বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ ইং, ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে রমজান, ১৪৪২ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৬ই মে, ২০২১ ইং

শরীয়তপুরে মাটিকাটা শ্রমিকের মুজুরী পরিশোধ না করায় হামলা

শরীয়তপুরে মাটিকাটা শ্রমিকের মুজুরী পরিশোধ না করায় হামলা

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নে মাটিকাটা শ্রমিকের মুজুরী পরিশোধ না করায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। উক্ত ঘটনার রেশ ধরে দুইজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে সংঘবদ্ধভাবে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের মামলা দায়ের। অন্যপক্ষকে মামলা করতে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ ।

চিতলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের কোন্দল দীর্ঘদিনের। তারই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১৭ এপ্রিল) দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবী স্থানীয়দের। ঘটনার সূত্রপাত মাটিকাটা শ্রমিকের মুজুরি দেওয়াকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়রা বলেন, চিতলিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত লাল মিয়া হাওলাদারের ছেলে করিম হাওলাদার (৫৫) আটজন শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটান। কিন্তু শ্রমিকদের মুজুরী দিতে গড়িমসি করলে শ্রমিকরা স্থানীয় চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম হাওলাদারের কাছে অভিযোগ দিলে করিম হাওলাদার চেয়ারম্যানকে সহ ভাষা খারাপ করে কথা বলে। এতে চেয়ারম্যানের লোকজন ক্ষীপ্ত হয়ে তাদের মারধর করে। ঘটনায় আহত হন  আব্দুল হাই হাওলাদার (৬৫), করিম হাওলাদার (৫৫), মুরাদ হাওলাদার (৩১)। আহত ব্যক্তিরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হারুন হাওলাদার এর পক্ষের লোক।

আরো জানা যায়, চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদারের লোকজন পাল্টা মামলা করতে গেলে হারুন হাওলাদারের লোকজন তাদের উপর হামলা করে ও ধাওয়া করে শরীয়তপুর শহর থেকে বের করে দেয়। ঘটনায় আহত হন এনামুল হাওলাদার (৩২) ও শহিদুল হাওলাদার (২০)। এতে চেয়াম্যান পক্ষের লোকজনের ভিতর চাপা ক্ষোভ কাজ করে। অভিযোগ উঠেছে সেই ক্ষোভের শিকার হন নিরপরাধ পশ্চিম পরাশর্দ্দি নিবাসী আবুল খায়ের হাওলাদার (৩৮) ও উজ্জল হাওলাদার(৩০)।

আহত আবুল খায়ের হাওলাদার বলেন, আমরা দুজন শরীয়তপুরে সারাদিন কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফিরছিলাম। এলাকায় কি ঘটেছে তার কিছুই আমরা জানতাম না। কাশিপুর মাদ্রাসার সামনে আসলে হঠাৎ আমাদের উপর ২০-২৫ জন মিলে হামলা করে উপুর্যপরি পেটানো শুরু করে। আমার পা ভেঙ্গে ফেলছে। অথচ আমি জানিই না যে আমার অপরাধ কি?

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পালং মডেল থানায় ২১ জনকে আসামী একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ আলমগীর হাওলাদার নামে একজনকে গ্রেফতার করে।

মামলার ১নং আসামী চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদারের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। তবে তার পুত্র মামলার ৪ নং আসামী শিশির হাওলাদার বলেন, আমাদের রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এ মামলায় আমাদের নাম দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। মামলার অপর আসামী ইমরান হাওলাদার(২৮) বলেন, আমি যোহরের নামাজ পরে ঘুমিয়ে ছিলাম । হট্টগোল শুনে পুলিশ আসার পর ঘটনাস্থলে আমি যাই। মামলায় কিভাবে আমার নাম আসলো জানিনা।

ঘটনার বিষয়ে আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান চিতলিয়ার ঘটনায় ২১ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।