Saturday 13th July 2024
Saturday 13th July 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67
উপ-সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছেন ॥ মোসাম্মৎ নাজনীন জাহান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছেন ॥ মোসাম্মৎ নাজনীন জাহান

উপ-সম্পাদকীয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছেন

॥মোসাম্মৎ নাজনীন জাহান॥

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং একটি স্বাধীন জাতির। তাঁর স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছিল এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে। আমাদের মহান নেতার আহবানে সর্বস্তরের জনগণ সক্রীয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতাকে। আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ ও একটি স্বাধীন জাতি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরই সুযোগ্য কণ্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়নে সর্বস্তরের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ধীরে ধীরে উন্নয়নের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে দেশ। বাংলাদেশ পেল পদ্মা সেতু, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। একটি দেশকে আত্মমর্যাদাশীল ও স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে শিক্ষিত, যোগ্য ও দক্ষ মানব সম্পদ অপরিহার্য। আর এই দক্ষ, যোগ্য এবং শিক্ষা মানব সম্পদ তৈরীর লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়েছেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় এনেছেন আমুল পরিবর্তন। দেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যে রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সকল শিশুর জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করণের দায়িত্ব পালন করে আসছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে রূপকল্প ২০৪১ এর মাধ্যমে এগিয়ে যাবে জাতি ও দেশ। ১৯৭২ সালের সংবিধানে শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। সবার জন্য শিক্ষার গুরুত্ব লাভ করে। এই আইন পাশের মধ্য দিয়ে শিক্ষার হার বাড়তে থাকে। বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৯৭৩ সালে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু যুগান্তকারী দুঃসাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণ করেন। শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয়ই নয় পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ সরকারীকরণ করে চলেছেন। বর্তমানে শিক্ষা বান্ধব সরকার ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষক ২য় শ্রেণীর মর্যাদায় বেতন স্কেল সাথে সাথে সরকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণ করার বিষয়টি বর্তমান সরকারের বিবেচনাধীন আছে। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকার ৩৭ হাজার প্রাথীমক বিদ্যালয় দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগ করেছেন।

২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলছে। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিশু শিক্ষার্থীদের আকর্ষণীয় ও উন্নত পাঠদানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের মানসম্মত পাঠদানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। পরিবর্তন করা হয়েছে শিক্ষকদের সি ইন এড কোর্সের। সি ইন এড কোর্সের পরিবর্তন করে ভিপি ইন এড কোর্স গ্রহণের মাধ্যমে উন্নত ও যুগোপযোগী পাঠদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা ১লা জানুয়ারী বই উৎসবের মাধ্যমে বিনামূল্যে সকল শিক্ষার্থীর জন্য বই এর ব্যবস্থা করেছেন। ৩৭ হাজার প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষককে শিশু মনোবিজ্ঞানসহ প্রাক-প্রাথমিক পাঠদানে বিশেষজ্ঞ করে তুলেছেন।

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য মূল প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্রতা ও শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ তৈরীতে ব্যর্থতা। লক্ষণীয় বিষয় হলো নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে ধর্মীয় কুসংস্কার এবং নারীবান্ধব শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারা। এই সমস্যা সমাধানে সরকারের ভূমিকা অপরিহার্য।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান অপরিসীম। তিনি সকল শিক্ষার্থীদের অর্থাৎ প্রাথমিকের সকল শিক্ষার্থীদেরকে ১০০% উপবৃত্তির আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহী করে তুলেছেন। ঝড়ে পড়া ০% এ চলে এসেছে এই ১০০% এ উপবৃত্তি চালু করায়।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষাক্রম ২০২১ এ প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রেও যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এখন ধারাবাহিক মূল্যায়নকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সাল থেকে প্রথম শ্রেণীর কার্যক্রম চলমান। পরিবর্তিত, পরিমার্জিত শিক্ষণক্রমে থাকবে না শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ভীতি। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে শিখবে। শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নের ভীতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গী ও মূল্যবোধকে মূল্যায়ন করতে পারবে। এইভাবেই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ ও বাঙ্গালী জাতি।

লেখকঃ মোসাম্মৎ নাজনীন জাহান, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষিকা, মিরাশার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাজিরা, শরীয়তপুর।