বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, ২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং

শরীয়তপুরে ১৯২ জন প্রবাসীকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২০ | ৩:৪৪ অপরাহ্ণ | 82Views

শরীয়তপুরে ১৯২ জন প্রবাসীকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে

সম্প্রতি ইতালি থেকে শরীয়তপুরে ফিরে আসা প্রায় ২’শ জন প্রবাসীকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. আব্দুল্লাহ্ আল মুরাদ। ইতালিতে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় নানা শংকা আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন শরীয়তপুরের ইতালি প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী শরীয়তপুরের অন্তত ১ লাখ ৯২ হাজার মানুষ প্রবাসে থাকেন। তাদের অধিকাংশই ইতালিতে বসবাস করেন। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রয়েছেন প্রায় ৭২ শতাংশ। ইতালি প্রবাসীরা নিয়মিত নড়িয়ায় যাতায়াত করছেন। তবে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এসব প্রবাসীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের পরিবার ও এলাকাবাসী।
ইতালির বিভিন্ন শহর থেকে নড়িয়ায় এসেছেন এমন কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইতালিতে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ও দু’জন ইতালি ফেরত ব্যক্তির বাংলাদেশে এসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরে ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে। দেশে এসেও এলাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছেন এসব প্রবাসী।
নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, আমি ইতালির তুরিন শহরে থাকি। ১০দিন আগে আমি দেশে এসেছি। তবে আমার শরীর ভালো আছে। বিমানবন্দরে আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। কিন্তু গ্রামে আসার পর কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। আমি এসেছি জেনে কোনো আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব দেখা করতে আসেনি। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে বেশির ভাগ সময়ই বাড়িতে থাকছি।
ইতালী প্রবাসীদের পরিবারের এক সদস্য মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, আমার ছেলে ইতালিতে আছে কিন্ত কোন কাজ কর্ম করতে পারছে না। বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছেনা বাঙ্গালীদের। যার কারণে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। তারা সুস্থ আছে, কিন্ত না খেয়ে থাকলে তো অসুস্থ হয়ে পড়বে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ বালুচড়া এলাকার ইতালী প্রবাসী সৈয়দ আলমগীর ইতালী থেকে মোবাইল ফোনে জানান, করোনাভাইরাসের কারণে ইতালীর সড়কগুলো বেশিরভাগ সময়ই ফাঁকা থাকে। বেশিরভাগ কর্ম ক্ষেত্রই, কর্মশূন্য হয়ে পরেছে। ইতালী প্রবাসী বাঙ্গালিরা বেকার হয়ে পরছে। এ রকম চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
এ সংকট কাটাতে ইতালিতে বসবাসরত বাঙ্গালীদের পাশে দাড়াতে সরকারে যথাযথ পদক্ষেপ কমানা করেছেন প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা। এদিকে শরীয়তপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। তবে এখনও পাওয়া যায়নি করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্র। সপ্তাহখানেক আগে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্র চেয়ে আবেদন করেছে শরীয়তপুর সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ।
সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, সম্প্রতি ইতালি থেকে শরীয়তপুরে ফিরে আসা ১৯২ জন প্রবাসীকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। কোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত তাকে চিকিৎসার আওতায় নেয়ার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঁচ শয্যার ও প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ শয্যার করে আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। এছাড়া কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য ১০০ শয্যা প্রস্তুত করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ইতালি থেকে শরীয়তপুরে যারা এসেছেন তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাদের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত লোকজনের আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলায় ৬টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ৩টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে রেজিস্ট্রার রাখা হয়েছে যারা বিদেশ থেকে আশা লোকজনের লিস্ট তৈরি করছে।


-Advertisement-
সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

ফেইসবুক পাতা

-Advertisement-
-Advertisement-
error: Content is protected !!