বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ ইং, ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে রমজান, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ ইং

শরীয়তপুরে কঠোর লকডাউনে প্রথম দিন: কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

শরীয়তপুরে কঠোর লকডাউনে প্রথম দিন: কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আজ বুধবার শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের ‘কঠোর’ লকডাউন। এই লকডাউনে সব ধরনের অফিস ও পরিবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি বাজার-মার্কেট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। সরকারের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে শরীয়তপুরে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে দেখা গেছে।

প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারনে জেলার কোথাও কোন প্রকার যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট খোলা দেখা যায়নি। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। কঠোর লকডসউনের কারণে স্থবির হয়ে পড়ে জেলার জনজীবন। করোনা ভাইরাস মহামারীর উর্ধ্বগতি রোধ করতে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন ঘোষণা কর হয়।

প্রশাসনের তৎপরতায় সারাদেশের ন্যায় শরীয়তপুরেও কঠোরভাবে লকডাউন পালিত হচ্ছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে একান্ত জরুরী ছাড়া কোন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এই সময় সব সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস বন্ধ রাখতে বলা হলেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শিল্প কারখানা চালু রাখার অনুমতি দেয়া হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে শপিংমল বন্ধ থাকবে; কাঁচাবাজারে উন্মুক্তস্থানে কেনাবেচা হবে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্দিষ্ট সময় শুধু খাবার বিক্রি, সরবরাহ করতে পারবে।

 

এই সময় অতি জরুরি দরকার ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নিতে যাওয়া যাবে। যা আছে বিধিনিষেধে : প্রজ্ঞাপনে ১৩টি নির্দেশনা বা বিধিনিষেধ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে- সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং এ সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে; সব রকম পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না; শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে হবে; আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/ জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়- অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, লাশ দাফন/ সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নেয়ার জন্য যাতায়াত করা যাবে; খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাবার বিক্রি/ সরবরাহ (কিনে নিয়ে যাওয়া/ অনলাইন) করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে; কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ/ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে; বোরোধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষিশ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে; এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সারা দেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত টহল জোরদার করতে বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন; শুক্রবারের জুমা ও আসন্ন রোজায় তারাবির নামাজের জামাত কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে করা যায়, সে বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে; এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনাও জারি করতে পারবে।