শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২০ ইং, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২০ ইং

ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে শরীয়তপুর-নাগেরপাড়া সড়কে

ফসলী জমির মাটি যাচ্ছে শরীয়তপুর-নাগেরপাড়া সড়কে

ফসলী জমির মাটি ইট ভাটায় নেয়া শরীয়তপুরের ইতিহাসে পূরনো ঘটনা কিন্তু অবৈধ খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে ফসলী জমির মাটি নিয়ে রাস্তা নির্মাণের ঘটনাও দৃশ্যমান হল শরীয়তপুরে। এতে পার্শ্ববর্তী ফসলী জমি হুমকিতে পড়ছে বলে জানিয়েছে জমির মালিকগণেরা।
দেখা গেছে, মংলা-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের শরীয়তপুর অংশের আমিন বাজার-নাগেরপাড়া সড়কে কার্পেটিং রাস্তা প্রসস্তকরণ সহ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। সেই সড়কে মুন্সীরহাট বাজারের পার্শ্ববর্তী উত্তর ভদ্রচাপ এলাকায় রাস্তা প্রসস্তকরণের জন্য ভ্যাকু মেশিন দিয়ে সড়কের দুই পাশে গভীর গর্ত করা হয়েছে। সড়কের সেই গর্ত ভড়াট করার জন্য ঠিকাদার মাসুদ স্থানীয় সুমন মীরদের ফসলী জমিতে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে জমির তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন। এতে পার্শ্ববর্তী ফসলী জমি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন জমির মালিকগণ।
সুমন মীর বলেন, ঠিকাদার আমাকে প্রস্তাব করেছে প্রতি ঘণফুট মাটির জন্য আমাকে ২ টাকা দর দিবে। আমি হিসাব করে দেখলাম প্রতি শতাংশ জমি থেকে আমি ২০/৩০ হাজার টাকারও বেশী মাটি উত্তোলন করতে পারব। অনেক টাকা ইনভেস্ট করেও আমি সেই পরিমান ফসল পাব না। তাই ফসলী জমি থেকে মাটি বিক্রি করতে রাজী হই। এতে পার্শ্ববর্তী জমি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা আছে কিনা তা নিয়ে ভাবছি না।
পার্শ্ববর্তী জমির মালিকগণ জানায়, এক সপ্তাহের বেশী সময় ধরে ড্রেজার বসানো হয়েছে। রাতদিন করে ড্রেজার চালাচ্ছে। সুমন মীরদের জমি থেকে প্রায় ১৫/২০ ফুট গভীর করে মাটি উত্তোলন করছে। এখন আমাদের জমি সহকারে ফাটল ধরেছে। দ্রুত মাটি উত্তোলন বন্ধ না করলে আমাদের তিন ফসলী জমি নষ্ট হয়ে যাবে।
ড্রেজার মালিক মোকসেদ মাদবর বলেন, ঠিকাদার মাসুদ আমার সাথে চুক্তি করেছে। জমি থেকে যত ঘণফুট মাটি ড্রেজার দিয়ে রাস্তায় উঠিয়ে দিব তার প্রতি ঘণফুট মাটির জন্য আমাকে ৪ টাকা করে দিবে। ড্রেজার দিয়ে ফসলী জমির কাটা অবৈধ তাও আমি জানি। ঠিকাদার বলেছে যত বাঁধা আসবে তা সে মোকাবিলা করবে।
ঠিকাদার মাসুদ বলেন, পরীক্ষামূলক ভাবে একটা জমিতে ড্রেজার বসিয়েছি। যদি বালুর সন্ধান মিলে তাহলে ড্রেজার চলবে। নয়তো ড্রেজার বন্ধ করে দিব।