সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং, ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৮ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
সোমবার, ১লা জুন, ২০২০ ইং

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত শরীয়তপুরের ফারুকের দাফন সম্পন্ন

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত শরীয়তপুরের ফারুকের দাফন সম্পন্ন
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত শরীয়তপুরের ফারুকের দাফন সম্পন্ন

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে ঘোড়ার কবলে পড়ে নিহত ফারুক হাওলাদারের (৩০) মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার জুমআর নামাজের শেষে শরীয়তপুর সদর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ গ্রামের স্বর্ণঘোষ-চরস্বর্ণঘোষ গণকবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নিহত ফারুক শরীয়তপুর সদর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ গ্রামের মৃত আব্দুর ছাত্তার হাওলাদারের ছেলে।
নিহতের বড় ভাই মনির হোসেন হাওলাদার জানান, স্বর্ণঘোষ বয়াতি বাড়ি জামে মসজিদের সামনের সড়কে নামাজের জানাযা শেষে স্বর্ণঘোষ-চরস্বর্ণঘোষ গণ কবরস্থানে ফারুককে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে একটি বিমানে করে ফারুকের মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। পরে ওইদিন রাতেই ঢাকা থেকে ফারুকের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে রওয়ানা হয়। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে শরীয়তপুর সদর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের স্বর্ণঘোষ গ্রামে তার নিজ বাড়ি পৌছায়। এরপর সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। ফারুকের পরিবারের সকলে কান্না করতে করেতে অজ্ঞান হয়ে পরে। সকাল থেকেই ফারুকের মরদেহ দেখতে তার বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবরা। ফারুকের মৃত্যুতে পুরো স্বর্ণঘোষ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, ফারুক সাত বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা যান। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরের গ্রাসিপার্কে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর তার। ফারুক যাওয়ার তিন বছর পর সেই দোকানে তার ছোট ভাই শামীম হাওলাদারকে নিয়ে যান। কেপটাউন শহরেই তারা দুই ভাই থাকতেন। ফারুক ও শামীম দুই ভাই মিলে সেই দোকান চালাতেন।
ফারুক গত ২০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে তার বন্ধুর বাসা পাল্টানোর জন্য মাইক্রো নিয়ে কেপটাউন শহরের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন ওই সড়ক দিয়ে একটি ঘোড়ার গাড়ি যাচ্ছিল। সেখানে অনেকগুলো ঘোড়া ছিল। একটি ঘোড়া ছুটে গিয়ে ফারুকের গাড়ির সামনে ছোটাছুটি করছিল। তখন মাইক্রোবাসটির গতিবেগ বেশি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ফারুক। মাইক্রোবাসটির হেড লাইটের আলো দেখে ঘোড়াটি লাফ দিয়ে মাইক্রোবাসটির ওপরে পড়ে। এতে সামনের গ্লাস ভেঙে ফারুকের মাথার ওপর ঘোড়ার পায়ের খুড় লাগে। তখন ফারুকের মাথা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ফারুকের মৃত্যু হয়। ওই রাতেই শামীম মোবাইলে ফারুকের মৃত্যুর বিষয়টি গ্রামের বাড়িতে জানায়।