শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং, ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী
শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

শরীয়তপুরের ২জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা, দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়কে প্রাণ গেলো

শরীয়তপুরের ২জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা, দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়কে প্রাণ গেলো

শরীয়তপুরের ২ যুবক নিহত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় । প্রাণ হারানো ওই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা হলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের আয়ুব আলী খানের ছোট ছেলে মোঃ সুলাইমান খান (৩২) ও ডামুড্যা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বিশাকুড়ি গ্রামের মৃত শওকত আলীর তালুকদারের একমাত্র ছেলে মোঃ নাঈম ইসলাম তালুকদার (২৮)।

রবিবার (০৮ আগষ্ট) স্থানীয় সময় সাড়ে ৩ টায় ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন তিন বন্ধু। এ সময় ক্যাপ্টেন শহরের ভিলেজড্রপ থেকে খারাবো টাউনে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণ হারান দুই বন্ধু। আরেক জনকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত সুলাইমান খান ও নাঈম তালুকদারের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তার স্বজনেরা।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৭ বছর আগে জীবনের তাগিদে দক্ষিণ আফ্রিকা যান সোলায়মান খান। ৭ বছরে দেশে আসেননি তিনি। অন্যদিকে ৩ বছর আগে পরিবার নিয়ে ভালো থাকার আশায় পাড়ি জমান নাঈম তালুকদার। দুই জনে একই দোকানে কাজ করতেন। গত রবিবার স্থানীয় সময় সাড়ে ৩ টায় ঘুরতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন তিন বন্ধু। এ সময় ক্যাপ্টেন শহরের ভিলেজড্রপ থেকে খারাবো টাউনে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় সোলায়মান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নাঈম। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে সিয়াম নামের আরেক বন্ধু।

এদিকে মৃত্যুর সংবাদে সুলাইমানের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর বাবা আইয়ুব আলী খান বারবার মুর্চ্ছা যাচ্ছেন। আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসেছেন তাদের সমবেদনা জানাতে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

নাঈম তালুকদারের ফুফাত ভাই মাসুম সরদার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, নাঈমের বড় বোন হালিমা তার পরিবার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থাকেন। রোববার মুঠোফোনে নাঈমের মৃত্যুর খবর তাদের জানান তিনি।

নিহত সুলাইমানের বাবা দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমাদের সংসারে উপার্জনক্ষম ছেলেটিকে হারিয়ে ফেলছি। সরকারের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া, আমার ছেলের লাশটি যেন দ্রুত বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

ভেদরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাফিস দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, নিহতের বাড়িতে যোগাযোগ করা হয়েছে। লাশ আনা থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করবে উপজেলা প্রশাসন।