শুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

চিটাগাং টু খুলনা মহাসড়ক সৃষ্টির ইতিহাস এবং তৎকালীন সময়ে বিএনপির ভূমিকা।

চিটাগাং টু খুলনা মহাসড়ক সৃষ্টির ইতিহাস এবং তৎকালীন সময়ে বিএনপির ভূমিকা।

শরীয়তপুর মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হওয়ার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী উভয় সময়েই এর যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। ১৯৮৩ সালের ৭ মার্চ প্রেসিডেন্ট হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আমলে দেশের সমস্ত মহকুমাগুলিকে জেলা গঠনের ঘোষণা দেন। সেই হিসাবে শরীয়তপুর জেলায় পরিণত হয়। ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ উদ্বোধন করেন, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী জনাব নাজিমউদ্দীন হাসিম, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। শরীয়তপুর জেলা সৃষ্টির পর থেকে তার সার্বিক উন্নয়নে আমরা কতিপয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সমন্বয়ে “শরীয়তপুর জেলা উন্নয়ন সমিতি” নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলি। আমাকে উক্ত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। যার দায়িত্ব আমি দীর্ঘ ১১ বছর পালন করেছি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে, সংগঠনের পক্ষ হতে মেঘনা নদীর উপর চাঁদপুর-তারাবুনিয়া ফেরী পারাপারের ব্যবস্থা করে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-শরীয়তপুর-মাদারীপুর-ভাঙ্গা হয়ে খুলনা নদী বন্দর পর্যন্ত একটি মহাসড়ক নির্মাণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাতীয় পত্রিকায় নিবন্ধন প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেই। আমি ১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকে প্রতিবেদনটি ছাপাইবার জন্য অনুরোধ করি। প্রতিবেদনটি ঐদিনই ছাপানো হয়েছিল, শিরোনাম ছিল “অনুন্নত শরীয়তপুর জেলার সার্বিক উন্নয়ন চাই” যেখানে জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও তা সমাধান করে কিভাবে উন্নয়নের পথ প্রসারিত হতে পারে তাহার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী গণভবনে আমাদের নিমন্ত্রণ করে। কার্তিকপুর নিবাসী সংগঠনের সভাপতি সামিউদ্দীন আহমেদ চৌধুরী, সখিপুর থানা নিবাসী সমিতির সদস্য হানিফ দারোগা ও আমি গণভবনে যথাসময়ে উপস্থিত হই। সভায় প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী মহব্বত জান চৌধুরী, যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, রোডস্ এন্ড হাইওয়েজের চেয়ারম্যান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চেয়ারম্যান ও সচিবসহ অনেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তখন গণভবনে ঝুলানো একটি বড় বাংলাদেশের মানচিত্রের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে আমাকে বলেন, শরীয়তপুর জেলার উপর দিয়ে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-শরীয়তপুর-মাদারীপুর-ভাঙ্গা হয়ে খুলনা নদীবন্দর পর্যন্ত আপনি যে মহাসড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তা বাস্তবায়ন হলে জাতীয়ভাবে দেশের কি উপকার হবেÑ এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করে বলেন, আমি বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে বললাম, বর্তমানে স্থলপথে চট্টগ্রাম হতে রাজধানী ঢাকা, আরিচা, ফরিদপুর হয়ে খুলনা নদী বন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতে যে দূরত্ব বা সময় অতিবাহিত হয়, প্রস্তাবিত সড়কটি মেঘনা নদীর উপর ফেরী পারাপার ব্যবস্থা করে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-শরীয়তপুর-মাদারীপুর-ভাঙ্গা হয়ে খুলনা নদী বন্দর পর্যন্ত নির্মিত হলে প্রায় ৪০ শতাংশ দূরত্ব কমে যাবে এবং সময়ও কম লাগবে, জ¦ালানীর অপচয় কম হবে, রাজধানী ঢাকার যানজটও অনেকটা কমে যাবে। জনগণের ভোগান্তি লাঘব হবে। বন্দর হতে মালামাল অল্প সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
আমার প্রস্তাবটি শুনে প্রধানমন্ত্রীসহ সকলে মহাসড়কটি নির্মাণের গুরুত্ব অনুধাবন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মহাসড়কটি নির্মাণের জন্য গণভবনে বসেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পি,পি, তৈরী করার জন্য একটি হাই পাওয়ার কমিটি গঠন করে জরুরীভিত্তিতে তার নিকট দাখিল করার নির্দেশ দেন এবং তারই পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি যথাসময়ে পি,পি দাখিল করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি জরুরীভিত্তিতে বাস্তবায়ন করার অনুমোদন দেন। পরবর্তীতে মিজানুর রহমান চৌধুরীর প্রধানমন্ত্রীত্ব চলে যাওয়ায় এবং হঠাৎ তার মৃত্যু হওয়ায় প্রকল্পটি বাধাগ্রস্থ হয়। তারপর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর শত চেষ্টা করেও প্রকল্পটি সরকারের নজরে আনতে পারা যায়নি। অথচ তারা চাইলেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং গোছানো প্রজেক্ট নিজেদের সদিচ্ছার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারতো, যা দেশ ও জাতির কল্যাণে অসীম ভূমিকা পালন করতো, কিন্তু তারা প্রতিহিংসার নোংরা রাজনীতিতে বিশ^াসী। যাহার দরুণ তাহাদের আমলে অনেক প্রয়োজনীয় কাজই বাধাগ্রস্থ হয়েছে এবং চূড়ান্তভাবে তা দেশের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অঙ্গণে ক্ষতি সাধিত করেছে।
পরিশেষে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে আমি আধুনিক শরীয়তপুরের রূপকার আব্দুর রাজ্জাককে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলি। উহারই পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ২৫ এপ্রিল চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরী পারাপারের ব্যবস্থা করে প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু বর্তমানে উক্ত সড়কে যানবাহনের পরিমাণ অত্যাধিক বেশী হওয়ায় এবং সেই অনুযায়ী সড়কের পর্যাপ্ত সংকুলান না হওয়ায় জনগণের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আমি বর্তমানে প্রায় ৯৩ বছর বয়সী শরীয়তপুরের একজন বয়োবৃদ্ধ নাগরিক, ১৯৭০-৭৩ সালের নির্বাচনে ঢাকার আওয়ামী লীগ সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে টিকাটুলিস্থ কামরুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পোলিং এজেন্টের দায়িত্ব পালনকারী, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর স্ব-পরিবারে শহীদ হওয়ার পরে জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাকের পরামর্শে নিজ জেলা শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগ সংগঠনের সাথে জড়িত হই এবং ১৯৬৫ সাল থেকে অদ্যবধি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মাতা দেশরত্ম শেখ হাসিনার ইচ্ছাকৃত মেঘনা নদীর উপর সেতুটির নির্মাণ কার্যক্রম জরুরীভিত্তিতে চালু করার অনুরোধ জানিয়ে আসছি এবং মেঘনা সেতু হইতে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর জাজিরার পয়েন্ট পর্যন্ত জরুরীভিত্তিতে ২ লাইনের পাকা সড়ক নির্মাণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
নিবেদক

মোঃ আজিজুল হক মল্লিক (আজিজ মল্লিক) তারিখ ঃ ০৫-০৪-২০২২ইং
উপদেষ্টা, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ।
সভাপতি, ভেদরগঞ্জ উপজেলা উন্নয়ন সমিতি ও
জেলার সামাজিক শ্রেষ্ঠ সন্তান।
গ্রাম ও পোঃ মনুয়া, উপজেলা-ভেদরগঞ্জ, জেলা ঃ শরীয়তপুর।
মোবাইল ঃ ০১৭২৬-৫৩০৭১৩, ০১৭৪৬-৯৪১২৪৫


error: Content is protected !!