সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং

বাড়িভাড়া মওকুফ করলেন ইতালি প্রবাসী শরীয়তপুরের পাপিয়া

বাড়িভাড়া মওকুফ করলেন ইতালি প্রবাসী শরীয়তপুরের পাপিয়া
বাড়িভাড়া মওকুফ করলেন ইতালি প্রবাসী শরীয়তপুরের পাপিয়া

দেশের এই মহামারী দুর্যোগে শরীয়তপুরের মেয়ে ইতালিতে বসবাসরত পাপিয়া নামের এক বাংলাদেশী তার বাংলাদেশের বাড়ির ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন।
করোনাভাইরাস আতঙ্কে যখন পুরো পৃথিবী অর্থনৈতিকভাবে হুমকির মুখে। সরকার যখন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউন, হোম লক ও কোয়ারেন্টাইনের বাধ্যতামূলক করেছে। তখন অনেক চাকরিজীবী ও ভাড়াটিয়ারা তাদের আয়ের উৎস হারিয়ে ফেলেছে।
এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম অভাবনীয়ভাবে বাড়ছে। অনেক ভাড়াটিয়া তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। যখন দেশের এই অবস্থা তখনই কিছু বাড়িওয়ালা তাদের ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ভাড়া মওকুফ করার মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
গত কয়েকদিন আগে শিউলি নামের এক বাড়িওয়ালা এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই রেশ ধরে ইটালিতে বসবাসরত ফাতেমা পাপিয়া নামের এক বাংলাদেশী এ মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি ও তার বাংলাদেশের বাড়ির ভাড়া মওকুফ করে দেন। পরে তিনি সকল বাড়িওয়ালাদের উদ্দেশ্যে একটি উৎসাহমূলক পোস্ট করেছেন।
তার ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হল:
করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে সারাবিশ্ব। সম্প্রতি নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার সুবিধার্তে বাড়ির মালিকদের তিন মাসের ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উগান্ডার সরকার। বাংলাদেশে এমন কোনো ঘোষণা না এলেও ব্যক্তি উদ্যোগে সামান্য কিছু মানুষ ঠিকই এগিয়ে এসেছেন, যেমন শেখ শিউলী হাবিব। ঢাকা শহরে তার একটা বাড়িতে বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন তিনি। ফেসবুকে এক জনের পোস্ট দেখে আমিও উৎসাহিত হলাম। যেহেতু মাস প্রায় শেষের দিকে। আর কয়দিন পরই ভাড়াটিয়ারা খেয়ে থাকুক আর না খেয়ে থাকুক ঠিকই গুনতে হবে ভাড়ার টাকা। এমন কঠিন সময়ে ভাড়ার টাকাটাই আরও বেশি চিন্তায় ফেলবে ভাড়াটিয়াদের।
তাই আমি আমার বাংলাদেশের বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ভাড়া মওকুফ করে দিলাম। অন্ততপক্ষে তাদের যেনো ভাড়াটা নিয়ে চিন্তা করতে না হয়।
আলহামদুলিল্লাহ। ভাবতেই ভালো লাগছে এই কঠিন সময়ে বেশকিছু পরিবাবের পাশে একটু হলেও থাকতে পেরেছি। একজন বাড়িওয়ালার ভাড়াটিয়াদের উপর কিছু দায়িত্ব থাকে। আর এখনই সময় সেই দায়িত্ব পালন করার।
সারা বছর আপনি ভাড়াটিয়াদের টাকা দিয়ে আপনার অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখেন। এখন এমন বিপদে তাদের পাশে থাকা কি আপনার দায়িত্ব না? আমি জানি আমার ফ্রেন্ডলিষ্টে অনেক বাড়িওয়ালারা আছেন। আর এই জন্যই পোস্টটা করা।
যাদের ভাড়াটিয়াদের ভাড়া দুই-এক মাস মওকুফ করলেও খুব বেশি সমস্যা হবেনা তারা পুরো ভাড়াটা মওকুফ করে দিতে পারেন। যাদের ভাড়া দিয়েই সংসার চলে তারা অর্ধেক ভাড়া মওকুফ করতে পারেন।আপনিও বাচলেন তারাও বাচলো।
আসুন আমরা যে যার জায়গা থেকে আশে পাশে থাকা মানুষ গুলোর পাশে থাকি। এখন যদি আমরা একে অপরের পাশে না থাকি তাহলে আর কবে থাকবো বলেন?
পাপিয়া আরো বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে সারা পৃথিবী এখন থমকে গেছে। এইটা থামাতে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে যতটা সম্ভব কিছু করা উচিত। আমার ভাড়াটিয়ারা অনেকেই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত। তারা দিন আনে দিন খায়। করোনার কারণে মানুষ সব ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছে, তাদের কাজও কমে গেছে। এখন তারা নিজেরা খাবে নাকি আমাকে বাসার ভাড়া দিবে? এসব ভেবেই আমি তাদের জন্য মার্চ, এপ্রিল মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছি। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সামনের মাসগুলোও বিবেচনা করবো।
দয়া করে কেউ শো অফ ভাববেন না। আমি কার জন্য কি করলাম কাকে কি দিলাম এটা মুখ্য নয়, মানুষজনদের বিপদের পাশে যদি নাই দাড়াঁতে পারি তাহলে আমি কি বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ?
তিনি বলেন, এই পোস্টটা করার উদ্দেশ্য একটাই আমিও যেমন অন্য একজনকে দেখে উৎসাহিত হলাম। আশা করি আমাকে দেখেও কেউ না কেউ উৎসাহিত হবেন। উৎসাহিত করতে গিয়ে যদি কিছু মানুষের উপকার হয় এতে খারাপ কি বলেন? প্লিজ কেউ খারাপ ভাবে নিবেন না বিষয়টা।
এভাবে শিউলি ও ফাতেমা পাপিয়াদের মতো বাকি বাড়িওয়ালারা যদি এমন উদ্যোগ গ্রহন করেন, তাহলে দেশের সাধারণ মানুষ অন্তত এই দুর্যোগে একটু হলেও স্বস্তি পাবে।