বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রজব, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ইং

আওলাদ চৌকিদার হত্যার বিচারের দাবিতে শরীয়তপুরে মানববন্ধন

আওলাদ চৌকিদার হত্যার বিচারের দাবিতে শরীয়তপুরে মানববন্ধন

শরীয়তপুরে আওলাদ চৌকিদার হত্যার রহস্য উদঘাটন ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

আওলাদ হোসেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে পরিকল্পিত ভাবে। কিন্তু এখনও প্রশাসন হত্যার রহস্য ও হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পারেনি। এজন্য আওলাদ হত্যার রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আওলাদের পরিবার।

গত ২৫ শে সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে আওলাদের মাথায় আঘাত, হাতের আঙ্গুল কাটা ও চোয়ালে কোপের দাগ সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধারের পূর্বে ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার থেকে আওলাদ নিখোঁজ ছিল।

এ বিষয়ে নিহতের মা রাজিয়া বেগম বলেন, ‘আওলাদ চৌকিদারকে নুর ইসলাম তালুকদারের পরিবারের লোকজন হত্যা করেছে। ২০১৯ সালে পরিকল্পিত ভাবে আওলাদকে হত্যা করা হলেও এখনো পর্যন্ত প্রশাসন হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। আমি আমার ছেলের হত্যার রহস্য উদঘাটনে আপনাদের সাহায্য চাই, প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চাই।’

নিহতের ভাই আবুল হোসেন বলেন, ‘তানজিলার সাথে আওলাদের প্রেম গঠিত ব্যাপার নিয়েই আওলাদকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগেও আওলাদকে তারা মেরে মাদারীপুরে ফেলে রেখেছিল।’

আওলাদের বাবা জালাল আহমেদ চৌকিদার বলেন, ‘আওলাদ নিখোঁজ হওয়ার পর তানজিলার পরিবার আমার কাছে অভিযোগ করেছিল তানজিলাকে আওলাদ ডিস্টার্ব করে। সেদিনই আওলাদের মৃত দেহ পাওয়া যায়। প্রশাসন একের পর এক বাহানায় বারবার দেরি করছে। তারা ইচ্ছেকৃত এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করছে না। আওলাদ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে আসামীদের ফাঁসির দাবি জানাই আমি।’

উল্লেখ্য, আওলাদ হোসেন চৌকিদারের লাশ গত ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর(সোমবার) তাদের বসত বাড়ির পশ্চিম দিকে বাগানের ভেতর পাওয়া যায়। এর আগের শুক্রবার থেকে আওলাদ নিখোঁজ ছিল। যখন আওলাদের লাশ পাওয়া যায় তখন তার মাথায় আঘাত, হাতের আঙুল কাটা, চোয়ালে কোপের দাগসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি নিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী দিয়ে শরীয়তপুরের পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। মামলা নং ৩৩১/১৯।

নিহতের মা ও স্মারকলিপি সূত্র থেকে জানা যায়, আওলাদ হত্যার কয়েকদিন পরেই নিহতের পরিবার জানতে পারে তাদের বাড়ির পার্শ্ববর্তী নুর ইসলাম তালুকদারের মেয়ে আওলাদের প্রেমিকা তানজিলাসহ তার পরিবারের সবাই পালাতক। আওলাদের লাশ পাওয়ার ৭/৮ দিন পর অজ্ঞাতনামা আসামী দিয়ে মামলা হয়। এই হত্যাকান্ডের আগে তানজিলার সাথে প্রেম ঘঠিত ব্যাপার নিয়ে নুর ইসলাম তালুকদারের পরিবারের লোকজন আওলাদকে মেরে মৃত ভেবে পার্শ্ববর্তী জেলা মাদারীপুরে ফেলে রেখে আসে। মাদারীপুরের স্থানীয় লোকজন আওলাদকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করার পর পরিচয় সনাক্ত করে আওলাদের পরিবারকে খবর দিলে পরিবারের সহযোগিতায় আওলাদকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়ি ফেরার পর কী ঘটেছিল মাদারীপুরে তা তার মায়ের কাছে বর্ণনা করে বলে, তানজিলার সাথে প্রেমের সম্পর্কের কারণে নুর ইসলাম তালুকদারের আত্মীয় স্বজন আওলাদকে মারধর করে ফেলে রেখেছিল। পালং মডেল থানার ৩৩১/১৯ নং মামলার তদন্তে প্রথমে পিবিআই ফরিদপুরের তদন্তের স্বার্থে জাকির তালুকদারকে পালং মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর পিবিআই তানজিলার কাকা শহীদুল ইসলাম তালুকদারকে গ্রেফতার করে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়।

এর কিছুদিন পরে পিবিআই ফরিদপুর আওলাদ হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন গ্রেফতারকৃতদের দায়মুক্তি দিয়ে আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট প্রেরণ করলে আদালত সিআইডি শরীয়তপুরকে তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করে। সিআইডি ২৮ নভেম্বর ২০২২ তারিখে তানজিলার মামা লিয়াকত সরদারকে গ্রেফতার করে রিমান্ড চাইলে আদালত রিমান্ড না মঞ্জুর করে লিয়াকত সরদারকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। কিন্তু আওলাদের প্রেমিকা তানজিলাকে প্রশাসন কখনো গ্রেফতার করেনি।

এভাবে বছরের পর বছর আওলাদ হত্যাকারীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে যাচ্ছেন নিহতের মা রাজিয়া বেগম।

#


error: Content is protected !!