বৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৩ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ১১ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে সদর উপজেলার ৪৯৫ পরিবারের মুখে হাঁসি

শরীয়তপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়ে সদর উপজেলার ৪৯৫ পরিবারের মুখে হাঁসি

শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর শৌলা গ্রামের (চিকন্দী ইউনিয়ন) বোরজাহান মুন্সী একজন দিন মজুর। স্ত্রী হাসিয়া বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে। মেয়ে সাবিনা ও সোনিয়াকে বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ আলী অর্থাভাবে লেখাপড়া করতে পারেনি। সে রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে মাঝেমধ্যে দিন মজুরের কাজ করে। অপর মেয়ে পায়েল অষ্টম শ্রেণী ও খাদিজা ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে রোজগার করে কোনরকম দিন আনে দিন খায়। মাথা গোজার ঠাই হিসেবে ছিল দুই চাল বিশিষ্ট টিনের ঘর ও সম্মুখ ভাগে পাটখাড়ির বেড়া বেস্টিত একটা বারান্দা। সন্তানদের নিয়ে পুরাতন জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস ছিল বোরজাহান মুন্সীর পরিবারের। মাঝেমধ্যে মেয়েদের শ্বশুর বাড়ীর মেহমান বেড়াতে আসলে থাকতে দেয়ার উপায় ছিল না তার।
সেই বোরজাহান মুন্সী প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়েছে। বাড়ির উঠোনে নতুন টিনের আঁধাপাঁকা ঘরটির ঝলকানিতে পুরো এলাকায় আলো ছড়িয়েছে। নতুন ঘরের আলোর ঝলক বোরজাহান মুন্সীর স্ত্রী-সন্তানদের মনও আলোকিত হয়েছে। ঘরের সাথে স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট এ যেন বোরজাহান মুন্সী ও তার পরিবারের স্বপ্ন ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি ও আশ্রয়ন প্রকল্পের চলমান প্রক্রিয়া তাদের স্বপ্ন বাস্তব হয়ে উঠোনে স্থান পেয়েছে।
বাড়িতে গিয়ে বোরজাহান মুন্সী ও তার স্ত্রী হাসিয়া বেগমকে পাওয়া যায়নি। তারা তাদের কর্মস্থলে ছিল। তাদের মেয়ে পায়েল ও খাদিজা জানায়, পুরোন ঘরের ভিতর ভাগে তাদের বাবা ও ভাই থাকত। পায়েল ও খাদিজা থাকত মায়ের সাথে বারান্দায়। এখন প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য নতুন ঘরের ব্যবস্থা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে গরীব মানুষেরও প্রধানমন্ত্রী সেক্ষেত্রে তাদের আরো দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন হয়েছে। পায়েল ও খাদিজা প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করেছে।
একই এলাকার ফয়সাল সরদার পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। ছোট সময় তার পিতা এসকান্দার সরদার মারা যায়। সে থেকে চাচা নুর ইসলাম সরদারের ঘরে বসবাস ছিল তার। ফয়সাল বড় হয়ে বিয়ে করেছেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ ৫ সদস্যের পরিবারে ফয়সাল সরদার কর্তা। কর্তার কতৃত্ব পালন করার জন্য ফয়সালের নিজস্ব কোন ঘর ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়ে ফয়সাল এখন ঘরের মালিক। তার রাজত্বে সে এখন রাজা।
ফয়সাল জানায়, প্রধানমন্ত্রী আমাদের মতো গরীব মানুষের জন্য চিন্তা করেন এ ঘর না পেলে বুঝতে পারত না। প্রধানমন্ত্রী গরীব-দুখী মানুষ সহ সকলের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী খেশ হাসিনা যেন আবারও প্রধানমন্ত্রী হতে পারে সেজন্য প্রাণখুলে দোয়া করব।
একই এলাকার সোনিয়া আক্তার একজন গার্মেন্টস কর্মী। তার নিজস্ব কোন জমি ছিল না। তার পিতা দেলোয়ার হোসেন জমি দিয়েছেন। এখন সোনিয়াও আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর একজন গর্বীত ঘরের মালিক। এমনি ভাবে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ৪৯৫টি গৃহহীন পরিবার আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়ে ঘরের গর্বীত মালিক হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বশ্রধা ভালাবাসা জ্ঞাপণ করেছেন তারা।
চিকন্দী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মুন্সী বলেন, আমার ইউনিয়ন থেকে ৭০ জন গৃহহীনের তালিকা দিয়েছি। এবারের বরাদ্দ থেকে ২৩টি ঘর পেয়ে ২৩ জনের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। যাদের জমি আছে ঘর নাই বা ঘর থাকলেও সে ঘর বসবাসের উপযোগী না। তাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর দেয়া হয়েছে। আমার ইউনিয়নে ১০০ ঘর বিতরণ করা গেলে আর কোন লোক গৃহহীন থাকবে না।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, সদর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের গৃহহীনদের মাঝে ৪৯৫টি ঘর বিতরণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ঘর ও টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। কোন প্রকার অনিয়ম এ প্রকল্পকে ছুঁতে পারেনি। গত রোববার ঘরের মালিকদের হাতে ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক আশ্রয়ন প্রকল্প-২ “যার জমি আছে ঘর নেই” প্রকল্প আমার উপজেলায় শতভাগ সফল হয়েছে।


error: Content is protected !!