সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
সোমবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২২ ইং

ভেদরগঞ্জ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ভেদরগঞ্জ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন

শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার ভেদরগঞ্জ হেড কোয়াটার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকার দাবিতে ফেল করিয়ে দেয়া, ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা, ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকাল ৩ টায় মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে প্রতিকার পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ ফি নির্ধারিত করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার ৮৩৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এক হাজার ৭১৫ টাকা। কিন্তু অনেক বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে নানা অজুহাতে বাড়তি ফি আদায় করছে।
ভেদরগঞ্জ হেড কোয়াটার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, আমাদের এবারের এসএসসি ২০১৯ ব্যাচের নির্বাচনী পরীক্ষার আগে সিদ্দুকুর রহমান, নজরুল ইসলাম, রনি খান, মোশারফ হোসেন সহ আরো কিছু সহকারী ও প্রক্সি শিক্ষকরা মিলে আমাদের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে দাবী করে যার মাধ্যমে আমাদের পাশ করিয়ে দিবে বলেও জানায়। কিন্তু এই টাকা দিতে আমরা অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের এবারের নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য করবেন বলে হুমকি দেন। সেই উদ্দেশ্য সাধনের কারনে আমাদের এবারের নির্বাচনী পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য করে দেয়া হয়। অকৃতকার্যদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনার আগের রাতেও টাকা চাওয়া হয় ফোন কলের মাধ্যমে। বিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বর্তমান ও ভবিষ্যতে সুশিক্ষা অর্জনে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে আমাদের ধারনা।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী বলেন, কিছু কিছু শিক্ষক ছাত্রীদের নানামুখি যৌন হয়রানি করে থাকেন যা কেউ মুখফুঁটে বলতে পারছে না।
রনি খান নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, রনি স্যার আমাদের বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী রোজা, নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী জান্নাতের সাথে অশালীন আচরণ করার প্রেক্ষাপটে তাদের বাবা-মা, তাদের পড়াশুনা বন্ধ করে তাদের বিয়ে দিতে বাধ্য হয়। শিক্ষক যদি এমন হয়, তাহলে আমরা ছাত্রীরা শিক্ষকদের কাছে কিভাবে নিরাপদ থাকবো।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রনি খান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। এটা আমাকে ফাসানোর একটি উদ্দেশ্য বলেও তিনি দাবি করেন।
শিক্ষার্থীরা আরো জানিয়েছেন, তাদের বিদ্যালয় সরকারি হওয়ার পরও মাসিক বেতন দিতে হয় ৬০০ টাকা করে।
প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে ফরম-ফিলাপে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয় নাই। ম্যানেজিং কমিটির সিন্ধান্তে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হয়।
জেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শ্যামল চন্দ্র সরমার সাথে মোবইল ফোনে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমি ছুটিতে আছি আগামী দিন কর্মস্থলে এসে বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারবো।


error: Content is protected !!