সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী
সোমবার, ১৪ই জুন, ২০২১ ইং

শরীয়তপুর প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে চিকিৎসকের আবহেলায় ছাগলের মৃত্যু !

শরীয়তপুর প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে চিকিৎসকের আবহেলায় ছাগলের মৃত্যু !

শরীয়তপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরে ভেটেরিনারি সার্জন ছাইদুর রহমানের অবহেলায় অসহায় কৃষক পরিবারের ছাগলের মৃত্যু হওয়ার খবর পওয়া গেছে।

৬ জুন রবিবার বেলা ১১ টায় শরীয়তপুর উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে গেলে এমন অভিযোগ করেন কৃষক জামাল খাঁ।

কৃষক জামাল খাঁ দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমি পালং ইউনিয়নের পাটানিগাঁও থেকে এসেছি। আমার ছাগলটা ঘাঁস কম খায়। পেট ফুঁলে গেছে। চিকিৎসা দিতে এসেছি। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর, ডাক্তার ছাইদুর রহমান না এসে, তার কম্পাউন্ডার পাঠায়। কম্পাউন্ডার নিরঞ্জন বাবু আমার ছাগলকে পর-পর ৩ টা ইনজেকশন দেয়। ছাগলের দুই পায়ে ইনজেকশন দেয়ারপর ঘাঁড়ে ইনজেকশন দিলে ছাগলটি মরে যায়। আমি জিঙ্গাসা করলে আমাকে ধমক দিয়ে বলে, তোমার ছাগলকে বিষ দিয়েছি! আমি গরিব মানুষ, আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই।

এছাড়াও সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের বুড়িরহাটের নাসিমা বেগম (৪৫), পশ্চিম সোনামুখি সাইদুল সরদার (৪০) পালং ইউনিয়ন দক্ষিণ বিলাশখান হালিমা বিবি (৫০) সহ ডোমসার ইউনিয়নের মিরাজ বেপারি (১২) অভিযোগ করে বলেন, এখানে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে গরু-ছাগলের চিকিৎসা নিতে হয়। তারা যখনি আসেন এই নিরাঞ্জন বাবুই চিকিৎসা দেন। অফিসের কেউ বলেননি তিনি ডাক্তার না। আমাদের সরকারি ফি’র বাইরেও টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। সরকারি ঔষুধ যা দেয়, তার চেয়ে বেশি প্রেসক্রিপশন করে দেয়।

জানা যায়, নিরঞ্জন বাবু উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ড্রেসার পদে চাকুরি করতেন। এখন তিনি আবসরে আছেন। তিনি উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের কর্মকর্তা ডাঃ তরুন কুমার রায় এর অনুরোধে এই চিকিৎসা সেবার কাজ করছেন।

অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ভেটেরিনারি সার্জন ছাইদুর রহমান নিজের কক্ষ ছেড়ে চেয়ারে বসে ভ্যাকসিন বিক্রি করছেন অন্য রুমে। অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কাজ ওতো করতে হবে। এই দেখেন কত কাজ। ভ্যাকসিন বিক্রি করা, চিকিৎসা দেয়া, রেজিস্ট্রার করা, পেশেন লিস্ট করা, ড্রেসিং করা। একজন মানুষ কতটুকু করতে পারে। আমাদের জনবলের সমস্যা। আপনি থাকতে কামপাউন্ডার নিরঞ্জন বাবু কেন ছাগলের চিকিৎসা করলো? বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে, তিনি সব সৃষ্টি কর্তার ইচ্ছা বলে জানান।

এবিষয়ে সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ তরুন কুমার রায় দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, এই ঘটনা অতন্ত্য দুঃখজনক।
আমাদের লোকবলের অভাব। আমি নিরঞ্জন বাবুকে আনছি। ওনাকে বলেছি জনসেবা করার জন্য। উনি কিন্তু ড্রেসার সহ সব কিছু ভালো পারে।

ছাগল মৃত্যুর বিষয়ে দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, ছাইদুর সাহেব ছাগলের বিষয়ে আমাকে ফোনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। আমি কিছুটা নির্দেশনা দিয়েছিলাম। তাছাড়া নিরঞ্জন বাবু অনেক অভিজ্ঞ লোক। আমাদের এইখানে ভেটেরিনারি পদ শূন্য। তাই অনেক সময় আমাদের টেলি মেডিসিনের মতো চিকিৎসা দিতে হয়। অফিসে ১২ জনের পরিবর্তে আছে ৫ জন। তাই যে কোন সময়, যে কোন ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এটা দূর্ভাগ্যবসত। তারপরেও কোন অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখবো।

#