সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে বিকাশ প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

শরীয়তপুরে বিকাশ প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

বিকাশ প্রতারক চক্রের সক্রিয় ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।
রোববার দুপুরে প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ওসি তদন্ত মো. হুমায়ুন কবির, ওসি অপারেশন্স আশরাফুল ইসলাম। প্রতারক চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলার বিকাশ এজেন্টে ঘুরে ঘুরে কৌশলে বিকাশ গ্রাহকদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে এবং ফুঁসলিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়।
প্রেস ব্রিফিং থেকে জানা গেছে, গত ৭ আগষ্ট দুপুরে শরীয়তপুর জেলা শহরের নিপুন ক্লিনিকের এক কর্মচারী জাকির হোসেন সদর হাসপাতাল গেইটের জানসেবা ফার্মেসী নামক বিকাশ এজেন্ট থেকে তার বোন মুসলিমার মোবাইল ফোনে ৯ হাজার ১৮০ টাকা পাঠায়। ওই দিনই অজ্ঞাত পরিচয়ের এক লোক মুসলিমার ফোনে কল করে বলে, ভুলে অজ্ঞাত লোকের ৯ হাজার ১০০ টাকা মুসলিমার বিকাশ একাউন্টে চলে গেছে। অজ্ঞাত লোকটি ছাত্র। টাকাটা ফেরৎ দিলে অজ্ঞাত লোকটির উপকার হবে। অজ্ঞাত লোকের কথায় বিশ্বাস করে মুসলিমা ৯ হাজার ১০০ টাকা অজ্ঞাত লোকের দেয়া মোবাইল ফোনে ফেরৎ পাঠায়। পরবর্তীতে মুসলিমার বিকাশ ব্যালেন্স চেক করে দেখেন তার একাউন্টে কোন টাকা নাই। মুসলিমা বিষয়টি জাকির হোসেনকে জানায়। পরবর্তীতে জাকির হোসেন এ বিষয়ে পালং মডেল থানায় অভিযোগ করে।
অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পালং মডেল থানা পুলিশ প্রথমে গোসাইরহাট উপজেলার কামাগ গ্রামের কুদ্দুস সরদারের পুত্র বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্য বিল্লালকে (১৮) গ্রেফতার করে। বিল্লালের কথিত মতে একই উপজেলার বটনা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে বিকাশ প্রতারক চক্রের অপর সদস্য জিতু মিয়াকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়। জিতু ও বিল্লালকে জিজ্ঞাসাবদে ফরিদপুর জেরার মধুখালী থানাস্থ ডুমাইন গ্রামের বাবলু শেখের পুত্র বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্য ইমন শেখকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্য বিল্লাল, জিতু ও ইমন জানায়, গত ঈদুল ফিতরের পর থেকে এ চক্রের সক্রিয় সদস্য হয়েছে। প্রথমে তারা বিকাশ এজেন্টে যায় এবং টাকা পাঠানোর ছলে গোপনে বিকাশ বুকের তালিকার ছবি তোলে। পরবর্তীতে প্রত্যেক গ্রাহককে ফোন করে এবং বলে, ভুলে তার নম্বরে টাকা চলে গেছে। গুরুতর কারণ দেখিয়ে টাকা ফেরত চায়। যারা বিষয়টি বুঝতে না পারে তারা টাকা ফেরৎ পাঠায়।
পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ জন বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৯ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এ বিষয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।


error: Content is protected !!