সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং

শরীয়তপুর জেলা পুলিশের কর্মতৎপরতায় ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক-১

শরীয়তপুর জেলা পুলিশের কর্মতৎপরতায় ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক-১

শরীয়তপুর জেলা পুলিশের কর্মতৎপরতায় সখিপুর থানা এলাকা হতে ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ উদ্ধার অভিযানে ১ জনকে আটক করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে ৫ মে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে ঘটনা সম্পর্কে এক প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার এস. এম. আশরাফুজ্জামান।

এ সময় প্রেস ব্রিফিং-এ পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘদিন ধরে তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে জানতে পারি যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী ভারত থেকে কাচামাল বহনকারী ট্রাকের মধ্যে কাঁচামালের সাথে বিপুল পরিমাণে গাঁজা জাতীয় মাদক বহন করে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুরের বিভিন্ন স্থল পথের রুট ব্যবহার করে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলাধীন পদ্মানদী হয়ে শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানাধীন কাচিকাটা ইউনিয়নস্থ পদ্মা নদীর শাখা নদীর বানিয়াল ঘাট নামক নদী পথ ব্যবহার করে মুন্সিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে ঢাকায় নিয়ে যায়।

উক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সোর্স নিয়োগ করে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে গত ৪ মে, ২০২১ইং তারিখে সংগ্রহকৃত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে জানা যায় উপরোল্লেখিত রুট ব্যবহার করে পদ্মা নদীতে ট্রলার যোগে কিছু মাদক ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ মাদক বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ-এর নেতৃত্বে সখিপুর থানা পুলিশ স্পিডবোট যোগে সখিপুর থানাধীন পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে সুজন মাতুব্বর (৩৩) নামে একজনকে গত ০৪/০৫/২০২১ ইং তারিখে সখিপুর থানাধীন কাচিকাটা ইউনিয়নের চরজিংকিং সাকিনস্থ বানিয়াল ঘাট নামক নদীর ঘাটে একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে ০৪ টি চটের বস্তার মধ্যে ৫০ কেজি গাঁজা (যার আনুমানিক মূল্য ৫ লক্ষ) টাকা ও গাঁজা বহনকারী একটি ট্রলার উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। আসামী সুজন মাতুব্বর ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার চর মোনাইয়ের চর গজারিয়া গ্রামের মৃতঃ তোতা মাতুব্বরের ছেলে।

এছাড়া উক্ত ঘটনায় সখিপুর থানার মামলা নং-০২, তারিখ ০৪/০৫/২০২১, খ্রিঃ রুজু করা হয় এবং ধৃত আসামীর অন্যান্য সহযোগী আসামীদের সনাক্তপূর্বক গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আসামীরা আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসার সদস্য। তাঁদের বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসায়ের সক্রিয় সদস্য রয়েছে। ধৃত আসামী সুজন মাতুব্বরকে পুলিশ রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে ০৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অপরাধ) সাইফুর রহমান, পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেদরগঞ্জ সার্কেল) মোঃ আমিনুর রহমান, সখিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান হাওলাদার, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অপরাধ শাখার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আনোয়ার, জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ আজহারুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।