সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ ইং, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরী
সোমবার, ২৩শে মে, ২০২২ ইং

ভেদরগঞ্জে প্রতিবন্ধী পরিবারের ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন ডিসি

ভেদরগঞ্জে প্রতিবন্ধী পরিবারের ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন ডিসি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়নের নাজিমপুর গ্রামে এক অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারকে পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। জেলা এনজিও সমিতির আার্থিক সহায়তায় সেই ঘরের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান।

শনিবার (২৩ এপ্রিল) বিকাল ৪ টায় নাজিমপুর গ্রামের মৃত খলিল চোকদারের প্রতিবন্ধী অসহায় পরিবারকে দেওয়া অনুদানের ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এসয় ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসিফ, ছয়গাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিটন মোল্যা সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে এই অসহায় পরিবারটি নজরে আসলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। ঘর নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসে জেলা এনজিও সমিতি। এনজিও সমিতির ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা অনুদানে ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই মহতী উদ্যোগে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সামিল হচ্ছেন। সমাজের বিত্তশালীরাও প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণে সমাজের বিত্তশালী ও এনজি সংগঠনকে সম্পৃক্ত করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, নাজিমপুর গ্রামের দরিদ্র খলিল চোকদার প্রায় ২০ বছর আগে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যান। তার ছেলে মেয়েরা জন্মের পর থেকে স্বাভাবিক থাকলেও একটা সময় এসে তারা প্রতিবন্ধী হয়ে যান। বড় ছেলে আল আমিন (৩৫) চার বছর আগে মারা যান। ২৫ বছর পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবন যাপন করলেও পরে আস্তে আস্তে সে প্রতিবন্ধী হয়ে মারা যান।

এছাড়া তার অন্য ছেলে আলম (৩০), জহিরুল (২৭) ও মেয়ে তানজিলা (২২) ছোটবেলা স্বাভাবিক জীবন যাপন করলেও বড় হয়ে এখন প্রতিবন্ধী জীবন যাপন করছে। খলিল চোকদার মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী মমতাজ বেগম প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের নিয়ে মানুষের সহযোগিতায় কোন মতে বেচেঁ আছেন। তাদের বসতঘর করার মতো এক টুকরা জমি ছাড়া আর কিছুই নাই।