মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর সদরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলা, আহত দুই গৃহবধু

শরীয়তপুর সদরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলা, আহত দুই গৃহবধু

শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মাহমুদপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই গৃহবধূকে বাঁশ ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। দুই নারীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা এখনো ভর্তি আছেন। গত ৩০ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সকাল ৯ টার দিকে পশ্চিম মাহমুদপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় গত ৪ ডিসেম্বর শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা করা হয়।
আহতরা হলেন- উপজেলার পশ্চিম মাহমুদপুর গ্রামের আহাম্মদ সরদারের স্ত্রী ময়না বেগম ও মিজানুর রহমানের স্ত্রী নাছিমা বেগম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১০নং মাহমুদপুর মৌজার আর.এস. ও এস.এ ৬৫৫নং দাগে ১২ শতাংশ জমি মামলার বাদী মলিনা বেগমের পিতা আহাম্মদ সরদারের। কিন্তু সেই জমির উপর নজর পরে একই এলাকার প্রভাবশালী লিটন সরদার, খোকন খাঁ গংদের। গত ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে সাবল, বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও কোদাল নিয়ে লিটন সরদার (৩৮), খোকন খাঁ (৪৫), আশরাফ ঢালী (২৩), রুহুল আমিন (৫০), আন্না বেগম (৪০) আহাম্মদ সরদারের বাড়িতে ঢুকে জোর পূর্বক ঘর উত্তোলন করতে যায়। তখন ঘর উত্তোলনে বাঁধা দিলে লিটন সরদার, খোকন খাঁ গংরা ময়না বেগম ও নাছিমা বেগমকে রড ও বাঁশ দিয়ে এলোপাথারীভাবে পিটাতে থাকে। তখন ময়না ও নাছিমা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কিবরিয়া সরদার, মকবুল আকন, মজিবর সরদার বলেন, ওই ১২ শতাংশ জমি আহাম্মদ সরদারের। কিন্তু লিটন সরদার, খোকন খাঁগংরা সেই জমি জোর পূর্বক দখল করতে যায়। বাঁধা দিলে ময়না বেগম ও নাছিমা বেগমকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এটা অন্যায়, এর বিচার হওয়া উচিৎ।
আহাম্মদ সরদারের স্ত্রী আহত ময়না বেগম বলেন, লিটন সরদার, খোকন খাঁগংরা প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি দখল করতে চায়। আমি বলি জমি আমার স্বামীর, বলার সাথে সাথে আমাকে এলোপাথারীভাবে রড ও বাঁশ দিয়ে পিটাতে থাকেন।
আহাম্মদ সরদার বলেন, ১২ শতাংশ জমি আমার। সব কাগজপত্র আমার নামে। তবুও জমি দখল করতে চায় ওরা। বাঁধা দিলে আমাদের দুইজনকে মারধর করে আহত করে। আমরা মামলা করেছি, তাই আমাদের মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে লিটন সরদার, খোকন খাঁগংরা। এই হামলার আইনানুক বিচার দাবী করছি।
পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই ব্যাপারে কোন লোকজন অভিযোগ করতে থানায় আসেননি। তবুও ব্যাপারটি আমি দেখছি।


error: Content is protected !!