বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরের স্বর্ণঘোষে সরকারী খাল দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের স্বর্ণঘোষে সরকারী খাল দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুর সদরে স্বর্ণঘোষে শওকত হায়াত এর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারী খাল দখল করার অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা যায়, বি.আর.এস ও এস.এ ১ নং খতিয়ানে যার আর.এস দাগ নং ১৬৯৮ স্বর্ণঘোষ মৌজার ২৫ শতাংশ জমি খাস। যা সরকারী সম্পত্তি। তা স্বত্তেও পাকা পিলার নির্মাণ করে শওকত হায়াত সরকারী খাল দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছেন।
এলাকা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুর জেলা শাখা’র সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েও শওকত হায়াত সরকারী কলেজের পশ্চিম পাশে বয়ে যাওয়া খালটি অবৈধ ভাবে দখল করে নিচ্ছে।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারী খালের পাশে শওকত হায়াতের বাড়ি। যাতায়াতের জন্য খালের উপর ভীম ঢালাই দিয়ে পাকা ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়ির সামনে দেয়াল তুলে সীমানা প্রাচীর করে রেখেছে। আগের সীমানা প্রাচীর থাকা স্বত্তেও নতুন করে আবারও খালের ভেতর মাটি ভরাট করছে। সেই সাথে ভীম ঢালাই দিয়ে নতুন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে। একই কায়দায় বাড়ীর সামনে খাল ভারাট করে পাকাপোক্ত ভাবে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে রেখেছেন।
এব্যাপারে শওকত হায়াত বলেন, আমার সীমানা পর্যন্ত আমি দখলে আছি। সরকারী খালে ঢুকি নেই। ব্রীজ নির্মাণের বিষয় জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আগে অন্য ব্রীজের খবর নেন। তারপর আমার ব্রীজের নিউজ করতে আসেন।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা মানবাধিকার সভাপতি এড মাসুদুর রহমান বলেন, শওকত হায়াত তার নিজ সম্পত্তিরর উপরে ভরাট করছেন সে কোন সরকারি খাল দখল করে নাই, সে আরো ওই খাল যারা দখল করছে তাদের বিরুদ্ধে জনসার্থে চিকন্দী কোর্টে মামলা করছে।
এ বিষয়ে ধানুকা ৮নং ওয়ার্ড কমিশনার আঃ রশিদ বলেন, মেয়র সাহেব অসুস্থ ঢাকায় আছেন। তিনি আসলে সরকারী জায়গা হলে, কাজ বন্ধ করার নোটিশ পাঠাবো।
সদর উপজেলার তহশিলদার শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারী জায়গা যদি দখল করে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসী’র দাবী সরকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খালটি দখলমুক্ত করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেয়ার।
এছাড়াও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঐ সরকারী খাল নিয়ে শওকত হায়াত খাল উদ্ধারের জন্য জনস্বার্থে বাদী হয়ে দেঃ ১৫৯/১৭ মামলা করে নিজেই খাল দখল করছেন।
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র এড. আলী আহমেদ খান জানান, এই শওকত হায়াত ভুয়া সনদে উকিল পরিচয় দিয়ে কিছু দিন কোর্টে মামলা পরিচালনা করলে, আইনজীবী সমিতিতে সনদ দেখাতে না পাড়ায় তাকে বহিস্কার করা হয়। তারপর দীর্ঘ দিন তিনি গা’ঢাকা দিয়ে গোপনে বাড়ি আসেন এবং এনজিও’র কথা বলে সাধারন মানুষের থেকে অনেক অর্থ তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যান। এলাকাবাসী তার এই কর্মকান্ডের বিচার দাবী করেন।


error: Content is protected !!