Thursday 30th May 2024
Thursday 30th May 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের অবদানেই শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউট

প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের অবদানেই শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউট

আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সাবেক সদস্য, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ের অন্যতম ছাত্রনেতা, সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক শরীয়তপুরে জন্ম না নিলে শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউট গড়ে উঠা কখনোই সম্ভব হতো না। তার অবদানেই শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউট গড়ে উঠেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের পাশে। আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক পানিসম্পদ মন্ত্রী হওয়ার পর শরীয়তপুরবাসীর শিক্ষার কথা চিন্তা করে তার অবদানেই গড়ে উঠে এই প্রতিষ্ঠানটি।
শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর (ননটেক) বাংলা বিভাগীয় প্রধান ননটেক ও আইপিসিটি সঞ্জিত কুমার মিস্ত্রী জানান, ২০০১ সালের ১৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউট ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তখনকার শিক্ষামন্ত্রী এ.এস.এইচ. সাদেক এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক এমপি। পরে ২০০৫ সালে ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষার জন্য পাঠদান শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটিতে।
সঞ্জিত কুমার মিস্ত্রী জানান, শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটে চারটি ডিপার্টমেন্ট। এগুলো হলো- কম্পিউটার, আইপিসিটি, টিসিটি, ইলেকট্রনিক্স। বর্তমানে চারটি ডিপার্টমেন্টে ১ হাজার ২৭৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের জন্য ২৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। আর কর্মচারি আছেন ১৮ জন। শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটটি গড়ে উঠেছে দুই দশমিক শূন্য দুই একর জমির ভিতর। এখানে অধ্যক্ষ ভবনসহ তিনটি একাডেমিক ভবন রয়েছে, কর্মচারি কোয়াটার একটি, প্রশাসনিক ভবন একটি আছে। রয়েছে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, মোবাইল গেইমস ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, রয়েছে বিশাল ফুলের বাগান।
সঞ্জিত কুমার মিস্ত্রী আরও জানান, কম্পিউটার, আইপিসিটি, টিসিটি, ইলেক্ট্রনিক্স প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট চার বছরের কোর্চ। শরীয়তপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল জেলাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা এখানে চার বছর কোর্চে ভর্তি হয়ে পাঠ দান করছে। এখান থেকে কোর্চ শেষ করে বাংলাদেশের ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করে, দেশের ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।
তিনি বলেন, শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটের পাশেই রয়েছে খাবারের হোটেল। রয়েছে শিক্ষার্থীদের থাকার বেশ কয়েকটি আবাসিক-অনাবাসিক হল। সেখানে নিরাপদে শিক্ষার্থীরা থাকতে পারেন।
শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ছাত্র (ইলেকট্রনিক্স) শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা গ্রামের ফারহাদ মিয়া বলেন, আমি এই ইনস্টিটিউট থেকে চার বছরের কোর্চে ইলেকট্রনিক্স বিভাগ থেকে পাশ করেছি। পরে ইনস্টিট্রেউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার (আইইডি) পিএসসি ডিগ্রী লাভ করি। এখন শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর ইলেকট্রনিক্স বিভাগে শিক্ষাকতা করছি।
ফারহাদ মিয়া বলেন, আমাদের প্রাক্টিক্যাল বেশি ছিল। আমি যখন এই এই ইনস্টিটিউটে পড়তাম তখন প্রতিটি শিক্ষক আমাদের খুব সুন্দর ও যতœ করে হাতে কলমে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। আমি শিক্ষক হিসেবে চেষ্টা করি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সেইভাবে শিক্ষাতে।
শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউট প্রাক্তন ছাত্র (কম্পিউটার) শরীয়তপুর পৌরসভার স্বর্ণঘোষ গ্রামের মো. এমদাদ মাঝি বলেন, শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটে আমি পড়াশুনা করেছি। প্রতিটি শিক্ষকের কাছ থেকে ভালো গাইড পেয়েছি। তাই আজ আমি প্রতিষ্ঠিত।
শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউট কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষার্থী ইশরাত খান নবান্ন, মারিয়া ইসলাম বন্যা, রুমান সরকারসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলে, এই ইনস্টিটিউটে অধ্যক্ষ স্যারসহ সকল শিক্ষকরা খুই ভালো। তারা আমাদের সাথে ফ্রেন্ডলি আচরন করেন। তাই আমাদের পড়াশুনার আগ্রহ খুবই ভালো।
শরীয়তপুর পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান তালুকদার বলেন, কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রচার, প্রসার ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সহযোগীতা করা। রাষ্ট্রের নিয়মানুযায়ী দক্ষ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার তৈরী করে দেশ-বিদেশে চাকুরি প্রাপ্তিতে সহযোগীতা করে দেশের অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করাই আমাদের কাজ।
অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান তালুকদার আরও বলেন, চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষাক্রমে নিয়মানুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ও বাকাশিবোর কারিকুলাম অনুযায়ী তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং এর মাধ্যমে দক্ষ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার তৈরী ও তাদের কর্মসংস্থানের সহযোগীতা করাই এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য।