শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং

মাছ লাগবে না “মরিচ দিয়ে ভাত খাবো”

মাছ লাগবে না “মরিচ দিয়ে ভাত খাবো”

পাপড়াইল, পম মীর্জাপুর ও আর্জিপম গ্রামবাসী ফসলি জমি রক্ষার্থে বুধবার দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মানববন্ধনে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন। মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দাবী জানিয়েছে, “ভাত থাকলে প্রয়োজনে মরিচ দিয়ে খাবো, আমাদের মাছ চাষের দরকার নাই। ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে কোন প্রকার জলাশয় বা ফসলি জমির শ্রেণী পরিবর্তণ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে।
মানবন্ধন থেকে কৃষক গাজী মোহাম্মদ হোসেন, মজিবুল হক ঢালী, দুলাল মৃধা, রাজ্জাক সরদার, মালেক বেপারী, ব্লক ম্যানেজার হামিদ ছৈয়াল, কৃষাণী রাশিদা, বিলকিছ আক্তার, কানিজ ফাতেমা, জো¯œা রাণী সহ প্রায় ৩ শতাধিক এলাকাবাসী জানায়, প্রায় ১৫০ একর জমির নিয়ে পাপড়াইল, পম মীর্জাপুর ও আর্জিপম গ্রামবাসীর ফসলী জমি। এ জমিতে চাষাবাদ করে আমাদের সংসার চলে। আমাদের খাবার সহ গৃহপালিত পশু-পাখির খাবারের বন্দবস্ত হয় এ জমি থেকে। মহিষার এলাকার মইনুল মোড়ল ও রাসেল হাওলাদার এ ফসলি জমিতে মাছ চাষের ঘেওর করার জন্য পায়তারা করতেছিল। টের পেয়ে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভূমি অফিসার, কৃষি অফিসার ও ভেদরগঞ্জ থানার ওসি বরাবর আবেদন করি। প্রশাসনের সহায়তায় আমরা জমিতে বোরো আবাদের জন্য পানি শেচের ব্যবস্থাও করি। গত মঙ্গলবার রাতে মইনুল মোড়ল ও রাসেল হাওলাদার ১৫ থেকে ২০টি মোটর সাইকেল যোগে লোক নিয়ে এসে ম্যানেজারকে হুমকি দেয়। রাতের আঁধারে ভ্যাকু দিয়ে ফসলি জমি কেটে পুকুরের মতো করে ফসলি জমির শ্রেণী পরিবর্তণ করে। আমরা কৃষক। আমাদের ঘরে ধান থাকলে ছেলে মেয়েদের নিয়ে মরিচ দিয়ে ভাত খাবো। আমাদের মাছের চাষ লাগবে না। মইনুল মোড়ল ও রাসেল হাওলাদারের হাত থেকে আমাদের ফসলি জমি রক্ষার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে মইনুল মোড়ল বলে, আমরা জমির মালিকদের অনুমতি নিয়ে কাজ করছি। আমরা কোন অন্যায় করছি না। একটা কুচক্রীমহল আমাদের ক্ষতি সাধনের জন্য কতিপয় কৃষককে উসকানি দিয়ে এ মানববন্ধন করাচ্ছে।
ছয়গাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মামুন মীর বলেন, এলাকাবাসী বিষয়টি আমাকে অবগত করে। কোন সমাধান খুঁজে না পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের স্মরনাপন্ন হওয়ার জন্য এলাকাবাসীকে বলেছি।
ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে বলে, এলাকাবাসীর আবেদনে ঘটনাস্থলে এসেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাব্বির আহমেদ বলেন, কৃষকদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেকু মেশিনের চালককে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফসলি জমি ও জলাশয়ের শ্রেণী পরিবর্তনের কোন সুযোগ নাই। কেউ যদি জমির শ্রেণী পরিবর্তণ করার চেষ্টাও করে তাহলে আইনী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।


error: Content is protected !!