বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে অপহরনের ৭ দিনেও শাহজালালের সন্ধান মেলেনি

শরীয়তপুরে অপহরনের ৭ দিনেও শাহজালালের সন্ধান মেলেনি

গত ১৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০ টায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চন্দ্রপুর বাজার থেকে বিনোদপুর মৌলভী কান্দি গ্রামের মৃত মতি হাওলাদারের ছেলে শাহজালাল হাওলাদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। খোঁজাখুঁজি করে শাহজালালকে না পেয়ে ১৪ নভেম্বর পালং মডেল থানায় অপহরণ মামলা করে অপহৃত শাহজালালের স্ত্রী মঞ্জিলা বেগম। অপহরনের সাথে জড়িত সন্দেহে নেছার উদ্দিন সরদার ও শাহাদৎ সরদার নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অপহরণের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অপহৃত শাহজালালের কোন সন্ধান পায়নি পুলিশ। পরিবারের ধারণা শাহজালাল হাওলাদারকে অপহরণ পরবর্তী হত্যা করে অপহরণকারীরা লাশ গুম করে ফেলেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, বাজারের ব্যবসায়ী, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজালালের ভগ্নিপতি চন্দ্রপুর বাজারের ব্যবসায়ী নুর হোসেন ফকিরের সাথে আবু বক্কর ফকিরদের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ইতোমধ্যে পক্ষে বিপক্ষে একাধিক মামলা মোকদ্দামও রয়েছে। নুর হোসেন ফকির চন্দ্রপুর বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে নিজে ব্যবসা করছে এবং অন্যান্য দোকান ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আবুবকর ফকির তার লোকজন নিয়ে নুর হোসেন ফকিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময় হামলা ও ভাংচুর করতো। অনেক সময় ভাড়াটে ব্যবসায়ীদের হুমকি দিতো এবং চাদা দাবী করতো। এ নিয়ে গত মাসে উভয় পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষে একাধিক আহত হয়। সেই থেকে ভগ্নিপতি নুর হোসেন ফকিরকে রক্ষার জন্য শাহজালাল হাওলাদার চন্দ্রপুর বাজারে অবস্থিত নুর হোসেন ফকিরের বাড়িতে থাকত। গত ১৩ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে চন্দ্রপুর গ্রামীন ব্যাংক মোড়ে ভান্ডারী খ্যাত মুদী ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে শাহজালাল বসে ছিল। তখন দুইটি মোটর সাইকেল যোগে ৫/৬ জন মুখোশধারী লোক এসে এলোপাথারী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে শাহজালালকে মোটর সাইকেলে করে ধরে নিয়ে যায়। সেই থেকে শাহজালালের আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না পরিবার। প্রতক্ষদর্শী মুদী ব্যবসায়ী ভান্ডারী ও ক্রেতা নান্নু ফকির জানায়, রাত ১০টার পরে দুইটি মোটর সাইকেলে ৫/৬ জন মুখোশধারী লোক এসে বোমা ফুটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টিকরে শাহজালালকে মারপিট করে। আমরা দোকান ভিতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেই। কিছুক্ষণ পরে মোটর সাইকেল চলে যাওয়ার শব্দ পেয়ে দরজা খুলে বাহিরে আসি। তখন শাহজালালকে আর দেখতে পাইনি। অপহৃত শাহজালালের স্ত্রী ও মামলার বাদী মঞ্জিলা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে অপহরণের দায়ে আবুবক্কর ফকির সহ ১১ জনকে আসামী করে মামলা করেছি। পুলিশ নেছার উদ্দিন সরদার ও শাহদৎ সরদার নামে দুই জন আসামী গ্রেফতার করেছে। অপহরনের ১ সপ্তাহ পাড় হয়ে গেছে। পুলিশ এখনও আমার স্বামীর কোন সন্ধান দিতে পারেনি। অপহরণকারীরা তাকে মেরে ফেলছে না বাঁচিয়ে রাখছে তাও জানতে পারছি না। পুলিশের কাছে আমার একটাই দাবী আমার স্বামীকে জীবিত ফেরৎ দিতেহবে। পালং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। ভিকটিমকে উদ্ধার ও ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। খুব শিঘ্রই অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।


error: Content is protected !!