Friday 1st March 2024
Friday 1st March 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

শরীয়তপুরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা!

শরীয়তপুরে গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা!

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় খাদিজা বেগম (২১) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে স্বামী, শশুর ও শাশুরীর বিরুদ্ধে। এদিকে ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামীর পরিবার পলাতক রয়েছে। বুধবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ভাসানচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে ময়নাতদন্ত করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শেখ মোহাম্মদ মোস্তফা খোকন জানিয়েছেন, সকালে ভাসানচর এলাকা থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ নিয়ে আসে। আমরা ময়নাতদন্ত করেছি। তাতে দেখলাম ওই গৃহবধূর গলায় ও মুখে কিছু স্পট রয়েছে। প্রাথমিকভাবে বুঝা যাচ্ছে তাকে শ্বাসরোধকরে হত্যা করা হয়েছে।
খাদিজার ভাই শাহীন কাজি ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার চরচটাং গ্রামের গোলাম মাওলার মেয়ে খাদিজা বেগম (২১) এর সঙ্গে ভাসানচর গ্রামের সমেদ মৃধার ছেলে এবাদুল মৃধার সাথে ২০১৭ সালে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই এবাদুল ও তার বাবা-মা যৌতুকের জন্য খাদিজাকে প্রতিনিয়ত মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করত। খাদিজা নির্যাতনের ভয়ে তার বাবার বাড়ি থেকে দেড় বছরের মধ্যে দুই লাখ টাকার ফার্নিচারও কিনে দেয় এবাদুলের পরিবারকে। এখন আবার খাদিজার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক বাবদ নগদ টাকা আনতে বলে স্বামী ও তার পরিবার। বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে অস্বীকার করলে এরই এক পর্যায়ে বুধবার ভোরে স্বামী এবাদুল, শশুর সমেদ মৃধা ও শাশুরী রিজিয়া বেগম মিলে খাদিজা বেগমকে প্রথমে মারধর করে। পরে মুখের ভিতর কাঁথা ঢুকিয়ে দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
সকালে বাড়ির অন্য সদস্যরা এবাদুলের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ দেখে খাদিজার খোঁজ করে। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে বিছানার ওপর কাঁথা ও মশারি পেচানো খাদিজার মরদেহ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পালং মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সকালে (বুধবার) খাদিজা নামের এক গৃহবধূর এরকম ঘটনা শুনে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তর জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তর রিপোর্ট পেলে বলা যাবে তার সাথে কি হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।