শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং, ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২১শে মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ১৯শে আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বাল্যবিবাহ নিরোধে অভূতপূর্ব সাফল্য

শরীয়তপুর জেলায় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বাল্যবিবাহ নিরোধে অভূতপূর্ব সাফল্য

ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখ ২০১৯খ্রি., শীতের তীব্রতা ভেদ করে বসন্ত প্রায় আগত। বন্ধুদের সাথে প্রাণোচ্ছ্বল শিশু শম্পা। সে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বয়স ১১ বছর। বইয়ের কবিতার লাইনের সাথে তার স্বপ্নগাঁথা-‘‘থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে, দেখবো এবার জগৎটাকে।’’ হঠাৎ বিভিষীকার মতো একটা সংবাদ আড়ষ্ট করে তার স্বপ্নের পৃথিবীকে। সংবাদটা হলো তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে পাশের গ্রামের দোকানের কর্মচারী আরেক শিশু মোতালেব কাজী (১২) এর সাথে। দিশেহারা হয়ে পড়ে সে। দরিদ্র পরিবারে মেয়ে হয়ে জন্মানোর অভিশাপ সে তিলে তিলে অনুভব করে। কোন লৌকিক বা অলৌকিক সহায়তার কথা ভাবতে পারে না ছোট এই শিশুটি। নির্ধারিত দিন-ক্ষণে বিয়ের সব প্রস্তুতি গোপনে সম্পন্ন করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ টিমের এক সদস্যের মাধ্যমে সংবাদটি পৌঁছে যায় জেলা প্রশাসক ও অতঃপর শরীয়তপুর সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ মাহাবুর রহমান শেখের কাছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ উপস্থিত হয়ে বন্ধ করেন বাল্যবিবাহ। শম্পা জানায়, সে বিয়ে করতে চায়না, পড়ালেখা করে স্বনির্ভর মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করতে চায়। জেলা প্রশাসক জনাব কাজী আবু তাহের এর নেতৃত্বে এভাবে জেলা প্রশাসনের তৎপরতায় ও কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে জেলার প্রতিটি উপজেলায় বাল্যবিবাহ নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়। সমাজের সকল স্তরে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও জাতীয় দিবসে বাল্যবিবাহ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে একজন উৎসাহী ও সক্রিয় শিক্ষকের নেতৃত্বে ছাত্র-ছাত্রীদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ টিম। মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতগণ বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহে নিয়মিত আলোচনা করেন। আইনজীবি, নোটারী পাবলিক, ঘটক, কাজীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে সভা সেমিনার করে বাল্যবিবাহ নির্মুলে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুসরণপূর্বক একযোগে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এভাবে সমাজের সকল স্তরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বাল্যবিবাহ নিরোধের মন্ত্র। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে যে, মেয়েরা বোঝা নয়; সুশিক্ষিত মেয়ে দক্ষ মানবসম্পদ। এভাবে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ও জেলা প্রশাসনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বাল্যবিবাহ নিরোধে শরীয়তপুর জেলা হয়ে উঠেছে এক রোল মডেল।


error: Content is protected !!