বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রজব, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং

৮ বছর বয়সে এসএসসি, ১৭ বছরে এমবিবিএস পাস করা ডা. সাবরিনার ১১ বছরের কারাদণ্ড

৮ বছর বয়সে এসএসসি, ১৭ বছরে এমবিবিএস পাস করা ডা. সাবরিনার ১১ বছরের কারাদণ্ড

কোভিড ১৯-এর নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী এবং তার স্বামী ও প্রতিষ্ঠানটির সিইও আরিফুল চৌধুরীসহ আটজনকে ১১ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১১ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
ওদিকে এই রায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ডা. সাবরিনা। সাজা বেশি হয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চাকরিচ্যুত চিকিৎসক সাবরিনা বলেন, “আমি চেয়ারম্যান ছিলাম না, এই সাজা কীভাবে হলো? কী হবে বুঝতে পারছিলাম কিন্তু এতটা হবে বুঝতে পারিনি।”
আদালতের এ রায়ে সন্তুষ্ট নন ডা. সাবরিনা ও তার আইনজীবী প্রণব কান্তি ভৌমিকও। উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানান।

সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুল ছাড়া মামলার বাকি ছয় আসামি হলেন- আরিফুলের বোন জেবুন্নেছা রিমা, সাবেক কর্মচারী হুমায়ুন কবির হিমু ও তার স্ত্রী তানজিলা পাটোয়ারী, জেকেজির কোঅর্ডিনেটর আবু সাঈদ চৌধুরী, জেকেজির কর্মচারী বিপুল দাস ও শফিকুল ইসলাম রোমিও।

মহামারির প্রথম বছর জেকেজির জালিয়াতির ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে এলে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে সরকারি চাকরিতে থাকা চিকিৎসক সাবরিনার যোগসাজশ বিষয়টিকে নতুনমাত্রা দেয়।

‘এদিকে ৮ বছর বয়সে এসএসসি ও ১৭ বছরে এমবিবিএস পাস করেন ডা. সাবরিনা’, দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা ডা.সাবরিনা শারমিনের এই তথ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুত্রপাত হয়েছে।

সম্প্রতি এনিয়ে ডা.‌ সাবরিনার বিরুদ্ধে এনআইডি জালিয়াতির মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জানা গেছে তার দেয়া তথ্যে মাত্র মাত্র ৮ বছর বয়সে এসএসসি ও ১৭ বছর বয়েসে এমবিবিএস পাস করেছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এনিয়ে দাখিলকৃত চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী ডা.সাবরিনার প্রথম জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্ম তারিখ দেওয়া হয় ১৯৭৬ সাল। দ্বিতীয় এনআইডিতে জন্ম তারিখ দেওয়া হয় ১৯৮৩ সাল। ১৯৯১ সালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০০০ সালে স্যার সলিমুল্লাহ (মিটফোর্ড) মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ১৯৮৩ সালে জন্ম তারিখ ধরলে তিনি মাত্র আট বছর বয়সে এসএসসি ও ১৭ বছরে এমবিবিএস পাস করেন।

এবিষয়ে চার্জশিটে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১৯৭৬ সালের ২ ডিসেম্বর ডা. সাবরিনার সঠিক জন্ম তারিখ। তিনি ২০১৬ সালে দ্বিতীয় এনআইডিতে ১৯৮৩ সালের ২ ডিসেম্বর জন্ম তারিখ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দেন। সাবরিনা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০১০ এর ১৪ ধারা অনুসারে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির লক্ষ্যে বিকৃত ও মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও ১৫ ধারা অনুসারে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার অপরাধসহ পেনাল কোডের ৪৬৫/৪৬৮/৪৭১ ধারায় অপরাধ করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন গুলশান থানা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মমিন মিয়া।

এ মামলায় ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর জামিন পান সাবরিনা। তবে ২০২১ সালের ১৯ জুলাই করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথ কেয়ারের শীর্ষ কর্মকর্তা ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ আট আসামিকে পৃথক তিন ধারায় ১১ বছর করে কারাদণ্ড দেন। আদালত।


error: Content is protected !!