Thursday 13th June 2024
Thursday 13th June 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

শরীয়তপুরে কলহ পারিবার উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে সমাধান

শরীয়তপুরে কলহ পারিবার উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে সমাধান

“আমরা এখন সবাই সচেতন, আর হবে না নারী ও শিশু নির্যাতন” শ্লোগানকে নিয়ে শরীয়তপুর জেলার পুলিশের উইমেন সাপোর্ট সেন্টার কাজ করছেন।
শরীয়তপুর উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে ৫০৮টি নারী নির্যাতন, পারিবারিক কলহ, যৌন নিপিড়ন ও যৌতুকের বিষয়ে অভিযোগ দেয়া হয়। গেলো ২ বছরে শরীয়তপুরের অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পরিবারকে নিয়ে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ৩৭৮টি পরিবারের সমস্যা সমাধান করতে পেরেছেন। এখন বাকি ১৩০টি অভিযোগ সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বাবার অভাবের সংসার। দুই বেলা দুই মুঠো ভাত যোগার করতে খুব কষ্ট। তাই বাবার সংসারে বোঝা হয়ে না থেকে তিন বেলা খাবার যোগাড়ের আশায় আয়ার কাজ করতেন মানুষের বাসায় বাসায়। গরিব আর সরল সোজা বলে কোন বিয়ের সম্বন্ধও আসে না। বয়সও তিন যুগ পেরিয়েছে। এ কথাগুলো জানালেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর গ্রাম চিকন্দীর কৃষক দলিল মৃধার মেয়ে রুবি বেগম (৩৭)।
রুবি বেগম ও শরীয়তপুর উইমেন সাপোর্ট সেন্টার থেকে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নে অবস্থিত ডগ্রী বাজারের পাশে একটি বাড়িতে আয়ার কাজ করতেন রুবি। কাজ শেষে ডগ্রী বাজার দিয়ে তিনি বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। তখন ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস। ডগ্রী বাজারের একটি বেকারীর শ্রমিক গোসাইরহাট উপজেলার নাগের পাড়া গ্রামের ইদ্রিস সরদারের ছেলে রাসেল সরদারের সাথে রুবির পরিচয় হয়। রাসেল বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রুবির সাথে দিনের পর দিন অবৈধ মেলামেশা করে। অবৈধ মেলামেশার ফলে রুবির পেটে বাচ্চা আসে। তখন রাসেলকে একাধিকবার বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে রুবি। কিন্তু রাসেল বিয়েতে রাজি হয় না। তালবাহানা করে।
ফলে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় রাসেলের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ সুপার অভিযোগটি কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে সমাধানের দায়িত্ব দেন উইমেন সাপোর্ট সেন্টারকে।
উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই রানু আক্তারসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাসেল ও রুবির বিষয়টি সমাধান করেন এবং ওইদিন রাসেল ও রুবির বিয়ে কার্য সুসম্পন্ন হয়। তখন রুবি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিয়ের এক মাস পর ওই বছরই ২৯ অক্টোবর শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রুবি এক কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এসময় প্রসূতি রুবির রক্তের প্রয়োজন হয়। আর রক্ত দান করেন উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের এএসআই আয়সা আক্তার। শুধু তাই নয়, রুবির গর্ভকালিন সময় এবং বিয়েরও সমস্ত অর্থ বহন করেন উইমেন সাপোর্ট সেন্টার।
উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই রানু আক্তার বলেন, “আমরা এখন সবাই সচেতন, আর হবে না নারী ও শিশু নির্যাতন” শ্লোগানকে নিয়েই কাজ করি। তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালের ১১ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শরীয়তপুর উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে ৫০৮টি নারী নির্যাতন, পারিবারিক কলহ, যৌন নিপিড়ন ও যৌতুকের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। আমরা অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পরিবারকে নিয়ে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ৩৭৮ টি অভিযোগ সমাধান করতে পেরেছি। আর বাকি ১৩০টি অভিযোগ সমাধানের চেষ্টা করছি।
শরীয়তপুর উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে ভালো কাজের জন্য গত ২৯ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়াটারে বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ এ্যায়ার্ড অনুষ্ঠানে রানু আক্তারকে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।
ডামুড্যা উপজেলার চরমালগাঁও বালাকান্দি গ্রামের সালমা বেগম বলেন, আমার স্বামী সফিকুল ইসলাম নেশা করত। নেশা করে প্রতিদিন বাড়িতে এসে আমাকে মারধর করত। মারধর সহ্য করতে না পেরে আমি বাবার বাড়ি চলে যাই। পরে স্বামীর বিরুদ্ধে উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে অভিযোগ করি। অভিযোগের ভিত্তিতে উইমেন সাপোর্ট সেন্টারের স্যারেরা আমার স্বামীকে নেশা থেকে ফিরিয়ে আনে। আমাকে আমার স্বামী আর মারধর করে না। আমরা এখন খুব সুখে আছি।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা চাই প্রতিটি পরিবার সুখে শান্তিতে বসবাস করুক। তাই এই উইমেন সাপোর্ট সেন্টার নারী ও শিশুদের সমস্যা সমাধানে কাজ করে। যাতে করে সমাজ থেকে নারী নির্যাতন, পারিবারিক কলহ, যৌন নিপিড়ন ও যৌতুকসহ সমস্ত নির্যাতন বন্ধ হয়।