Sunday 21st July 2024
Sunday 21st July 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

দীর্ঘদিন পর কিছুটা পরিবর্তন এসেছে শরীয়তপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে

দীর্ঘদিন পর কিছুটা পরিবর্তন এসেছে শরীয়তপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে

শরীয়তপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিল শিল্পকলা ভবনের সংস্কার এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলার সাংবাদিকগণ ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট এবং অনলাইন মিডিয়ায় শিল্পকলার দুরবস্থা নিয়ে অনেক নিউজ করেছিলেন। তাছাড়া শরীয়তপুরের সংস্কৃতি কর্মীগণও এ দাবীতে সোচ্ছার ছিলেন। এমনকি শরীয়তপুর এক আসনের সংসদ সদস্য জনাব ইকবাল হোসেন অপু প্রথম সংসদ অধিবেশনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কমপ্লেক্স এর কথা তুলে ধরেন। এতেই বুঝা যায় এ সময়ের শরীয়তপুর জেলা শহরের প্রধান সমস্যা ছিল শিল্পকলার একাডেমির সমস্যা। অবশেষে শরীয়তপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর একাডেমিক ভবনের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর ২০১৮ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সময় মত নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জরুরী অবস্থা মোকাবেলায় ৩ মাসের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়।
সেই কমিটিতে পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের আহবায়ক, সহকারী কমিশনার মোঃ বেলাল হোসেন সদস্য সচিব, প্রফেসর মোঃ মনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার এবং এ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সীকে সদস্য করা হয়।
কিন্তু জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উন্নয়ন কাজে এ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। তিনি এডহক কমিটিতে ঢোকার পর মিটিংয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সংস্কারের জন্য তাৎক্ষণিক ভাবে ২ টন টি.আর অর্থাৎ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। শুরু হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সংস্কার কাজ। কিন্তু এতো কম টাকায় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বিধায় এ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সী তার নিজ পকেট থেকে আরও ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। শেষ হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সংস্কার কাজ। সেই সাথে বোনাস হিসেবে পাওয়া যায় শিল্পকলায় ঢোকার রাস্তাটি। যা সকলের মনকে আন্দলিত করেছে।
এ ব্যাপারে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সী’র সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আমি মনে প্রাণে একজন শিল্পী, আমি দায়িত্বটিকে দায়িত্ব হিসেবেই নিয়েছি। তাই সরকারী অনুদানের পাশাপাশি ব্যাক্তিগত অনুদানকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছি। আমি আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করেছি জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সংস্কার করার।
আমি সারাক্ষণ উপস্থিত থেকে জেলা শিল্পকলা একডেমির বারান্দার সকল টিন পরিবর্তন করে রঙ্গিন টিন লাগানোর ব্যবস্থা করেছি। বর্ষার সময় শিল্পকলা একডেমীতে ঢোকা যেতো না। এখন প্রধান সড়ক থেকে শিল্পকলা একাডেমী ভবনে যাতায়াতের জন্য একটি পাঁকা রাস্তা করে দেয়া হয়েছে। যাতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে। শিল্পের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে সব কিছু করা সম্ভব। আমি শিল্পকলার জন্য এতটুকু করে নিজেকে ধন্য মনে করছি। পাশাপাশি আমি আরো ধন্যবাদ জানাই সেই সকল সাংবাদিক ভাইদের যারা শিল্পকলা একাডেমির দূরবস্থার কথা বার বার তুলে ধরেছেন। আরো ধন্যবাদ জানাই জেলা প্রশাসককে যিনি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। তাছাড়া শিল্পকলার বর্তমান কমিটি শিল্পকলাকে আরো সামনের দিকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে এবং বর্তমান এমপি ইকবাল হোসেন অপু সাহেবের সু-দৃষ্টিতে শিল্পকলা একাডেমীর সামগ্রীক পরিবর্তন আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং খুব শীঘ্রই শিল্পকলা একডেমির সাংস্কৃতিক কমকান্ডে প্রতিদিন পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।