সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে মসজিদের জমি নিয়ে আদালতে মামলা

শরীয়তপুরে মসজিদের জমি নিয়ে আদালতে মামলা

শরীয়তপুর পৌরসভার রাজগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের জমি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রচারের দাবীতে আদালতে মামলা দায়ের করেছে মসজিদ কমিটি। যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত জবাব দাখিলের জন্য বিবাদীকে সমন আদেশ দিয়েছেন। বিবাদীর কথিতমতে দলিল ও রেকর্ড অনুযায়ী মসজিদের কোন স্বত্ব নাই।
মামলার আর্জি সূত্রে জানা গেছে, জেলার পালং থানাধীন এসএ ৬৭ নং আড়িগাঁও মৌজার আরএস ও এসএ ৩৩৫ নং দাগের ১৪ শতাংশ জমি রাজগঞ্জ জামে মসজিদের। বিবাদী আমিনুল ইসলাম (মুনির) মসজিদের বাউন্ডারী ওয়ালের ভিতরে প্রবেশ করবে এবং ঘর-দরজা উত্তোলন করবে বলে মসজিদের কার্যকরি কমিটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়ে আসছে। তাই মসজিদের পক্ষে কার্যকরি কমিটির সভাপতি আব্দুছ ছালাম বেপারী, সাধারণ সম্পাদক ছোবাহান তালুকদার, দাতা সদস্য ইউনুছ সরদার ও আলী আকবর শরীফ বাদী হয়ে মসজিদের জমি রক্ষার্থে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে যুগ্ম জেলা প্রথম আদালতে মামলা দায়ের করেছে।
বিবাদী আমিনুল ইসলামের (মুনির) উপস্থাপিত দলিলপত্র সূত্রে জানা গেছে, নালিশী জমির এসএ ও আরএস রেকর্ডীয় মালিক জৈনদ্দিন সরদার, রহিম সরদার ও করিম সরদার ২০০ টাকার বিনিময়ে ১৯৫২ সালে রাজগঞ্জ বাজার কমিটিকে অর্পণনামা দলিল দিয়ে নিস্বর্ত্ববান হয়। একই জমি ১৯৬০ সালে পুনরায় রাজগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের নামে জৈনদ্দিন সরদার, রঞ্জন সরদার ও করিম সরদার দান করে। কিন্তু এসএ পর্চায় রঞ্জন সরদাররে নাম নাই তাই এ জমি সে হস্তান্তর করতে পারে না। ১৯৬৮ সালে একই সম্পত্তি মসজিদ কমিটির পক্ষে জৈনদ্দিন সরদার, রহিম সরদার ও এলাহি বক্স হাওলাদার ৫০৫০ নং দলিল মূলে তুলাসার ইউনিয়ন কাউন্সিলের সমবায় সমিতির নিকট ১১ শতাংশ জমি বিক্রি করে।
বিবাদী আমিনুল ইসলাম (মুনির) বলেন, একই সম্পত্তি ১৯৫২ সালে এসএ রেকর্ডিয় মালিকগণ ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট রাজগঞ্জ বাজার কমিটির কাছে বিক্রি করে। একই দাতাগণ ওই জমি ১৯৬০ সালে মসজিদে দান করে। আবার ১৯৬৮ সালে সমজিদ কমিটির পক্ষে সমবায় সমিতির কাছে জমি বিক্রি করে। এখানে মসজিদের কোন স্বত্ব নাই বা মসজিদের কোন বাউন্ডারী ওয়াল নাই। আমার আব্বা মাওলানা আ. মজিদ খান ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ সনে মৃত আরব আলী শেখের পুত্র মুন্সী আ. খালেক শেখের কাছ থেকে ঘর সহকারে সোয়া শতাংশ জমি ক্রয় করে। উক্ত সম্পত্তি মৃত রঞ্জন সরদারের পুত্র বাজার কমিটির ২২নং সদস্য সোহরাব আলী সরদার প্রথমে বিক্রি করেন। একাধিক হাত বদল হয়ে জমিটি আমার আব্বার কাছে আসে। পরবর্তীতে আমি এসএ রেকর্ডীয় মালিক গেদিজানের ওয়ারিশদের ও সমবায় সমিতর কাছ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করি। আমার আব্বার ক্রয়কৃত সম্পত্তি সহ আমি পৌঁনে ৫ শতাংশ জমির মালিক। উক্ত জমিতে ঘর সহ আমি দখলে আছি। জমিতে ঘর পুনঃনির্মাণ করার জন্য শরীয়তপুর পৌরসভায় আবেদন করিলে ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুছ ছালাম বেপারী ১৬ জুন ২০১৩ তারিখে অনুমতি প্রদান পত্রে স্বাক্ষর করেন। আজ উক্ত ঘর মেরামত করতে গেলে মসজিদ কমিটির পক্ষে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুছ ছালাম বেপারী বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে। আমি মসজিদের জমিতে প্রবেশ করিনি বা মসজিদ কার্যকরি কমিটিকে কোন ভয়ভীতি প্রদর্শণ করিনি। আমার উকিলের মাধ্যমে আদালতে জবাব দিব।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুছ ছালাম বেপারী বলেন, মসজিদের জমি রক্ষার্থে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষে আমরা আদালতে মামলা করেছি। বিবাদীর গ্রহণযোগ্য কোন দলিল থাকলে আদালতে উপস্থাপন করুক। তাহলে আমাদের মামলা খারিজ হয়ে যাবে। একাধিক তারিখ অতিবাহিত হচ্ছে। বিবাদি জবাব দিচ্ছে না কেন।


error: Content is protected !!