সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে সাংবাদিককে জীবন নাশের হুমকি, ইউএনও’র বিরুদ্ধে থানায় জিডি

শরীয়তপুরে সাংবাদিককে জীবন নাশের হুমকি, ইউএনও’র বিরুদ্ধে থানায় জিডি

চ্যানেল ২৪ টেলিভিশনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি কাজী নজরুল ইসলামকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হুমকি দেয়ায় শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে শরীয়তপুর পালং মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় পালং মডেল থানায় এ সাধারণ ডায়েরীটি দায়ের করা হয়।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ও গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষনাবেক্ষন টি, আর, কাবিখা, কাবটা ও জি, আর প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছেন ইউএনও জিয়াউর রহমান। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রকল্প বলে খ্যাত “ভিটা আছে ঘর নেই” এমন হতদরিদ্র লোকদের গৃহ নির্মাণ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৫০০ জন দরিদ্র লোককে গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম-নীতি লংঘন করা হচ্ছে মর্মে তথ্য পেয়ে সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহকর্মীরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শণ করেন। এ সময় প্রকল্পের প্রত্যক্ষ ভূক্তভোগী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে অনিয়ম হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথাও জানা যায়। ইউএনও কর্তৃক সম্পাদিত অনিয়ম বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়া হচ্ছে জানতে পেরে ইউএনও জিয়াউর রহমান সাংবাদিক কাজী নজরুলের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহকর্মীদের মারফত নানা ধরনের গালিগালাজসহ তাকে জীবন নাশেরও হুমকি দিতে থাকেন।
গত ২০ জুলাই শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার সময় ইউএনও জিয়াউর রহমান শরীয়তপুর সদর উপজেলা চত্বরে চলমান বৃক্ষ মেলার একটি স্টলে বসে ডিবিসি নিউজ টেলিভিশনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি বিএম ইশ্রাফিলকে ডেকে নিয়ে তার কাছে অযাচিত ভাষায় উচ্চ স্বরে নজরুলকে গালিগালাজ করেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করেন।
এরপর ২১ জুলাই বেলা দেড়টার সময় শরীয়তপুর জেলা শহরের দুবাই প্লাজায় অবস্থিত চিকন্দী ফুড পার্কে একটি জনাকীর্ণ পরিবেশে বিএম ইশ্রাফিলের কাছে পুনরায় উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে কাজী নজরুলকে গালিগালাজ করতে থাকেন ইউএনও জিয়াউর রহমান।
এক পর্যায়ে তিনি বিএম ইশ্রাফিলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সাংবাদিক নজরুলকে আমি গুলি করে মেরে ফেলবো। ওর মত সাংবাদিককে মেরে ফেললে কিছুই যায় আসে না। আমার নাম জিয়াউর রহমান। আমি যা বলি তা করে দেখাই। ওকে আমার অফিসে নিয়ে হাত পা বেঁধে অফিস থেকে লাথি লাথি মারতে মারেতে নিচে ফেলে দিব ইত্যাদি”।
এছাড়াও তিনি নজরুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করার হুমকি দেন।
এ ব্যাপারে ডিবিসি নিউজ টেলিভিশনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি ও বিএমএসএফ’র শরীয়তপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিএম ইশ্রাফিল বলেন, পরপর দুইদিন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান প্রকাশ্যে জনসমুখ্যে আমাকে ডেকে নিয়ে আমাদের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলামকে জীবন নাশের হুমকি দিয়েছেন। তাকে মামলায় জড়ানোর কথা বলেছেন। তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পেটাতে পেটাতে নিচে নামিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, নজরুলকে আমি গুলি করে মেরে ফেলবো। ওর মত সাংবাদিক মেরে ফেললে আমার কিছু হবে না। আমার নাম জিয়াউর রহমান। আমাকে সে চিনেনা। আমি যা বলি তা আমি করে দেখাই। আপনি ওকে বলবেন গুলি করে মরে ফেলবো।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, আমাকে প্রকাশ্যে জীবন নাশের হুমকি দেয়ার বিষয়টি ২১ জুলাই রাত ১০ টার দিকে বিএম ইশ্রাফিলের কাছ থেকে জানতে পারি। এরপর আমি ইউএনও জিয়াউর রহমানকে রাত ১০ টা ৪৪ মিনিটে মুঠোফোনে ফোন করে বিষয়টি জানার চেষ্টা করলে, তিনি আমার পরিচয় জানতে পেরেই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং আমাকে এই বলে হুমকি দেন যে, “ আপনি তো আমাকে চিনেন না, আমার অফিসে আসেন আপনাকে দেখিয়ে দিব আমি কে, আমাকে আর ফোন করলে আপনার গলা কেটে ফেলবো, আপনি একজন অকৃজ্ঞ, আপনি সাংবাদিক নামের কলংঙ্ক, আপনি দুই টাকার সাংবাদিক, আপনি আমার বালের সাংবাদিক, ইত্যাদি”।
বিষয়টি আমি শরীয়তপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মহোদয়কেসহ আমার সহকর্মী ও অফিসের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। সকলের পরামর্শ মতে সোমবার বিকেলে পালং মডেল থানায় আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও ইউএনও জিয়াউর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করি।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি সরকারি কাজ করেইওতো সারতে পারি না । নজরুলকে আবার প্রাণ নাশের হুমকি দেই কিভাবে? সে তো বিভিন্ন সরকারি অফিসে অডিটের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করবো।
শরীয়তপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে বিস্তারিত জানি না। বিষয়টি জেনে বলা যাবে আসলে ঘটনাটি কি?


error: Content is protected !!