শরীয়তপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেওয়া বেশ কিছু বীর নিবাসের বেহালদশা। এতে বিপাকে পড়েছেন ওইসব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, অথচ এখনো শুরু হয়নি অনেক ভবন নির্মাণের কাজ। আবার কিছু ভবনের কাজ শুরু হলেও অর্ধেকটা করে ফেলা রাখা হয়েছে কয়েক মাস ধরে। এছাড়াও কয়েকটা ভবনের কাজ শেষ হলেও আঙুলের ঘষায় খসে পড়ছে রং-পলেস্তারা। এমনই বেহাল। জেলা প্রশাসন খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। শরীয়তপুরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাকা বসতঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ‘বীর নিবাস’ নামের ওই পাকা ঘর নির্মাণের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১৪ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে শরীয়তপুরের ৬ উপজেলায় ৬৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ করে দেওয়া হয়। একই প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে নতুন করে আরও ২২১টি বীর নিবাস বরাদ্দ করা হয়। যার নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় ২০২২ সালের মে/জুন মাসে। ভবনগুলো ৩ মাসের মধ্যে শেষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও ৩০টি বীর নিবাসের নির্মাণ কাজ এখনো শেষ করা হয়নি। নড়িয়ার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. জলিল ফকিরের ঘর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম চুন্নু (ভিপি চুন্নু)। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও আ. জলিল ফকিরের ঘরের স্থানে পৌঁছায়নি একটি ইটও। এরকম কোথাও ঘর তৈরিই হয়নি, কোথাও অর্ধেক করে লাপাত্তা ঠিকাদার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কন্ট্রাক্টর আমার কাছে ৮০ হাজার টাকা চেয়েছে। এটা নাকি ইটের দাম বেড়ে যাওয়ার ভর্তুকি। আমি টাকা দিইনি বলে আমার ঘরের কাজ এখনো শুরু হয়নি। আমার এককথা, এই ঘরের জন্য কাউকে কোনো টাকা-পয়সা দেব না। এতে ঘর হলে হোক, না হলে নেই। এ ব্যাপারে ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম চুন্নু বলেন, আমি ৫টি বীর নিবাস ঘর তৈরির দায়িত্ব পেয়ে তিনটির কাজ শেষ করেছি। বাকি দুটি ঘর আমি করতে চাইনি। প্রশাসন থেকে অনুরোধে করায় নিয়েছি। তবে আমি কারও কাছ থেকে টাকা-পয়সা চাইনি। লোকসান হলেও ঈদের পর ঘর নির্মাণ করে দেব। এ প্রকল্পের আওতায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছত্রমুরিয়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ সরদারের জন্য একটি বীর নিবাসের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঘরটির ছাদ ও দেওয়াল নির্মাণ করার পর কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার বোরহান উদ্দিন। ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় পুরোনো একটি ভাঙা টিনের ঘরে বসবাস করছেন ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, ভূমি জটিলতার কারণে কিছু কিছু ঘরের নির্মাণ কাজ এখনো শুরু করতে পারিনি। সমস্যা সমাধান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করা হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে আমরা সব সময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন, সংস্কার কাজে ত্রুটি থাকলে তা সমাধান করা হবে।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন