মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
মঙ্গলবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

শিক্ষকরা হচ্ছেন শিশুর দ্বিতীয় মা-বাবা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

শিক্ষকরা হচ্ছেন শিশুর দ্বিতীয় মা-বাবা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হচ্ছেন শিশুর দ্বিতীয় মা-বাবা। একজন মা তার শিশুটিকে মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য সর্বপ্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে নিয়ে আসেন। শিক্ষকরাই পারেন একটি জাতিকে শিক্ষিত, উন্নত করে গড়ে তুলতে, আবার একটি জাতিকে ধ্বংস করে দিতে। জাতি গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক।
শুক্রবার (১৮ জানুয়ারী) বেলা ১১টায় শরীয়তপুর সার্কিট হাউসে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন, ‘দেশের উন্নয়ন যদি দেখতে চাও তাহলে শ্রেনীকক্ষ দেখো। শ্রেনীকক্ষেই লুকিয়ে আছে দেশের উন্নয়ন’। আমরা যতই উন্নত জাতির কথা বলিনা কেন যদি আমাদের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নত না হয় তাহলে আমরা উন্নত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো না। জাতির ভিত শক্তিশালী করে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মনে দুঃখ ব্যাথা বেদনা নিয়ে কাজ করা যায়না। কষ্ট নিয়ে কোথাও কোনদিন সফলতা লাভ করা যায়না। শিক্ষকদের মনে যাতে কষ্ট না থাকে, অফিসারদের মনে কষ্ট না থাকে সে ব্যবস্থা করা হবে। তাইলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।
তিনি বলেন, বিল্ডিং এর ভিত শক্ত না হলে ওই বিল্ডিং টিকতে পারেনা। তেমনি প্রাথমিক শিক্ষার ভিত যদি শক্ত না হয় তাহলে ওই জাতিও টিকবে না। সকলে মিলে প্রাথমিক শিক্ষাকে ঢেলে সাজিয়ে কিভাবে সুন্দর করা যায় আমরা সেই কাজটিই করবো। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে জাতির একটি শ্রেষ্ঠ জায়গায় দায়িত্ব দিয়েছেন, যেখান থেকে জাতি গড়ে উঠে। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো সেই গুরুদায়িত্ব পালন করতে।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষকদেরও অনেক অপবাদ আছে। তারা ছেলে মেয়েদের সরকারী স্কুলে পড়ান না, প্রক্সি টিচার দিয়ে ক্লাশ চালান, সঠিক সময়ে স্কুলে যান না, সঠিক সময় পর্যন্ত স্কুলে থাকেন না। এগুলো ত্যাগ করতে হবে। শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা, শিক্ষকদের বিশাল বড় সম্মান, এই সম্মান ধরে রাখতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, কাজ করতে না পারায় বিশ^ ব্যাংকের ৪শ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে, এটা দুঃখের। আমাদের প্রকৌশল অধিদপ্তর নাই। কাজ তদারকি করার লোকবল নাই। এলজিইডিকে দায়িত্ব দেয়া হয়, তারা দায়সারা কাজ করে। দুইদিন পর ভবন ধ্বসে দূর্ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে নি¤œ মানের কাজগুলো করা হয় প্রাথমিকে। চারতলা ফাউন্ডেশন দেয়া হয় কিন্তু চারতলার কাজ করা হয় না।
জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, শরীয়তপুর পিটিআই’র সুপারিনটেনডেন্ট মো. আফজাল হোসেন, ডামুড্যা উপজেলা ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর ফয়জুল কবির, শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হামিদুল হক, জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম, নড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি মিজানুর রহমান ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল হক সুজন।


error: Content is protected !!