেড়েছে। ঢাকায় গিয়ে গোপনে ২২ জানুয়ারি তারিখে নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে হলফ নামা ও ২লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে কাবিন রেজিষ্টিসহ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তারা।
    এদিকে সুমাইয়া আক্তার শান্তার চাচা আক্কাছ মাদবর বাদী হয়ে ২২ জানুয়ারি লিটন মাদবর ও তার ভাই রিপন মাদবরসহ ৪ জনকে আসামী করে জাজিরা থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেছে। লিটন মাদবর উক্ত মামলায় উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেছেন। আদালত লিটন মাদবকে নিন্ম আদালতে হাজির হতে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
    সুমাইয়া আক্তার শান্তা প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, আমার বাবা নেই। আমার মা ও চাচা আক্কাছ মাদবর, ছোট চাচা স্বপন মাদবর, ফুপা ইদ্রিস মাদবর, চাচাতো ভাই সালাম মাদবরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে নিয়ে টাকা লোভে ইতালী প্রবাসী এক ছেলের সাথে আমাকে বিয়ে দিতে রাজি হয়। বিগত সময়ে কাবিন রেজিষ্ট্রি ছাড়া একাধিকবার মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার আলাউদ্দিন মোড়লের পুত্র ইতালী প্রবাসী মোশারফ মোড়লের বাড়িতে জোরপূর্বক আমাকে যেতে বাধ্য করতো। পরিবারের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি তিন বৎসর যাবৎ পরিবারের সদস্যদের বার বার বলেছি ইতালী প্রবাসী ছেলেকে বিয়ে করবো না। কিন্তু তারা আমার কোন কথাই শুনতো না। ইতোপূর্বে আমি আমার বর্তমান স্বামী লিটন মাদবরের কাছে একাধিকবার চলে আসি। একবার পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে আমার অভিভাবক আমাকে ছাড়িয়ে এনে আবার জোর করে বিয়ে দিতে উদ্ধত হয়। তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় আমাকে পুনরায় নির্যাতন শুরু করে। এরপর আমি স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে লিটন মাদবরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই।
    লিটন মাদবর বলেন, আমি জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য। সুমাইয়ার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একদিন বাজারে শতাধিক মানুষের মধ্যে সুমাইয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, “আমাকে বিয়ে করেন, নয়তো ওরা আমাকে জোর করে অন্যত্র বিয়ে দিবে। আপনি আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করব”। সেইদিন বিষয়টি জানাজানি হয়। পুলিশ এসে সুমাইয়াকে থানায় নিয়ে যায়। সুমাইয়ার অভিভাবক থানা থেকে সুমাইয়াকে জিম্মায় এনে আবার জোর করে বিয়ে দিতে চাইলে সুমাইয়া আমার কাছে পালিয়ে আসে। পরে আমি সুমাইয়াকে বিয়ে করি। এখন আমার নামে অপহরণের মামলা দিয়ে আমাকে হয়রাণী করছে সুমাইয়ার পরিবার।
    জাজিরা থানা অফিসার ইনচার্জ মো বেলায়েত হোসেন বলেন, আসামী লিটন মাদবর ছুমাইয়া আক্তার নামে অপ্রাপ্ত বয়স্কা স্কুল পড়–য়া একটা মেয়েকে ফুসলাইয়া ভাগাইয়া নিয়ে আত্মগোপন করেছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

    :: শেয়ার করুন ::

    Comments

    comments

    সংবাদটি ফেইসবুকে শেয়ার করুন

    দৈনিক রুদ্রবার্তা/শরীয়তপুর/২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত


    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক রুদ্রবার্তা

  • error: নিউজ কপি করা নিষেধ!!