শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং, ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২০ ইং

শরীয়তপুরে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও পশু খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে

শরীয়তপুরে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও পশু খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শরীয়তপুর জেলার ৬ উপজেলার প্রায় ৪০ ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি এবং পশু খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন।

শরীয়তপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, পদ্মার পানি শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আরও ৪-৫ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া জাজিরা ও নড়িয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী প্রধান তিনটি সড়কের একাধিক স্থান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি, নাওডোবা, কুন্ডেরচর, পালেরচর, বিলাসপুর এবং নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা, কাঁচিকাটা, মোক্তাকারের চর, নশাসন ও রাজনগর ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়িতেই পানি উঠেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ঘরের ভেতর পানি প্রবেশ করায় নিজেরা কোনো রকম থাকতে পারলেও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।

এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের ৪ টি স্থান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সড়কের আরও ১৫ টি স্থানে পানি প্রবেশ করছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যে কোনও সময় এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার বন্যা কবলিতদের জন্য ইতোমধ্যেই দেড়’শ মেট্টিক টন চাল এবং এক হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যা কবলিত অসহায়দের তালিকা করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী অসহায়দের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।