সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং

ভেদরগঞ্জ বৃদ্ধ বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার অন্তঃসত্ত্বা ফাহিমা

ভেদরগঞ্জ বৃদ্ধ বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার অন্তঃসত্ত্বা ফাহিমা

জমির সীমানার মাটিকাটা নিয়ে বৃদ্ধ বাবার সাথে প্রতিবেশীর ঝগড়ার খবর শুনে ঝগড়া থামাতে পাশের গ্রাম স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়ি আসেন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাহিমা আক্তার (২৫)। অবশেষে বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ফাহিমা আক্তার নিজেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। তাকে পিটিয়ে ও পেটে লাথি মেরে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষের লোকেরা। ফাহিমার এক হাত ভেঙ্গে গেছে এবং গর্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিকাল ৪ টার দিকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ফাহিমা বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামী করে সখিপুর থানায় মামলা করেছেন বৃদ্ধ বাবা আয়নাল মাদবর।

মামলা, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা গ্রামের বৃদ্ধ আয়নাল মাদবর ও সায়েদ আলী বেপারীর জমির সীমানা দিয়ে বৃষ্টির পানি নেমে মাটি চলে যায়। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে সায়েদ আলী বেপারী আয়নাল মাদবরের সীমানার মাটি কেটে নিয়ে বাধ তৈরী করছিলো। এ সময় আয়নাল মাদবর এসে বাধা দেন এবং বলেন, আমার সীমানা থেকে মাটি কাটছো কেন? তোমার সীমানা থেকে মাটি কেটে বাধ দিতে পারো না? এ নিয়ে আয়নাল মাদবর ও সায়েদ আলী বেপারীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়াঝাটি শুরু হয়। এ খবর পেয়ে ঝগড়া থামাতে পাশের গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসেন আয়নাল মাদবরের চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ফাহিমা আক্তার।

এদিকে সায়েদ আলী বেপারীর ছেলে ইকবাল বেপারী খবর দেন স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বার নুরু খানকে। নুরু খান মটরসাইকেল যোগে মুন্সি খান সহ এলাকার কিছু বখাটেকে নিয়ে এসে বৃদ্ধ আয়নাল মাদবরের সাথে দূর্ব্যবহার শুরু করে। এ সময় বাপের অপমান সহ্য করতে না পেরে মেয়ে ফাহিমা প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সায়েদ আলী বেপারীর লোক নুরু খান, মুন্সী খান ও তার ছেলেরা ফাহিমাকে পিটিয়ে ও পেটে লাথি মেরে হাত ভেঙ্গে দেওয়া সহ গুরুতর আহত করে। পরে ফাহিমাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ফাহিমা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় নুরু খান, মুন্সি খান, সায়েদ আলী বেপারী, ইকবাল বেপারী, রাব্বি বেপারী ও মানিক হাওলাদার সহ ৬ জনকে আসামী করে সখিপুর থানায় মামলা করেন ফাহিমার বাবা আয়নাল মাদবর।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আহাম্মদ আলী মৃধা বলেন, আয়নাল মাদবর সাথে সায়েদ আলী বেপারীর জমির সীমানার মাটি কাটা নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। নুরু খান লোকজন নিয়ে এসে বয়স্ক লোকটার সাথে খার আচরন করে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আয়নাল মাদবরের মেয়েকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। নুরু খা একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা সহ যতো অপকর্ম আছে এলাকায় নুরু খান করে বেড়ায়। তার ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায়না। এ ধরণের খারাপ লোকের উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বিষয়ে জানার জন্য নুরু খান কে মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নুরু খার ভাই স্থানীয় সাবেক মেম্বার নজরুল ইসলাম খান ওরফে নজির খান বলেন, আমার ভাই নুরু খার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার ভাই গিয়ে দুই পক্ষের মারামারি থামিয়েছে। আমার ভাই নুরু খা মারামারি না থামালে আরো খুন জখম হতে পারতো।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।