Tuesday 16th April 2024
Tuesday 16th April 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

বসছে আরেক স্প্যান, দৃশ্যমান হবে পদ্মাসেতুর ১২০০ মিটার

বসছে আরেক স্প্যান, দৃশ্যমান হবে পদ্মাসেতুর ১২০০ মিটার

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মাসেতু প্রকল্পের কাজ। দু’একদিনের মধ্যে জাজিরা প্রান্তে সেতুর ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর সপ্তম স্প্যান (৬ই) বসবে বলে জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
সবকিছু অনুকূলে থাকলে আজ (২০ ফেব্রুয়ারি, বুধবার) কিংবা আগামীকাল (২১ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার) বসবে স্প্যানটি। এর মাধ্যমে জাজিরা প্রান্তে এক দশমিক ৫ কিলোমিটার (১ হাজার ৫০ মিটার) দৃশ্যমান হবে। মাওয়া প্রান্তে দৃশ্যমান আছে ১৫০ মিটার।
মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদ্মাসেতু প্রকল্পের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, ধূসর রঙের স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার আর ওজন তিন হাজার ১৪০ টন। তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ক্রেন ‘তিয়ান ই’ সপ্তম স্প্যানটি বহন করে নিয়ে যায়। বাকি স্প্যান বসানোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই স্প্যানটিও বসানো হবে। এটি হবে জাজিরা প্রান্তে পদ্মাসেতুর সপ্তম স্প্যান। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে বসানো আরেকটি স্প্যানের মাধ্যমে পদ্মাসেতুতে মোট স্প্যানের সংখ্যা হবে আট।
পদ্মাসেতুর প্রকৌশল সূত্র জানায়, সকালে সপ্তম স্প্যানবহনকারী ক্রেনটি জাজিরার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। আবহাওয়া ও সবকিছু অনুকূলে থাকলে বুধবার ৩৫ ও ৩৬ পিলারের ওপর বসানো হবে স্প্যানটি। এর আগেও স্প্যান বসানোর সময় আগে থেকে নির্ধারণ করে পরিবর্তন হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে প্রকৌশলীরা আশাবাদী বুধবার (আজ) কিংবা বৃহস্পতিবার (আগামীকাল) বসে যাওয়ার ব্যাপারে।
সূত্র আরও জানায়, ৫৩টি পাইল ড্রাইভ বাকি আছে। জুনের মধ্যে পিলারগুলোতে পাইল ড্রাইভ সম্পন্ন হবে। জাজিরা প্রান্তে স্প্যানের ওপর বসানো হয়েছে ১ হাজার ৪৩০টি রেলওয়ে স্ল্যাব। রোডওয়ে স্ল্যাব তৈরি করা হয়েছে ৪০০টির বেশি।
মূল সেতুর প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে বর্তমানে ১২টি স্প্যান মজুদ আছে। জায়গা স্বল্পতার কারণে স্প্যান আনা হচ্ছে না। পাইলিংয়ের কাজ চলছে ৬,৭,৮,১০,৩১ ও ৩২ নম্বর পিলারগুলোতে। এসব পিলারগুলোতে ‘স্ক্রিন গ্রাউটিং’ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে পাইলিং হচ্ছে।
জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি চীনাদের নববর্ষ ছিল। পদ্মাসেতুতে নিয়োজিত প্রায় শতাধিক চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা ছুটি নেয়। তাই কাজে কিছুটা হলেও ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া যারা দেশে ছিলেন তাদের জন্য প্রকল্প এলাকায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কাজের গতি বাড়াতে বছরের শুরুতে যোগ হয়েছে বাড়তি যন্ত্রপাতি। যত দ্রুত সম্ভব সেতুর কাজ শেষ করতে মন্ত্রণালয় থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হচ্ছে। তবে পদ্মাসেতুর কাজ কবে শেষ হবে কেউ নিশ্চিত করেনি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বসানো হয় প্রথম স্প্যান। এর প্রায় ৪ মাস পর ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় স্প্যানটি বসে। এর দেড় মাস পর ১১ মার্চ জাজিরা প্রান্তে ধূসর রঙের তৃতীয় স্প্যান বসানো হয়। এর ২ মাস পর ১৩ মে বসে চতুর্থ স্প্যান। এর এক মাস ১৬ দিনের মাথায় পঞ্চম স্প্যানটি বসে ২৯ জুন। আর (২৩ জানুয়ারি) ৬ মাস ২৫ দিনের মাথায় বসলো ষষ্ঠ স্প্যানটি। মাওয়া প্রান্তে পদ্মাসেতুর ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর একটি অস্থায়ী স্প্যান রাখা হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে ৬টি স্প্যান ও মাওয়া প্রান্তে একটি অস্থায়ী স্প্যান বসানো হয়েছে।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।