সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং

ওয়াদা, বিয়ে করলে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে

ওয়াদা, বিয়ে করলে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে

প্রেমিকাকে ওয়াদা দিয়েছেল যে বিয়ে করলে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে। প্রেমিক সেই ওয়াদা রাখতে গিয়ে জেল হাজতে। ভালোবেসে বিয়ে করে মেয়ের বাবার হুমকির মুখে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন চামেলী আক্তার (১৯) ও পলাশ মন্ডল (২৯) নামে শরীয়তপুরের এক যুগল। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পরিবারের অমতে গোপনে বিয়ে করে পালিয়ে যান এ যুগল। সেখান থেকে পুলিশ দিয়ে তাদের আটক করে কারাগারে পাঠিয়েছে পলাশ মন্ডলকে। পলাশ মন্ডল গত বুধবার দুপুরে জামিনে মুক্তি পেয়ে সাংবাদিকদের তার জীবনের ভালোবাসার স্মৃতি চারণ করেন। এ সময় মেয়ের বাবার হুমকি ধামকি ও কারাগারে পাঠানোর কথা জানান তিনি। জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের বড় গোপালপুর গ্রামের মুসলিম ধর্মের প্রভাবশালী ইলিয়াস মোল্লার মেয়ে চামেলী আক্তার ভালোবেসে একই ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের সনাতন ধর্মের নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বৌদ্ধনাথ মন্ডলের ছেলে কাঠমিস্ত্রী পলাশ মন্ডলকে বিয়ে করেন। এরপর শুরু হয় মেয়ের বাবার হয়রানি। তবে চামেলীর কাছে পলাশ মন্ডলের ওয়াদা ছিল, তাকে বিয়ে করলে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে। কথা হয় পলাশ মন্ডলের সাথে তিনি জানান, কাঠমিস্ত্রীর কাজ করতেন পলাশ মন্ডল। আর লেখাপড়া করতেন চামেলী আক্তার। যেহেতু একই এলাকায় বাড়ি, সেই সুবাদে দীর্ঘ পরিচয়ের মাধ্যমে পলাশের সঙ্গে চামেলীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দুই বছর প্রেম চলে তাদের। এরই মধ্যে চামেলীর বিভিন্ন যায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসতে থাকে। এ ঘটনা পলাশকে জানালে পলাশ বিয়ে করতে চায় চামেলীকে। তখন চামেলী পলাশকে বলে, যদি আমাকে বিয়ে করতে হয় তাহলে ধর্ম, বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সব কিছু ছেড়ে দিতে হবে। এ প্রস্তাবে রাজি হন পলাশ। পরে তারা পালিয়ে মাওয়া লোহজং চলে যান। সেখানে গিয়ে মসজিদের ইমামের মাধ্যমে প্রথমে পলাশ মন্ডল ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। তারপর পলাশ মন্ডলের নাম রাখা হয় খালেদ সাইফুল্লাহ্। পরে পরিবারের অমতে গত ২০ জানুয়ারি কাজী দিয়ে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে তারা। বিয়ের পর থেকে মেয়ের বাবা নানাভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকি তাদের। দেড় মাস সংসার করার পরে মাওয়া লোহজং থেকে মেয়ের বাবা পুলিশ দিয়ে তাদের আটক করে জাজিরা থানায় নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মেয়ের বাবার করা অভিযোগে পুলিশ পলাশকে নিয়ে আদালতে হাজির করে। আর চামেলীকে বাড়িতে নিয়ে যায়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পলাশকে নিরাপদে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে পলাশ (সাইফুল্লাহ্) স্থানীয় মুসল্লির জিম্মায় গত বুধবার (৩০মে) জামিনে মুক্তি পায়। পরে ৫ জুন মঙ্গলবার পলাশ (সাইফুল্লাহ্) খাটি মুসলমান হবে তাই শরীয়তপুর আদালত ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এপিডডেপিট করেন। পলাশ (সাইফুল্লাহ্) বলেন, আমি চামেলীর জন্য আমার ধর্ম, বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সব কিছু ছেড়ে দিয়েছি। তবুও চামেলীর বাবার কারণে জেল খেটেছি। তাতে দুঃখ নেই। দুঃখ হলো আমার বিয়ে করা স্ত্রী চামেলী আক্তারকে তার বাবা ইলিয়াস মোল্লা আটকে রেখেছে। আমার কাছে আসতে দিচ্ছে না। আমার জীবনে সব হারিয়েছি, কিন্তু চামেলীকে হারাতে চাই না। আমি চামেলীর সঙ্গে বাকি জীবনটা কাটাতে চাই।


error: Content is protected !!