শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর প্রশাসনকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গে বাল্যবিয়ে

শরীয়তপুর প্রশাসনকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গে বাল্যবিয়ে

শাহাবুদ্দিন হাওলাদার বাল্যবিবাহ করবেনা মর্মে শরীয়তপুর জেলা ও সদর উপজেলা প্রশাসনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে গোপনে স্কুল পড়–য়া অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে বিয়ে করে গতরাতে বাসর করছেন।
এ ঘটনা ঘটিয়েছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার কির্তিনগর গ্রামের সালাম হাওলাদারের ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী শাহাবুদ্দিন হাওলাদার। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ধারণা এমনি ভাবে বাল্যবিবাহ করে পাড় পেয়ে গেলে দেশ বাল্যবিবাহ মুক্ত হবে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহাবুদ্দিন হাওলাদার সিঙ্গাপুর প্রবাসে থাকে। গতমাসে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে ছুটিতে দেশে ফিরেছে সে। বিয়ে করার জন্য মেয়ে খুঁজতে চন্দ্রপুর এএইচপি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দাড়িয়ে থাকত শাহাবুদ্দিন। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় মাহমুদপুর ইউনিয়নের হবিপুর গ্রামের দেলোয়ার শেখের মেয়ে ১২ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী শেফালী ওরফে সুমনাকে বিয়ের জন্য পছন্দ করে শাহাবুদ্দিন। উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিয়ের দিন ধার্য্য করা হয়। চন্দ্রপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী সিদ্দিকুর রহমান বিবাহ রেজিষ্ট্রি করার সম্মতি প্রকাশ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশান, জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ টিম ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাল্যবিবাহ বন্ধে ভূমিকা পালন করে। উভয় পরিবার প্রশাসনকে প্রতিশ্রুতি দেন। মেয়ের বয়স ১৮ পূর্ণ না হতে বিয়ে দিবেন না। প্রশাসনকে প্রতিশ্রুতি দেয়ার ৫ দিনের মাথায় গোপনে ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়ে বাসর ঘরে পাঠিয়েছেন উভয় পরিবার। এটা অবশ্যই প্রতিশ্রুতি খেলাপ ও আইন বিরোধী কার্যক্রম হয়েছে। এর দৃষ্টান্তমূলক আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে এধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। বাংলাদেশ থেকে কোনদিনও বাল্যবিবাহ মুক্ত হবে না। একজন বিবাহিত মেয়ে যখন বিদ্যালয়ে যায় তখন অবিবাহিত অন্যান্য মেয়েরা ওই মেয়ের বিবাহের কাহিনী শুণতে উদগ্রীব থাকে। এতে পড়াশুনায় মনোযোগী মেয়েরাও বিবাহের প্রতি ঝুকতে থাকে। প্রশাসন সভা সেমিনার করে তাদের ফোন নম্বর বিলায়ে বলেন, সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ ও বাল্যবিবাহের সংবাদ পেলে জানাবেন, অনেক জানিয়েছি। এ পর্যন্ত কোন ফল পাইনি।
চন্দ্রপুর এএইচপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খান মেহেদী মিজান বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে গত শুক্রবার জানতে পারি আমার বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছে। আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ টিম নিয়ে মেয়ের বাড়ি যাই। মেয়ের বাবা-মা ও অভিভাবক জানায়, মেয়ে দেখে গেছে। তবে মেয়ের বিয়ের বয়স না হতে বিয়ে দিবে না। আজ আবার সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারি তারা গোপনে মেয়ের বিয়ে দিয়েছে। মেয়ের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ইউএনও স্যারকে বিষয়টি অবগত করেছি।
চন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক মোল্যা বলেন, বাল্যবিয়ের সংবাদ পেয়ে ছেলের পরিবারকে সতর্ক করেছি। তারা গোপনে বাল্যবিবাহ দিয়ে আইন বিরোধী কাজ করেছে।
বিবাহ রেজিষ্ট্রার কাজী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি জেনে কাবিন রেজিষ্ট্রি থেকে বিরত থাকি। পরে শুনতে পাই অন্য কাজীর মাধ্যমে তারা বিয়ে করেছে।
মেয়ের এলাকার মহিলা মেম্বারের স্বামী দলিল উদ্দিন বলেন, বাল্যবিবাহ না দেয়ার জন্য কনের পরিবারকে বলি। তারা আমার প্রতিপক্ষ হওয়ায় আমার কথা গ্রাহ্য করেনি।
সন্তষপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর অবগত করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ টিম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মেয়ের বাড়ি পাঠাই। উভয় পরিবার বিবাহ বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুনঃরায় গোপনে বিবাহ সম্পন্ন করে আইন বিরোধী কাজ করেছে। উভয় পরিবারই অপরাধ করেছে। উভয় পরিবারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


error: Content is protected !!