মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের মাদক বিরোধী গণসচেতনতা শীর্ষক আলোচনা সভায় দুদক কমিশনার

পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্সের মাদক বিরোধী গণসচেতনতা শীর্ষক আলোচনা সভায় দুদক কমিশনার

মাদকের কারণে দেশের অনেকেরই সক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ব্যক্তি জীবনে নেমে এসেছে চরম হতাশা, পরিবারে নেমে এসে অশান্তি, সামাজিক ভাবে হয়েছেন হেয় প্রতিপন্ন। মাদকের ভয়াল গ্রাসে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংসের পথে। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে না পারলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অন্ধকার গহবরে হারিয়ে যাবে।
এ ভয়াল মাদক নির্মূলে সকলের এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সক্রিয় সহযোগিতায় মাদক নির্মূল আন্দোলন এগিয়ে যাবে। কথাগুলো বলেছেন, দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)- এর কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক।
গতকাল ৫ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টায় আন্তর্জাতিক ভাষা ইনিষ্টিটিউট অডিটরিয়ামে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের আয়োজনে মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার প্রতিরোধে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বীমা কর্মীদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথাগুলো বলেন।
আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, আজকের অনুষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স সঠিক সময়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। এ মুহূর্তে দেশে মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। মাদকের সাথে আমাদের হাজার বছরের পরিচয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফে এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বাণী রয়েছে। নবী করিম (সঃ) মাদক গ্রহণ অনেক আগেই নিষিদ্ধ করে গেছেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে মাদক উৎপাদন হয়না। মিয়ানমার ও ভারতে মাদক তৈরী হয়। এর বিস্তার হয় আমাদের দেশে। এর মাধ্যমে আমাদের যুব সমাজ পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সন্তানরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। আমাদের সন্তানদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের আচার-আচরণ কথা-বার্তা, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদিতে পরিবর্তন লক্ষ্য হলে মাদকাসক্তি আছে কী-না তা খতিয়ে দেখতে হবে।
মাদকসক্তরা আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদের সুস্থ জীবন-যাপনে আমাদের সহায়তা প্রদান করতে হবে। এরা যখন ভূল করে তা না বুঝেই করে। পরে অবশ্য তাদের মধ্যে অনুশোচনা আসে। এরপরও এরা মাদক পরিহার করেনা। কারণ, এতে তারা আসক্তি হয়ে পড়ে।
ড. মোজাম্মেল হক বলেন, নানা কৌশলে, নানাভাবে মাদক পাচার ও মাদকের বিস্তার ঘটছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একার পক্ষে কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একক ভাবে মাদক নির্মূল করতে পারবে না। মাদক নির্মূলে সকলের ঐক্যবদ্ধ অংশ গ্রহণের প্রয়োজন। তারই অংশ হিসেবে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী এ উদ্যোগ প্রসংশার দাবিদার। বীমা কর্মীরা প্রিমিয়াম নিতে ঘরে ঘরে যায়। প্রিমিয়াম আদায়ের সাথে সাথে তাদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মাদক বিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে মাদক নির্মূলে সহায়তা প্রদান করতে পারেন।
পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিইও, বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য বি,এম ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনিছুর রহমান, গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আখতার হোসেন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক, (যুগ্ম সচিব) এনডিসি নিরোধ শিক্ষা ও গবেষণা এনডিসি মু. নুরুজ্জামান শরীফ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর সিনিয়র কনসালটেন্ট আবদুল আউয়াল হাওলাদার, সাবেক যুগ্ম সচিব, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর সিনিয়র কনসালটেন্ট মোঃ আনিছুর রহমান, বৃহত্তম ফরিদপুর জেলা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক কর কমিশনার মোঃ রুস্তম আলী মোল্লা, দূর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক নাসিম আনোয়ার ও পল্লবী থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা, দাদন ফকির। সভার প্রারম্ভে কোরআন তেলোয়াত করেন মোঃ এমদাদ হোসেন, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর উপ ব্যবস্থাপক বি,এম শওকত আলী।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী এক দশক যাবত মাদক বিরোধী কার্যক্রম করে আসছে। শুধু পপুলার নয় সকলকে মাদক বিরোধী আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করতে হবে। বীমা কর্মীরা এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাদের সক্ষমতা রয়েছে মাদকাসক্তদের সুপথে পিরিয়ে আনার। মাদক বিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট ঘোষনা রয়েছে। মাদক একটি দেশ ও জাতিকে ধ্বংস করে ফেলে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষনা করেছেন। ফিলিপাইন, কলম্বো, কম্বোডিয়াও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে অভিযান চালিয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে ছোটখাটো ভুল ত্রুটি থাকলেও তা ভাল চোখে দেখতে হবে। এ অভিযানের বিরুদ্ধে মানাবাধিকার লংঘনের প্রশ্ন উঠেছে যা গ্রহণযোগ্য নয়। যে নেশা সমাজ, দেশ, জাতি-কে ধ্বংস করে ফেলে, সেখানে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ তুচ্ছ।
আলোচনা সভার বিশেষ অতিথি, গৃহায়ণ ও গণপুর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আখতার হোসেন বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি হবে। আমাদের কোমলমতি ছেলে মেয়েরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা ও হতাশা গ্রস্থ যুবক-যুবতীরা এর শিকার। এর বিরুদ্ধে অভিভাবকদের ভূমিকা রয়েছে। সমাজের কুলাঙ্গার ব্যক্তিরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরা মাদকে বিস্তার করে সমাজকে ধ্বংশ করে দিচ্ছে। পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানীর উদ্যোগে মাদক বিরোধী এ উদ্যোগ প্রসংশনীয়।
বিশেষ অতিথি সাবেক সচিব ও পপুলাল লাইফ ইনস্যুরেন্স সিনিয়র কন্সালটেন্ট আব্দুল আউয়াল হাওলাদার বলেন, মাদক দ্রব্য সমাজের বিরুদ্ধে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী ২০০৭ থেকে কাজ করে আসছে এবং আগামী দিনে এ কাজ অব্যহত থাকবে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রথমেই মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন। সমাজে যেসব বিষয়ে কল্যাণ আনে না তা বর্জন করা ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্তব্য।
বিশেষ অতিথি সাবেক যুগ্ম সচিব ও পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী সিনিয়র কন্সালটেন্ট মোঃ আনিছ উদ্দিন মিয়া বলেন, আজকের জাতির দুর্দশা যে, আমাদের ছেলে মেয়েরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। এদের সুস্থ পথে ফিরিয়ে আনতে দেশে ৭৮ টি বীমা কোম্পানী ভূমিকা রাখতে পারলে সমাজ এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি মোঃ নুরুজ্জামান শরীফ বলেন, আমার বিশ্বাস মাদক নিয়ন্ত্রনে বীমা কর্মীদের ভূমিকা অপরিসীম। পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানী এ কাজ করছে জেনে আমি আনন্দিত। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে অনেক সমস্যা ছিল সকলের সহযোগিতায় সে সমস্যা কাটিয়ে উঠেছি। মাদকের ভয়াবহতা আমাদের পেয়ে বসেছে। এ ভয়াবহতায় আক্রান্ত আমাদের যুব সমাজ। এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা আমাদের সামাজিক দাবী। আমরা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছি। মাদক মুক্ত এলাকা ঘোষনাও আমাদের কর্মসূচী। আমাদের এ কর্মসূচী বীমা কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার করলে জনগনের সুফল পাবে। সভাপতির বক্তব্যে বি,এম ইউসুফ আলী বলেন, দেশের বৃহত্তম স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন ড. মোজাম্মেল হক দূর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমরা বীমা কর্মী সারা দেশে ২০ লক্ষ। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মী সংখ্যা অনেক কম। আমি আজ থেকে বহুদিন পূর্বে পপুলারে ২ লক্ষ কর্মী নিয়েই মাদক নির্মূল কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের এ কার্যক্রম অব্যহত থাকবে। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন এনাম মোল্লাহ।


error: Content is protected !!