শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং, ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী
শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং
পদ্মা ও মেঘনা নদীর নৌ-পথ গুলোতে একের পর এক ডাকাতি

পদ্মা ও মেঘনার নৌ-পথে ডাকাত আটক

পদ্মা ও মেঘনার নৌ-পথে ডাকাত আটক

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা ও মেঘনা নদীর নৌ-পথ গুলোতে একের পর এক ডাকাতি চলছেই। ডাকাতের কবলে পড়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক সাধারণ মানুষ। ফলে পদ্মা-মেঘনার নৌ-পথে যাতায়াতকারী যাত্রী, চালক, জেলে ও মাঝি মাল্লাদের মাঝে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। সর্বশেষ (২১ ডিসেম্বর) সোমবার এসব নৌপথের বিভিন্ন পয়েন্টে ৪টি যাত্রীবাহী নৌকায় ডাকাতি হয়। পরে শরীয়তপুরের সুরেশ্বর টু চাঁদপুরগামী লঞ্চ এমভি শাহআলী প্লাসে ডাকাতির সময় জনগণের হাতে এক ডাকাত সদস্য আটক হয়। বিল্লাল খান নামে ঐ ডাকাত চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মাইনউদ্দিন খানের ছেলে। পিস্তল, রাম দা, চাপাতি নিয়ে তাদের ১০ জনের একটি ডাকাত দল লঞ্চটিতে আক্রমন করে প্রায় অর্ধশত যাত্রীর মালামাল লুট করে নেয়। ডাকাতি শেষে দ্রুতগামী স্পীডযোগে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আটক হয় বিল্লাল। এর আগে বিভিন্ন যাত্রীবাহী নৌকা, অসুস্থ রোগীবাহী নৌকা, মাছের নৌকা ও জেলে নৌকায় ডাকাতি করেছিল তারা। কিন্তু এসব নৌ-পথের বিভিন্ন পয়েন্টে অনেকগুলো নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও তাদের পদক্ষেপ চোখে পড়ার মত নয়।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলাধীন পদ্মা ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন নৌ-পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকজন বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এ নদী পথকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলার লোকজনের সাথে ব্যবসায়ীক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে শরীয়তপুরের লোকজন। বিশেষ করে চাঁদপুর, লক্ষীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও বরিশাল জেলায় যাতায়াতের জন্য একমাত্র পথ এ নদী দুটি। এছাড়া নদী দুটিতে অসংখ্য জেলে ও মাঝি-মাল্লারা মৎস আহরণ পেশায় নিয়োজিত। যা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে।

কিন্তু সম্প্রতি সময়ে কয়েকটি ডাকত দল প্রতিনিয়ত আক্রমন করে এ নৌপথের যাত্রীকারীদের কাছ থেকে মালামাল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিচ্ছে। যার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীক ও যাতায়াত ব্যবস্থা।

সখিপুরের বাসিন্দা আলী নামে এক জেলে বলেন, নদীতে নামলেই ডাকাতরা তাড়া করে। কয়েকদিন আটক করে আমাদের টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। ফোন নাম্বার নিয়ে গেছে এখন ফোন করে টাকা চায়। তাদের কাছে অনেকগুলো পিস্তল, চাপাতি, রাম দা আছে। তাদের উৎপাতে অনেক জেলের মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে।
ডাকাতের কবলে পড়ে মোবাইল টাকা-পয়সা হারানো স্কুল ছাত্র নীরব মিয়া বলেন, দুলারচর থেকে কাঁচিকাটা যাওয়ার পথে ডাকাতরা মাঝ নদীতে আমাদের ট্রলারে আক্রমন করে। এ সময় অস্ত্র ও রাম দা ঠেকিয়ে আমাদের সকলের মোবাইল, টাকা পয়সা, গহনাগাটি নিয়ে যায়। অনেকজনকে মারধরও করে।

চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরীঘাটের বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, শরীয়তপুর থেকে চাঁদপুরগামী ট্রলার গুলোতে কয়েকদিন পরপরই ডাকাতি হয়। মাছ ব্যবসায়ীদের মাছ নিয়ে যায়। জেলেদের মারধর করে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর ও নারায়রগঞ্জ এলাকা থেকে ডাকাতদল এসে নদীতে ডাকাতি করেছে বলে জেনেছি। ডাকাতদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমারা দিন-রাত নদীতে টহল দিচ্ছি।

নৌ-পুলিশের চাঁদপুর জোনের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, ডাকাতি করে কেউই পার পাচ্ছে না। এর আগে আমরা অনেক ডাকাত আটক করেছি। নারায়রগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার কিছু লোক আছে নদীতে ডাকাতি করছে, তারাও শীঘ্রই আটক হবে। আমরা সে অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।