শুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ ইং, ২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শুক্রবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ ইং

ভেদরগঞ্জের সখিপুরে বিধবাকে মারধর ও ঘরে লুটপাটের অভিযোগ

ভেদরগঞ্জের সখিপুরে বিধবাকে মারধর ও ঘরে লুটপাটের অভিযোগ

শরীয়তপুরের সখিপুরে স্থানীয় আক্তার মাদবরের নেতৃত্বে বিধবা ফাতেমা আক্তার (৩৮) ও তার দুই সন্তানকে মারধর ও ঘরে লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত ফাতেমা বেগম ও শিশু সন্তান জিহাদ কে ভেদরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সখিপুর থানায় আক্তার মাদবরকে প্রধান আসামী করে অভিযোগ করেছে আহতের মেয়ে কনিকা।
আহত ফাতেমা আক্তার, জিহাদ, কনিকা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সখিপুর থানার চরসেনসাস ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার ছিল বাবুল মাদবর। গত ডিসেম্বর মাসে হঠাৎ বাবুল মাদবরের মৃত্যু হয়। সেই থেকে আক্তার মাদবর বিভিন্ন ভাবে বাবুল মাদবরের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। কয়েকদিন পূর্বে বাবুল মাদবরের সৎ মা ও ভাইদের সাথে জায়গা জমি নিয়ে বাবুল মাদবরের স্ত্রীর একটা বিবাদ সৃষ্টি করে আক্তার মাদবর। সেই বিবাদের জের ধরে ১৫ এপ্রিল বাবুল মাদবরের সৎ ভাই আমিনুল মাদবর, সৎ বোন স্বর্ণা ও সৎ মা ফারুক বেগম বাবুল মাদবরের স্ত্রী ও সন্তানদের মারধর করে। বাবুল মাদবরের মেয়ে বিষয়টি সখিপুর থানায় জানায়। থানা কর্তৃপক্ষ গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাবুল মাদবরের বাড়িতে গিয়ে দেখার কথা বলে। থানা থেকে পুলিশ আসার সংবাদ পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আক্তার মাদবরের নেতৃত্বে আমিনুল মাদবর, স্বর্ণা ও ফারুক বেগম লোহার রড ও কাঠের রুয়া নিয়ে বাবুল মাদবরের ঘরে ঢুকে বাবুল মাদবরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, মেয়ে কনিকা ও শিশু ছেলে জিহাদকে মারধর করে জখম করে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ৭০ হাজার টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনা পরবর্তী সখিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত আক্তার মাদবরকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ আসার সংবাদ পেয়ে অন্যান্য অভিযুক্তরা বসত ঘরে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাবুল মাদবরের মেয়ে কনিকা বাদী হয়ে থানায় এক অভিযোগ দায়ের করেছে।
হাসপাতালের বেড থেকে আহত ফাতেমা বেগম বলেন, আমার স্বামী মেম্বার ছিল। তখন সেই সমাজের মুরব্বি ছিল। ৪ মাস যাবৎ আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এখনও সমাজের মানুষ আমার কাছে আসে। আমি তাদের সহায়তা ও সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তা দেখে আক্তার মাদবরের ভালো লাগে না। তাই আমার সৎ শ্বাশুড়ি ও সৎ দেবর ননদদের আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে। তারা কারনে অকারনে আমাকে ও আমার এতিম সন্তানদের মারধর করে। গতকালও আমার ঘরের ভিটির জন্য মাটি কাটতে বাধা দেয়। সেখানেও আমার ছেলে মেয়েদের মারধর করে। বিষয়টি আমরা থানায় জানাই। আজ সকাল ১০টায় পুলিশ আশার কথা ছিল। পুলিশ আসার পূর্বেই সকাল ৯টায় বাবুল মাদবরের নেতৃত্বে আমিনুল, স্বর্ণা ও ফারুক বেগম আমাদের ঘরে ঢুকে লোহার রড ও কাঠের রুয়া দিয়ে পিটিয়ে জখম করে।
সংরক্ষিত মেম্বার জায়দা বেগম বলেন, মেম্বার বাবুল মাদবরের স্ত্রী ফাতেমা গতকাল আমার কাছে এসে জানায় আজ পুলিশ আসবে আমাকে সেখানে থাকতে হবে। পুলিশ আসার পূর্বেই প্রতিপক্ষ তাদের মারধর করে জখম করেছে।
ঘটনার পর থেকে পুলিশ আক্তার মাদবরকে থানায় নিয়ে যায়। অপর অভিযুক্ত আমিনুল, স্বর্ণা ও ফারুক বেগমের বাড়িতে গিয়ে তাদের বসত ঘরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। তাই তাদের বক্তব্য দেয়া গেল না।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারামারি হয়েছে। ঘটনা পরবর্তী পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে অভিযোগ পেলে মামলা নেয়া হবে।


error: Content is protected !!