বৃহস্পতিবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং, ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

বুদ্ধিজীবী দিবসে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

বুদ্ধিজীবী দিবসে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের প্রথম প্রহরে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঘৃণিত পাক হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসরদের হাতে নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাবী সন্তানদের স্মরণে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।

এসময় জেলা প্রশাসক মো: পারভেজ হাসানের সভাপতিত্বে এ সময় শরীয়তপুর পুলিশ সুপার, মেয়র শরীয়তপুর পৌরসভা, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ, জেলা রোভার স্কাউট, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। আজকের এই দিনে আমরা গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের, যাঁদের আমরা হারিয়েছি স্বাধীনতাসংগ্রামের সূচনা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত—অধ্যাপক জি সি দেব, মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, রাশেদুল হাসান, ড. আনোয়ার পাশা, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, নিজামউদ্দীন আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন আহমদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, সাহিত্যিক সেলিনা পারভীনসহ অনেককে। একই সঙ্গে সহমর্মিতা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি প্রত্যেক শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের স্বজনদের প্রতি, যাঁরা দীর্ঘ ৫১ বছর ধরে বয়ে চলেছেন আপনজনকে হারানোর বেদনা ও কষ্ট।

স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে হত্যাযজ্ঞের সূচনা করেছিল, একেবারে শেষ দিকে এসে পরাজয়ের আগমুহূর্তে তা রূপ নেয় দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তখন তাদের এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় বেছে বেছে হত্যা করেছিল জাতির অগ্রণী শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের। এসব হত্যার কারণটি স্পষ্ট, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তারা চেয়েছিল স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যাওয়া দেশটিকে মেধায়-মননে পঙ্গু করে দিতে।

বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পিত ঘটনার সঙ্গে এ দেশেরই কিছু মানুষ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী শক্তি রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতার কারণেই এতটা ব্যাপক ও পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ চালানো সম্ভব হয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এই বাহিনীগুলোর সদস্যরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুদ্ধিজীবীদের উঠিয়ে এনেছেন; তুলে দিয়েছেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেরাই হত্যাযজ্ঞ সম্পন্ন করেছেন।

বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলোর মধ্যে ঘৃণ্যতম অপরাধ। এসব হত্যাযজ্ঞে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারি। সব ঘাতকের বিচারের মাধ্যমেই জাতি দায়মুক্ত হতে পারে।