শনিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২২ ইং, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২রা জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসব

শরীয়তপুরে পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসব

শরীয়তপুরে পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারী) দিনব্যাপী জেলা শহরের এসডিএস একাডেমী প্রাঙ্গনে এই পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (এসডিএস) পরিচালক (প্রোগ্রাম) রাবেয়া বেগমের সভাপতিত্বে পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন এসডিএস একাডেমীর অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিরাজুল হক, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিঃ দায়িত্ব) সরল বড়–য়া ও শরীয়তপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসুচির আওতায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) এই পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মো. কামাল হোসেন বলেন, পিঠা বানানো এবং পিঠা খাওয়া বাঙালীর ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির অংশ। এক সময় শীতের সময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে পিঠা তৈরী ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যেতো। কালের বিবর্তনে আজ আমরা আমাদের অধিকাংশ সংস্কৃতি থেকে দিনদিন দূরে সরে যাচ্ছি। আগের মতো আমরা এখন আর পিঠা বানানো এবং খাওয়ার সুযোগ পাইনা। ইচ্ছা থাকলেও পিঠা বানানোর উপকরণ খাটি খেজুর রস ও খেজুর গুড় পাইনা। পেলেও সিমিত এবং অধিকাংশই ভেজাল। পিঠার পরিবর্তে এখন আমাদের ছেলেমেয়েরা ফাস্টফুডের দিকে ঝুকে পড়ছে। এর কারনে শিশুরা মোটা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের কোন বিকল্প নেই।
রাবেয়া বেগম বলেন, এক সময় বাংলাদেশের মানুষের শিতের সময়ে সকালের প্রধান খাবার ছিলো খেজুর রসের তৈরী নাস্তা। এ ছাড়া খেজুরের কাঁচা রস গেলাস ভরে খাওয়া, গরম রস মুড়ি দিয়ে খাওয়া, বস জ¦াল দিয়ে গুড় বানিয়ে খাওয়া এগুলো ছিলো আমাদের ঐতিহ্য। সব জায়গা থেকেই আমাদের ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আগের মতো মায়েদের বেশি সুযোগ না থাকলেও তারা যে বাড়িতে একেবারেই পিঠা বানাতে চান না এমনটি নয়। আসলে পিঠা বানানো বা পিঠা খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও এখন আর আগের মতো টাকা দিয়েও এক হাড়ি খাটি খেজুর রস বা গুড় পাওয়া যায়না। আর এটা না পাওয়ার কারণ হচ্ছে আমাদের দেশ থেকে দিন দিন খেজুর গাছ কমে গেছে। আবার খেজুর গাছ যা আছে তাও কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে ইচ্ছা থাকলেও আমরা আগের মতো পিঠা বানানো বা খেতে পারছিনা। আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য প্রতিবছর এসডিএস পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করে থাকে।
মেলায় ১৮জন নারী ৯টি স্টলের মাধ্যমে পিঠা উৎসব প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তারা নিজেদের তৈরী গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন পিঠা মেলায় উপস্থাপন করেন। এছাড়া স্থানীয় শিল্পীরা মেলায় নাচ গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন দেন। চারটি ক্যাটাগরিতে বিচারকদের বিচারে পিঠা উৎসবে প্রথম হন খাদিজা খানম অন্তরা, দ্বিতীয় নাসিমা ও তৃতীয় সামিনাইয়াসমিন। পরে তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।


error: Content is protected !!