বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং
শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিএস (শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি) ও শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির অংশগ্রহনে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ৩০ নভেম্বর শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। এতে প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, যুব উন্নয়ন ,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসডিএস এর পরিচালক বিএম কামরুল হাসান বাদল বলেন, এসডিএস তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শরীয়তপুর জেলায় বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। ২০১১ থেকে ২০১৫ থেকে দাতা সংস্থা আইসিডিআই – নেদারল্যান্ডের অর্থায়নে শরীয়তপুর জেলার ৬টি উপজেলায় বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজ করেছিল। কিন্তু ২০১৬ থেকে দাতা সংস্থার অর্থায়ন ছাড়াই এসডিএস তার নিজস্ব অর্থায়নে জেলাব্যাপী বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজ চলমান রেখেছে। ২০১৩ সালে এসডিএস সচেতনমূলক কার্যক্রমের ফলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নকে বাল্য বিবাহমুক্ত ঘোষনা করা হয়। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সোচ্চার ভূমিকা পালন ও আইনের সুষ্ঠ ব্যবহার এবং কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে নিয়মিত কাউন্সিলিং করার অনুরোধ জানান।

শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর এসডিএস মানব সম্পদ বিভাগের উপ-পরিচালক অমলা দাস দেশে বাল্যবিবাহের বর্তমান চিত্র, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কমিটির গঠন কাঠামো ও তাদের দায়িত্ব, বাল্য বিবাহ সংক্রান্ত এসডিজি বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপনা করেন।

সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই বাল্যবিবাহ বন্ধে কাজ করে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত ৪/৫ টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। কেউ যদি আমাদের অভিযোগ জানায় আমরা সেটা যাচাই করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। বাল্যবিবাহ মাদকের মতোই মারাত্মক সামাজিকব্যাধি। এটি একা কারো পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব নয়। সামাজিকভাবে এটিকে প্রতিহত করতে হবে। সামাজিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সর্বোপরি আপনারা যারা এখানে এসেছেন এবং বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন সেগুলোর বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি খুব শীঘ্রই বিয়ের কাবিনকারী রেজিস্ট্রারদের সাথে আলোচনায় বসবো। আর যারা শিক্ষকবৃন্দ আছেন তারা স্কুলে এই রকম ওয়ার্কশপ বা মতবিনিময় সভা করবেন এবং কোন বিষয়ে প্রয়োজন মনে করলে ফোন দিবেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্কুলের শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, একই বিষয়ের উপরে এর আগেও (২০ নভেম্বর) জাজিরা উপজেলা প্রশাসন ও এসডিএস’র আয়োজনে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির অংশগ্রহনে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


error: Content is protected !!