বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী
বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ ইং

শরীয়তপুর সরকারি কলেজ রোভার স্কাউটের হাইকিং ও দীক্ষা সম্পন্ন

শরীয়তপুর সরকারি কলেজ রোভার স্কাউটের হাইকিং ও দীক্ষা সম্পন্ন

জমকালো নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ রোভার স্কাউটস্ ইউনিটের হাইকিং ও দীক্ষা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত বুধবার দিনব্যাপি শরীয়তপুর সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মো.পারভেজ হাসান, জেলা প্রশাসক, শরীয়তপুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এস. এম. আশরাফুজ্জামান, পুলিশ সুপার, শরীয়তপুর, প্রফেসর মিজানুর রহমান, বিভাগীয় প্রধান, ইতিহাস বিভাগ ও সম্পাদক শিক্ষক পরিষদ, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ, মনদীপ ঘরাই, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শরীয়তপুর সদর। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, প্রফেসর হারুন উর রশীদ, অধ্যক্ষ, শরীয়তপুর সরকারী কলেজ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ প্রতিনিধি মো.তোফাজ্জল হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউট গ্রুপ প্রতিনিধি সুমাইয়া সুলতানা, শরীয়তপুর মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপ প্রতিনিধি মো. হানিফ মাহমুদসহ জেলার বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রছাত্রীবৃন্দ প্রমূখ।

জেলা প্রশাসক, মো.পারভেজ হাসান নবাগত রোভার সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন ,স্কাউটিং একটি শিক্ষামূলক যুব আন্দোলন। রোভারিং এর মাধ্যমে মুক্তাঙ্গণে বৈচিত্রময় কর্মসূচির পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ এর মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটায়।যা দৈহিক, মানসিক ,আধ্যাত্মিক, সামাজিক, ও বুদ্ধিমত্তার , উন্নয়ন ঘটিয়ে চরিত্রবান, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল আদর্শ নাগরিকরূপে গড়ে তোলার বিশেষ কৌশল হিসেবে ভূমিকা রাখছে। প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটি সম্পূরক সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম হচ্ছে রোভার স্কাউটিং। স্কাউটিং ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে তরুণদের চরিত্রবান ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে যুব সম্প্রদায়কে সুসংগঠিত করে চরিত্র গঠন ও সুনাগরিক সৃষ্টিতে এই আন্দোলন মূখ্য ভূমিকা পালন করছে।তিনি আরো বলেন, শরীয়তপুর জেলা স্কাউটিং কার্যক্রমে বেশ এগিয়ে রয়েছে।তাছাড়া শরীয়তপুর জেলাকে অতিদ্রুত শতভাগ স্কাউটস্ জেলা হিসেবে ঘোষণা করার আশা ব্যক্ত করেন।

পুলিশ সুপার,এস. এম. আশরাফুজ্জামান বলেন, স্কাউটিং এর মূলনীতি ও আদর্শকে সামনে রেখে দেশের শিশু-কিশোর ও যুবদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম স্কাউটিং সর্বজন স্বীকৃতি পেয়েছে । স্কাউটিং এর বাস্তবমুখী ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছেলে-মেয়েরা ছোট বেলা থেকেই সঠিক দিক নির্দেশনার ফলে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পেয়ে থাকে। নিরক্ষর ও মাদকমুক্ত সমাজ, সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে এবং ছিন্ন মানুষের সেবা ও সহযোগিতা করার জন্য স্কাউটরা সমাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ।তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে স্কাউটরা নিজেদের তৈরি করার অদশ্য কর্মস্পৃহা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

সিনিয়র রোভারমেট,অরুপ ঢংগী জানায়, রোভার কার্যক্রম ৪টি স্তরে বিভক্ত রোভার সহচর, সদস্য, প্রশিক্ষণ এবং সেবা স্তর। সহচর স্তরে একজন নবাগত সদস্যকে ৬ থেকে ৯ মাস বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পর্যায়ক্রমে স্কাউট আন্দোলন, সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে দক্ষতা অর্জনে ট্রেনিং দেওয়ার পর এদেরকে আর্ত-মানবতার সেবা ও সমাজ উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য দীক্ষার মাধ্যমে তাদের সদস্য হিসেবে বরণ করা হয়।
#