বৃহস্পতিবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং, ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জমাদিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ ইং

স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করলেন স্বামী

স্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করলেন স্বামী

স্বামী নয়ন দাসের দায়ের করা যৌতুক মামলায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) শরীয়তপুর পালং আমলী আদালতের বিচারক মো. মেজবাউল এই আদেশ দেন। এরআগে গত (১০ নভেম্বর) শরীয়তপুর সদর আমলী আদালতে স্বামী নয়ন দাস যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় স্ত্রী মাধবী সরকার সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আদালত ৩ আসামীকে হাজির হতে সমন জারি করেন।

বুধবার ধার্য তারিখে মামলায় দুই আসামী হাজির হলেও ১নং আসামী হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

স্থানীয় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জুলাই মাসে ভালোবেসে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়ারী ইউনিয়নের বিশ্বজিত সরকারের মেয়ে মাধবী সরকার (২৪) সাথে শরীয়তপুর সদর পৌরসভার কাশাভোগ গ্রামের নয়ন দাসের (২৭) সাথে বিয়ে হয়।

বিয়ের সাড়ে চার মাস পর থেকে স্বামী নয়নকে যশোরে অথবা গোপালগঞ্জ শহরে বাড়ি করে দিতে চাপ দিতে থাকে স্ত্রীর পরিবারের লোকজন। তবে স্ত্রীর নামে বাড়ি করে দিতে না পাড়ায় স্বামীর বাড়ি থেকে সু-কৌশলে মেয়ে নিয়ে চলে যায় তার মা-বাবা। তবে যৌতুক ছাড়া সংসারে ফিরাতে গত একবছর ধরে স্ত্রীসহ তার পরিবারকে অনুরোধ করে আসছিল স্বামীর পরিবার।

একপর্যায়ে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলে তাতেও স্বামীর সংসারে ফিরেনি স্ত্রী মাধবী সরকার। এরপর গত ১০ নভেম্বর শরীয়তপুর পালং আমলী আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন ৩ ধারা মতে নালিশী মামলা দায়ের করেন স্বামী নয়ন দাস। মামলায় স্ত্রী মাধবী সরকার(২৪), তার মা অর্চনা সরকার (৩৭) এবং পিতা বিশ্বজিত সরকারকে (৪০) আসামী করা হয়। আদালতে আজ বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) সবাইকে স্ব-শরীলে হাজির হতে নির্দেশ দেন। তবে আজ ধার্য তারিখে ২ ও ৩ নং আসামী হাজির হলেও ১ নং আসামী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার বাদী নয়ন দাস বলেন, ভালোবেসে বিয়ে করেও যৌতুক দিতে না পারায় গত এক বছর ধরে স্ত্রীর পরিবারের নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। মিমাংসার জন্য ওদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বসা হলেও স্ত্রীর পরিবার গ্রাম্য আদালতের আদেশ মানে নাই। অবশেষে যৌতুক ছাড়া সংসারে ফিরাতে ব্যার্থ হয়ে কোন প্রকার মিমাংসা না করতে পেরে আদালতের অশ্রায় নিয়েছি। তবে ওরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ্য আছি। আসামীরা যাওয়ার সময় মামলা প্রত্যাহার না করলে নাকি আমার খবর আছে বলেও হুমকি দিয়া গেছে। এতে আমি ও আমার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডঃ মুরাদ হোসেন মুন্সি বলেন, ভালোবেসে বিয়ের সাড়ে চার মাস পর থেকে স্বামীর নয়ন দাসকে বাড়ি করে দিতে দশ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে স্ত্রী সহ তার মা-বাবা। কিন্তু স্বামীর পরিবার তাদের দাবী মিটাতে না পারায় গত কয়েক মাস ধরে স্বামীর সংসার করবে না বলে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল স্ত্রী মাধবী সরকার ও তার পরিবার। অবশেষে একাধিকবার মিমাংসায় ব্যার্থ হয়ে স্বামী নয়ন দাস যৌতুক নিরোধ আইন ৩ ধারায় মামলা দায়ের করলে আদালত ২ আসামী হাজির হলে তাদেরকে জামিন মঞ্জুর করেলেও ১নং আসামী হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।